BdNewsEveryDay.com
Wednesday, December 19, 2018

‘দলীয় ছত্রছায়ায় থেকে সুবিচার পাবেন না সাংবাদিকরা’

Friday, August 10, 2018 - 838 hours ago

সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সহকর্মীরা।

‘আমরা সংবাদকর্মী’ ব্যানারে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর পারভেজ খান, দীপ্ত টিভির বিশেষ প্রতিনিধি বায়েজিদ আহমেদ, বাংলাভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার এস এম ফয়েজ, মাছরাঙা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার জাহেদ সেলিম, প্রথম আলোর ফটোগ্রাফার সাজিদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অষ্টম দিনে গত ৫ অগাস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধানমণ্ডিতে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত দফায় দফায় এই সংঘর্ষ চলার মধ্যে হেলমেট পরা একদল যুবক লাঠি ও কিরিচ নিয়ে হামলা চালায় কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উপর।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর পারভেজ খান বলেন, “আমরা সব সময়ই চাই সাংবাদিকদের ওপর হামলার সুনির্দিষ্ট একটা বিচার হোক। আজ পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনার কোনো বিচার আমরা পাইনি। এসব ঘটনা অনেক সময় আপস বা দুঃখ প্রকাশ এসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। বিচার না হওয়ার কারণে আজ এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।”

তিনি বলেন, “যারা হামলাকারী, তারা পুলিশ নাকি কোনো দলীয় সংগঠনের কর্মী সেটা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। আমি মনে করি যারা আমাদের ওপর হামলা করেছে, আমাদের পেশাগত কাজে বাধা দিয়েছে, তাদের দলীয় পরিচয় যাই হোক না কেন, তাদেরকে দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসী হিসেবে দেখা হোক।”

সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ না হয়ে দলীয় ছত্রছায়ায় থাকলে সুবিচার পাবেন না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

“যতক্ষণ পর্যন্ত সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ না হবে কিংবা কোনো দলীয় ছত্রছায়ায় থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা কোনোভাবেই সুবিচার পাব বলে আশা করতে পারি না।”

দীপ্ত টিভির বিশেষ প্রতিনিধি বায়েজিদ আহমেদ বলেন, “সরকারের ভাষায়, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, উস্কানি দিয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

“পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীরা যেভাবে নির্যাতিত, নিষ্পেষিত হয়েছে সন্ত্রাসী এবং দুর্বৃত্তদের দ্বারা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে আবেদন করছি সেই সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা হোক। কারণ হামলার সপ্তাহখানেক পার হয়ে গেলেও এখনও তাদের চিহ্নিত করা হয়নি।”  

তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং গোয়েন্দা সংস্থার সবাই জানে এই সন্ত্রাসীরা কারা. এরা চিহ্নিত। গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যদি সদিচ্ছা থাকে, তাহলে খুব সহজেই তারা এদের চিহ্নিত করে ধরতে পারবেন।

“কিন্তু আমাদের মনে হচ্ছে, গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর কারা হামলা করেছে তা খুঁজে বের করা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদিচ্ছার অভাব রয়েছে।”


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018