BdNewsEveryDay.com
Tuesday, December 11, 2018

‘শখের’ গরু সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা!

Friday, August 10, 2018 - 838 hours ago

‘শখের’ গরু সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা! যশোরের মনিরামপুরের তেঁতুলিয়া গ্রামের শিক্ষিত যুবক হারুনুর রশিদ (৩০)। মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদিস পাস করে চাকরি না খুঁজে শুরু করেন ব্যবসা। পাশর্^বর্তী উপজেলা অভয়নগরে ৯৫ বিঘা জমি জুড়ে ঘের ব্যবসা রয়েছে তার। পাশাপাশি গত ছয় বছর ধরে নিজের বসতবাড়িতে দুগ্ধ খামার গড়ে তুলেছেন হারুন। আবার হজের মৌসুমে আকবর হজ গ্রুপের মোয়াল্লেমের কাজ করেন তিনি। এসব ব্যস্ততার কারণে নিজে খামারের দেখাশুনা তেমন করতে না পারায় সাদ্দাম নামের এক যুবককে মাসিক নয় হাজার টাকা বেতনে রেখে খামারের যতœ নেয়ান তিনি। হারুনের দুগ্ধ খামারে গাভী রয়েছে ১৯টি। পাশাপাশি শখের বসে একটি ষাঁড় পুষছেন তিনি। শত ব্যবস্তার ফাঁকেও তিনি ষাঁড়টির দেখভাল করেন। বাড়ির কাজের লোক সাদ্দাম ষাঁড়টিকে ‘কবিরাজ’ বলে ডাকেন। আর হারুন বলেন ‘শখের গরু’। ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৩৫ মণ, উচ্চতা পাঁচ ফুটের বেশি। এবারের কোরবানিতে তিনি ষাড়টি বিক্রি করবেন। হারুনুর রশিদের শখের গরুর দাম উঠেছে পাঁচ লাখ টাকা। তিনি সাড়ে পাঁচ লাখ হলে ষাঁড়টি বিক্রি করবেন। সম্প্রতি তার ভাইপো বোরহান উদ্দিন ‘বিক্রয় ডটকম’ নামের একটি অনলাইন বাজারে গরুটির ছবি ছেড়েছেন। ফলে সিলেট ও চিটাগং থেকে খরিদ্দাররা গরুটি কিনতে যোগাযোগ করছেন। আর ‘কোকলা ফুড’ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ গরুটির দাম বলেছেন পাঁচ লাখ টাকা। হারুনুর রশিদ জানান, গত ছয় বছর ধরে বাড়িতে দুগ্ধ খামার করেছি। প্রতিবছর দুই-চারটি গরু কোরবানিতে বিক্রি করার জন্য পুষি। খামারের ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কারও কোনো পরামর্শ নিইনি। নিজেই বাজার থেকে ওষুধ কিনে এনে গরুগুলোকে খাওয়াই। প্রয়োজনে স্থানীয় পল্লী পশু চিকিৎসককে দেখাই। হারুন বলেন, গত বছর কোরবানির সময় তিন লাখ ৭০ হাজার ও দুই লাখ ৮০ হাজার টাকায় দুটি গরু বিক্রি করেছি। এবার বাড়ির ছোট্ট একটা বাছুর পুষে বড় করেছি। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমার খামারে গরুটি দেখতে এসেছেন। তখন তারা ওজন করে দেখেছেন গরুটি ৩৫ মণ হয়েছে। তিনি বলেন, ভাইপো সাদ্দাম গরুর ছবি তুলে ফেসবুকে বিক্রয় ডটকমে ছেড়েছে। তাই দেখে সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে লোকজন যোগাযোগ করছেন। আর কোকোলা ফুড কোম্পানি গরুর দাম পাঁচ লাখ টাকা বলেছে। আমি সাড়ে পাঁচ লাখে বিক্রি করব। জানতে চাইলে মনিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আবুজার সিদ্দিকী জানান, সম্প্রতি আমাদের জেলা কর্মকর্তা ভবতোষ কান্তি সরকার নিজে গিয়ে হারুনের ষাঁড়টি দেখে এসেছেন। ষাঁড়টি আমাদের তত্ত্বাবধানে আছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ নেই হারুনুর রশিদের এমন বক্তব্যেও প্রতিক্রিয়ায় আবুজার সিদ্দিকী বলেন, ‘ওনার বক্তব্য সঠিক নয়।’


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018