BdNewsEveryDay.com
Friday, October 19, 2018

এবার পাথর গায়েব

Friday, August 10, 2018 - 838 hours ago

কার্যকর পদক্ষেপ নিন সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত ব্যতিরেকে একটি দেশের সামগ্রিক সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। আর এ ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের অনিয়ম, গরমিল তথা অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি কাম্য হতে পারে না। যখন কয়লা কেলেঙ্কারির রেশ কাটতে না কাটতেই পাথরের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, তখন তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেই আমরা মনে করি। তথ্য মতে, পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮১৭ টন পাথরের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এ পাথরের মূল্য প্রায় ৫৬ কোটি টাকা। এমজিএমসিএল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরিমাপগত ত্রুটি, সিস্টেম লস বা পদ্ধতিগত লোকসান ও মাটির নিচে দেবে গেছে বলে দাবি করেছে। উল্লেখ্য, কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তড়িঘড়ি করে গত ২৯ জুলাই এমজিএমসিএল বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করে। আর তা তদন্তের জন্য পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) ও মধ্যপাড়া খনির নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালককে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। বলা দরকার. মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ২০০৭ সালের ২৫ মে থেকে পাথর খনিটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পর থেকে এক শিফটে পাথর উৎপাদন করা হতো। প্রতিদিন গড়ে পাথর উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ থেকে ৭০০ টন। পরে ২০১৪ সালে পাথর খনির দায়িত্বভার নেয় বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া-স্টেট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)। আর এই প্রতিষ্ঠানটি তিন শিফটে খনি থেকে পাথর উত্তোলন করে আসছে। এখন খনি থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৪ হাজার টন পাথর উত্তোলন করা হয় বলেও জানা যায়। ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত এমজিএমসিএল বোর্ড মিটিংয়ে উত্থাপিত রিপোর্টে ২০০৬-০৭ অর্থবছর থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছর পর্যন্ত পরিমাপগত ত্রুটি ও সিস্টেম লস দেখানো হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ২৩৩ টন এবং ২০১৬-১৭ অথর্বছর পর্যন্ত ১ লাখ ৬ হাজার ৪৮৬ টন পাথর খনি ইয়ার্ডে মাটির নিচে দেবে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া খনি কর্তৃপক্ষ মোট ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮১৬ দশমিক ৮৯ টন পাথরের মূল্য বাবদ ৫৫ কোটি ২৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪৪৮ টাকা অবলোপন করার জন্য এমজিএমসিএল বোর্ডকে অনুরোধ করেছে। এ ছাড়া এমজিএমসিএলের দায়িত্বশীল দুই কর্মকর্তা বলেছেন, মধ্যপাড়া খনির পাথরের পরিমাপগত ত্রুটি, সিস্টেম লস বা পদ্ধতিগত লোকসান ও মাটির নিচে দেবে যাওয়ার বিষয়ে এমজিএমসিএল বোর্ড এবং পেট্রোবাংলাকে সময়ে সময়ে জানানো হয়েছে। এর পরও এতদিনেও বিষয়টি সমন্বয় বা অবলোপন না করা দুঃখজনক। আমরা মনে করি, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছেÑ ফলে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত হোক। সর্বোপরি বলতে চাই, পাবর্তীপুরে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮১৭ টন পাথরের হদিস পাওয়া যাচ্ছে নাÑ এই বিষয়টি সহজ করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এর কারণ অনুসন্ধান এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। বলা দরকার, ২০০৬-০৭ থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছর পর্যন্ত খনি বাস্তবায়নকারী উত্তর কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উৎপাদনকালীন পরিমাপগত ত্রুটি ও সিস্টেম লস দেখানো হয়েছিল ২ লাখ ২৭ হাজার ২৩৩ টন। কিন্তু ২০১২-১৩ অর্থবছরের পর আর পরিমাপগত ত্রুটি ও সিস্টেম লস নেই এমন বিষয়ও উঠে এসেছে। এ ছাড়া পাথর গায়েবের বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, তারা বিষয়টি জেনেছে এবং খতিয়ে দেখবেন। এ ক্ষেত্রে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত হবে এমনটি কাম্য।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018