BdNewsEveryDay.com
Wednesday, December 19, 2018

আট শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশ

Friday, August 10, 2018 - 838 hours ago

চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে হবে একটি দেশের প্রবৃদ্ধি উন্নয়ন বলতে সেই দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের বিষয়টিকেই তুলে ধরে। এতে একদিকে যেমন নতুন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মানুষের আয় বাড়ে অন্যদিকে দারিদ্র্যের হার কমে। কিন্তু কাক্সিক্ষত হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পরও কর্মসংস্থান এবং দারিদ্র্য বিমোচনে প্রভাব না পড়লে ধরে নেয়া হয় জিডিপির হিসাবে কোনো শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। অথবা দেশের মানুষের আয়ে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে। বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ধারণা এ রকমই। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছয় শতাংশের বৃত্ত ভেঙে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৭ শতাংশের বেশি। আর এই প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের ঘরে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। গণমাধ্যমে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাবের তথ্যে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ জিডিপি অর্জিত হয়েছে। আর পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, চূড়ান্ত হিসেবে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। জানা যায়, হাতেগোনা যে কয়টি দেশে ৭ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশ তার অন্যতম। তবে এই প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতেও নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রবৃদ্ধির সঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বেশ কিছু উদ্যোগও রয়েছে সরকারের। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১ হাজার ১১২ ডলার। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫২ ডলার। ২০০৮ সালে ছিল মাত্র ৬৪০ ডলার। ফলে অর্থনীতিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ছে বলে মনে করেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে এই সাফল্যের পরও দারিদ্র্য বিমোচন ও কাক্সিক্ষত সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন করার জন্য আরো অনেক পথ এগোতে হবে বলে মনে করছেন তারা। তাদের মতে, এখনো দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ দরিদ্র। একই সঙ্গে বৈষম্য কমানোর বিষয়টিকে বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখতে হবে বলেও তারা মনে করেন। এ ছাড়া উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বতর্মানের চেয়ে অনেক বাড়াতে হবে। এ জন্য সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব পরিসর সম্প্রসারণ করার ওপর তাগিদ দিয়ে আসছেন অর্থনীতিবিদরা। দেশের চলমান প্রবৃদ্ধির চলমান গতিধারা ঠিক থাকলে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য অনুযায়ী ২০২০ সাল নাগাদ ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশাবাদ রয়েছে। বিবিএসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ব্যক্তি খাতের ভোগ ও সরকারি ব্যয়। অন্যদিকে কয়েক বছর ধরে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ জিডিপির ২৩ শতাংশের মধ্যেই সীমিত আছে। প্রবৃদ্ধি আরো বাড়াতে হলে এবং টেকসই রাখতে হলে বিনিয়োগে গতিশীলতা জরুরি একটি বিষয়। প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প থাকতে পারে না। আর তাই বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে অবকাঠামো উন্নয়নে নেয়া মেগা প্রকল্পগুলো সময়মতো বাস্তবায়ন করা আবশ্যক। প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে কর্মসংস্থানও যাতে বাড়ে সে উদ্যোগও নিশ্চিত করা জরুরি। জিডিপিতে মোটা দাগে কৃষির উৎপাদন, শিল্পের উৎপাদন এবং সেবা খাতের মোট ১৫ ধরনের সেবার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হয়। এগুলোর সম্মিলিত যোগফলই মোট জিডিপি। লক্ষণীয় যে, বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও দারিদ্র্যের হার আশানুরূপ কমেনি, কর্মসংস্থানও বাড়ছে না। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল প্রবৃদ্ধির সুফল সমানভাবে পাচ্ছে না। এতে গ্রামের মানুষের আয়ের বৈষম্য প্রকট হচ্ছে এমন তথ্য এসেছে সিপিডির গবেষণায়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, আয় ও সম্পদ বৈষম্য বেশি হলে আগে বা পরে এর নেতিবাচক প্রভাব জিডিপির ওপর পড়বে। ফলে বিষয়টিকে নীতি-নির্ধারকদের গুরুত্বসহকারের বিবেচনায় নেয়া দরকার। প্রবৃদ্ধির ধারা টেকসই করতে হলে অর্থনীতির বিকাশের পর্যায়ে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধির তুলনায় উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি থাকা কাক্সিক্ষত। আশার কথা যে, দেশের কাঠামোগত রূপান্তরের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে শিল্প ও সেবা খাত। এগুলো অবশ্যই ইতিবাচক। এখন বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দিতে হবে। আমরা মনে করি, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই হওয়াসহ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া কঠিন কোনো বিষয় নয়।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018