BdNewsEveryDay.com
Wednesday, October 17, 2018

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ও বার্নিকাটের অভিব্যক্তি

Thursday, August 09, 2018 - 838 hours ago

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা : মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালকে ‘দুই আনার মন্ত্রী’ বলে উপহাস করেছিলেন ক্ষমতাসীন দলের একজন সিনিয়র নেতা। অবশ্য এর আগে তিনি  ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মোজেনাকে ‘কাজের বেটি মর্জিনা’ বলে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছিলেন। ক্ষমতাসীন দলের একজন দায়িত্বশীল ও জ্যেষ্ঠ নেতার কাছ থেকে এমন অনাকাক্সিক্ষত মন্তব্য কখনোই কাম্য ছিল না । তার এমন বক্তব্যে দেশে যেমন বিতর্কের ঝড় উঠেছিল, ঠিক তেমনিভাবে আমরা কূটনৈতিক পর্যায়েও  বিষয়টি নিয়ে আমরা তীর্ষক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলাম। প্রশ্ন উঠেছিল আমাদের ভব্যতা ও শিষ্টাচার নিয়েও। যা সত্যিই দুঃখজনক। সরকারি দলের একজন শীর্ষনেতা এমন মন্তব্য করে নিজের ব্যক্তিত্ব ও পদমর্যাদার প্রতি সুবিচার করেন নি বলেই মনে করেন অধিকাংশ মানুষ। কেউ কেউ মনে করেন তিনি বহির্বিশে^ আমাদেরকে অভদ্র ও অশিষ্টাচারি জাতি হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। সরকার পক্ষে অবশ্য তাকে এই বলে সাধুবাদ দেয়া হয়েছিল যে, তিনি বীরোচিত কাজটিই করেছিলেন। কিন্তু কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার মধ্যে যে বীরত্ব নেই একথা তো কারোরই অজানা নয়। আর তা আমাদের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয় শক্তি-সামর্থ্যরে ক্ষেত্রেও মোটেই অনুকূল নয়। এমনকি আধুনিক বিশ্বব্যবস্থা ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তা মোটেই সঙ্গতিপূর্ণও নয়। কারণ, সমসাময়িক বৈশ্বিক রাজনীতি আন্তঃরাষ্ট্রীয় সৌহার্দ ও সম্প্রতির রাজনীতি এবং একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। তাই যেকোন ধরনের ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়াও হওয়া উচিত সেই মানদন্ডেই। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমরা বরাবরই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছি। এজন্য ক্ষেত্র বিশেষে চড়ামূল্যও দিতে হচ্ছে। কিন্তু এ থেকে আমরা মোটেই শিক্ষা গ্রহণ করছি না বরং রোগের প্রকোপ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে বৈ কমছে না। বিষয়টি  এখানেই সীমাবদ্ধ  থাকলেই বোধহয় কিছুটা হলেও স্বস্তিবোধ করা যেত। কিন্তু  চরম দুর্ভাগ্য যে, আমরা কেউই এই মুদ্রাদোষ থেকে মুক্ত হতে পারছি না। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মধ্যে ধরাকে সরা জ্ঞান করার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ‘ মুই কে হনুরে’ ধরনের অহংবোধী ভাব তাদেরকে পেয়ে বসেছে। কাউকে ছোট করে যে নিজেরা  বড় হওয়া যায় না এই উপলব্ধি তাদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।  কারো বক্তব্য মনোপুতো না হলে তীর্ষক ভাষায় তার শ্রাদ্ধ করার ঘটনা আমাদের দেশে এই প্রথম নয়। এর আগে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সরকারের একজন মন্ত্রী আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এ্যাসনেষ্টিকে ঝাঁটাপেটা করার ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। মন্ত্রীবরের এমন ঘোষণা বীরোচিত, না কাপুরুষোচিত বা নারীসূলভ হয়েছিল তা নির্ধারণের ভার খোদ তাদের ওপরই ন্যাস্ত করা শ্রেয়তর মনে করছি! তবে একথা সত্য যে,  প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁটা প্রয়োগের  প্রমীলাদের সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু মন্ত্রী মহোদয়ের অনেক রাষ্ট্রীয় উপকরণ থাকা স্বত্ত্বেও তিনি এমন নিরীহ পন্থা কেন বেছে নিলেন তা কারো বোধগম্য হয়নি। আমাদের দেশের গণতন্ত্র, আইনের  শাসন, আইনশৃক্সক্ষলা পরিস্থিতি, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, বিরোধী দলের প্রতি অগণতান্ত্রিক আচরণ, গুম, গুপ্তহত্যা, নারীর প্রতি সহিংসতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কুটনৈতিক মহল ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো সব সময় সোচ্চার ছিল এবং এখনও আছে। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের এ বিষয়ে কোন উপলব্ধির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হয় না। কারণ, তারা কখনোই সমস্যার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করেন নি বা এসব সমস্যা সমাধানে তাদের কোন আন্তরিকতা লক্ষ্য করা যায়নি বরং এসব বিষয়ে সরকারের তরফে সমালোচকদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং  অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনাকাক্সিক্ষত হস্তক্ষেপ বলে দাবি করে দায়দায়িত্ব শেষ করার একটা প্রবণতা সর্বসাম্প্রতিককালে শুরু হয়েছে। আর এমন চর্চার ক্রমেই বাড়ছে বৈ কমছে না। এমনকি রাম, শ্যাম, যদু ও মধুরাও যুক্ত হয়েছে এই প্রক্রিয়ার সাথে। কোন ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া দেখানোর অধিকার প্রত্যেকেরই থাকে। বিশেষত গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজে তা স্বীকৃত পন্থা। কারণ, গণতন্ত্র বলতে কোনও জাতিরাষ্ট্রের  এমন একটি শাসন ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে নীতিনির্ধারণ বা সরকারি প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিক বা সদস্যের সমান ভোটাধিকার থাকে। গণতন্ত্রে আইন প্রস্তাবনা, প্রণয়ন ও তৈরীর ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের অংশগ্রহণের সমান সুযোগ রয়েছে, যা সরাসরি বা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হয়ে থাকে। মূলত গণতন্ত্রের অন্যতম মূলমন্ত্রই হচ্ছে জনগণের শাসন ও ব্যক্তির অবাধ বাকস্বাধীনতা। কিন্তু  এসব বিষয়ে  প্রতিক্রিয়ার উপস্থাপনা, ভাষার প্রয়োগ ও শব্দচয়ন নিয়ে বিতর্কটা বেশ জোড়ালো।  ভদ্রলোকের প্রতিক্রিয়া যে ভদ্রোচিত হওয়া উচিত তা আমরা হয়তো ভুলতে বসেছি।  সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, কারো কোন অভিযোগেরই আমরা যৌক্তিক বা তথ্য, উপাত্ত ও অকাট্য প্রমাণাদির ভিত্তিতে খন্ডন করছি না। বরং ‘অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেই একেবারে সব দায়-দায়িত্ব শেষ করা হচ্ছে। এটা কোন রাষ্ট্র বা সরকারের বৈশিষ্ট হলে তা দুঃখজনক বা দুর্ভাগ্যজনক বলা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। এমনটা গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজের বৈশিষ্ট্য নয়। সম্প্রতি খুলনা ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়ে রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। তার সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটির নির্বাচন। এসব নির্বাচন কেমন হয়েছে; সরকার, বিরোধী দল, আইনশৃক্সক্ষলাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশন এসব নির্বাচনে কী ভূমিকা পালন করেছে বা নির্বাচনে জনমতের কতখানী প্রতিফলন ঘটেছে তা কারো অজানা নয়। বিষয়টি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গন্ডি পেড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহল পর্যন্ত গড়িয়েছে। ইইউসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমনকি ঢাকায় নিযুক্ত বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বিশেষ করে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের অবাধ ও নিরপেক্ষতার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং আগামীতে নির্বাচনগুলো যাতে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশ গ্রহণমূলক হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। সরকার ও নির্বাচন কমিশন তার এ বক্তব্যকে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি বরং এ বিষয়ে তারা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সমালোচনা করেছে। তবে এবারের সমালোচনা আগের তুলনায় কিছুটা হলেও শালীন হয়েছে। অন্তত মার্শা কাজের বেটি হওয়া থেকে আপাতত রেহাই পেয়েছেন।  টাকা, আনা আর পাই দিয়ে তার মূল্যায়ন করা হয়নি এটাই তার সৌভাগ্য বলতে হবে। কারণ, তার পূর্বসূরীদের অবস্থা খুব একটা সুখকর ছিল না।  তাই এটাকে অনন্ত আগের তুলনায় ইতিবাচক বলার সুযোগটা থেকেই যাচ্ছে। কিন্তু এক্ষেত্রে সরকারের অবস্থানে কোন পরিবর্তন আসেনি। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহল যেসব অনিয়ম ও সমস্যার কথা উল্লেখ করেছে সেসব বিষয়ে সরকারের কোন ব্যাখ্যা নেই। তারা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেই তাদের দায়-দায়িত্ব শেষ করেছে। অভিযোগ অনুযায়ি ব্যবস্থা গ্রহণ অথবা অথবা অখিযোগ খন্ডনের জন্য কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। সরকারের পক্ষে দলীয় সাধারণ সম্পাদক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এ ধরনের বক্তব্য অনাকাক্সিক্ষত ও তা দু’দেশের মধ্যে সুসম্পর্কের ক্ষেত্রে বিঘœ সৃষ্টি করবে বলে উল্লেখ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এ ধরনের বক্তব্যের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আর এমন প্রশ্নও অমূলক নয়। কারণ, আমাদের দেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম। সার্বভৌমত্ব বলতে কোন দেশ বা রাষ্ট্রের নিজের অভ্যন্তরীণ এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণের চূড়ান্ত ক্ষমতাকে বোঝায়। সার্বভৌমত্ব কোনো পরিচালনা পর্ষদের বাইরের কোনো উৎস বা সংগঠনের হস্তক্ষেপ ছাড়াও কাজ করার পূর্ণ অধিকার ও ক্ষমতা। রাজনৈতিক তত্ত্ব অনুযায়ী, সার্বভৌমত্ব কোনো একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার উপর সর্বোচ্চ ক্ষমতা নির্দেশকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা। এটি রাষ্ট্রগঠনের সার্বভৌমত্বকেন্দ্রিক মতবাদের একটি মূলনীতি। কিন্তু আপাত দৃষ্টিতে আমাদের দেশের নির্বাচন নিয়ে বাইরের কোন রাষ্ট্রের কথা বলা নিঃসন্দেহে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। এখানে মজার বিষয় হলো সরকার বা নির্বাচন কমিশন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের অভিযোগের সত্যাসত্য নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি বা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য সঠিক নয় এমন বক্তব্য শোনা যায়নি। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভাষা ও শব্দচয়নে মনে হয়েছে নির্বাচন যেভাবেই হোক না কেন এসব আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই এসব নিয়ে বাইরের রাষ্ট্র বা সংস্থার মন্তব্য করার কোন সুযোগ নেই। একথা অস্বীকার করা যাবে না আমাদের দেশের নির্বাচন অবশ্যই অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ সহ আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ অনাকাক্সিক্ষতই বলতে হবে। কিন্তু একথাও স্মরণ রাখতে হবে যে, অভ্যন্তরীণ বিষয়ের কথা বলে যেমন নিজের সন্তানকে হত্যা করার অধিকার স্বীকৃত নয় ঠিক তেমনিভাবে নিজের ঘরে নিজেই আগুন দেয়াও বৈধতা পেতে পারে না। মূলত সুশাসনের অনুপস্থিতিই আমাদের ভাগ্য বিড়ম্বনার অন্যতম কারণ। তাই দেশকে বাইরের রাষ্ট্রের উপদ্রপ থেকে মুক্ত  করতে হলে সুশাসন ও জাতীয় ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। অবশ্য আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কথা বলা নতুন কিছু নয়। এমনটা অতীতে হয়েছে, এখনও হচ্ছে আগামী দিনেও হবে বলে মন করার যথেষ্ট কারণ আছে। আর আমরা নিজেরাও এজন্য কম দায়ি নই। এজন্য ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতাহীন উভয় পক্ষই যুগপৎভাবে দায়ি। অবাধ গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা স্বাধীনতা অর্জন করলেও স্বাধীনতার প্রায় ৫ দশক অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আমাদের গণতন্ত্রের লড়াইটা এখনও শেষ করতে পারিনি বরং আমাদের এই লড়াইটা যে আর কত দীর্ঘায়িত হবে বা এই লড়াই কখনো শেষই হবে কি না তাও নিশ্চিত নই। মূলত স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আমাদের দেশে যতবারই রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে তার প্রায় সবই গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারকে কেন্দ্র করেই। কিন্তু সেসব সংকট আমরা নিজেরা সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছি। আজ যারা কথায় কথায় নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে অনেক রূঢ় বাস্তবতাকে ধারাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন তারাও রাজনৈতিক সংকট সমাধানে বিদেশীদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আমাদের পৌণপৌনিক ব্যর্থতার কারণেই কমনওলেথ মহাসচীবের বিশেষ দূত স্যার নিনিয়ান মার্টিন স্টিফেনকে আমাদের দেশের রাজনৈতি সমস্যা সমাধানে শালিস মানা হয়েছিল। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর দূতিয়ালির কথা আমরা এখনও কেউ বিস্মৃত হয়নি।  মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা, ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক চর্চা, জাতীয় অনৈক্য, আইন ও সাংবিধানিক শাসনের অনুপস্থিতি এবং সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চার অভাবেই এসব উপসর্গ আমাদের জাতীয় জীবনে স্থায়ীভাবে বাসা বেধেছে। তাই তো আমাদের বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র আমাদের দেশের সংবিধান রক্ষার দায়িত্ব নিচ্ছে এবং আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ট্র ও নিরপেক্ষ হবে বলে তাদের কাছে থেকেই প্রতিশ্রুতি পাওয়া যাচ্ছে। দুঃখজনক যে, আমরা কেউই এধরনের বক্তব্য অভ্যন্তীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে দাবি করছি না বরং সে বক্তব্যকে ভিত্তি ধরেই আবর্তিত হচ্ছে আমাদের দেশের গণতন্ত্র ও সরকার গঠনের ভবিষ্যৎ।  গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়ে মার্কিন দূতের বক্তব্যে সরকারের প্রতিক্রিয়ার পর মার্কিন দূতাবাসও প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। দূতাবাসের পক্ষে বলা হয়েছে, নির্বাচন নিয়ে মার্শার বক্তব্য তার ব্যক্তিগত নয় বরং মার্কিন পররাষ্ট্র তথা মার্কিন সরকারেরই অভিব্যক্তি। মার্কিন স্টেষ্ট ডিপার্টমেন্টও বিষয়টি নিশ্চিত  করেছে। সম্প্রতি বার্নিকাটও আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচন নিয়ে তিনি যা বলেছেন বা বলছেন তা তার ব্যক্তিগত মতামত নয়। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানই জানিয়েছেন। বার্নিকাটের ভাষায়- সমালোচনা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য। এটা বাক স্বাধীনতার অংশ। মজার বিষয় হলো গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়ে দেয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও তীর্যক সমালোচনা করা হয়েছে। প্রত্যুত্তরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বা প্রশাসন যে বক্তব্য দিয়েছে তার মধ্যে কোন তীব্রতা ছিল না বরং তার মধ্যে যৌক্তিকতা ও বুদ্ধিমত্তাই প্রাধান্য পেয়েছে। তারা বিষয়টিকে গণতান্ত্রিক অধিকার বলে দাবি করেছেন। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষে বলা হয়েছে, নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে কথা বলা যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে বাংলাদেশ সরকার বা বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের তার প্রত্যুত্তরও গণতান্ত্রিক অধিকারের আওতায় পড়ে। এটাকেই মার্কিন রাষ্ট্রদূত গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বলে আখ্যা দিয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের পরও  আমরা তার সৌন্দর্য্য ও সম্মোহনী রূপ অনুধাবন করতে পারলাম না মূলত এটিই আমাদের ব্যর্থতা। আর এ ব্যর্থতা যতদিন না আমরা দূর করতে পারছি ততদিন আমরা ভাল কিছু আশা করতে পারি না। গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটলের মতে, “রাষ্ট্র হলো কয়েকটি পরিবার ও গ্রামের সমষ্টি, যার উদ্দেশ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবন।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট উইলসন-এর ভাষায়, “মানবজাতির অংশ বিশেষকে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে দেখা গেলে তাকে রাষ্ট্র বলে।” ব্রুন্টসলী বলেন, “কোন নির্দিষ্ট ভূখন্ডে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত জনসমাজই রাষ্ট্র।” তাই রাষ্ট্রকেই অভ্যন্তরীণ সকল সমস্যায় সমাধান করতে হবে। নিজেরা নিজেদের সমস্যার সমাধান না করে এবং জাতিকে বহুধা বিভক্ত রেখে কারো ওপর দোষ চাপানোর মধ্যে কোন কল্যাণ আছে বলে মনে হয় না। এ বিষয়ে আমরা যতদিন নিষ্ক্রিয় থাকবো মার্শা বার্নিকাটরা ততই সক্রিয় হয়ে উঠবেন। অভিব্যক্তি প্রকাশ  ও উপদেশ খয়রাতও চলবে একই সাথে। অভ্যন্তরীণ বিষয়ের কথা বলে এসব বৈদেশিক উপদ্রপ ঠেকানো কোনভাবেই সম্ভব হবে না। smmjoy@gmail.com


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018