BdNewsEveryDay.com
Wednesday, August 15, 2018

শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর নির্মম হামলা কেন?

Thursday, August 09, 2018 - 145 hours ago

৬ আগস্ট তারিখে প্রথম আলো পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ছিল ‘পুলিশ পাহারায় ছাত্রলীগের হামলা’। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষার্থীদের বিশাল জমায়েতে এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এই হামলা চালানো হয় পুলিশ পাহারায়। পুলিশ পেছন থেকে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ছে। আর সামনে এগিয়ে এসে আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের বেধড়ক পিটিয়েছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাদের হাতে ছিল লাঠি-রড-রামদা-চ্যালা কাঠ। আর পরিচয় লুকাতে মাথায় ছিল হেলমেট। শিক্ষার্থী ছাড়াও কর্তব্যরত সাংবাদিকদের খুঁজে খুঁজে নির্মমভাবে পিটিয়েছে তারা। এমনকি নারী চিকিৎসক, বৃদ্ধ পথচারীও রেহাই পাননি। বিভিন্ন ভবনের ওপর বা ভেতর থেকে যারাই মুঠোফোনে হামলাকারীদের ছবি তুলেছেন, দেখামাত্র তারাও মারধরের শিকার হয়েছেন। ৫ আগস্ট রোববার রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় পুলিশের পাহারায় করা এই হামলায় অংশ নেয় ছাত্রলীগের কয়েকশত নেতা-কর্মী। এতে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হাতে রক্তাক্ত হয়েছেন সাংবাদিকরা। লাঠিসোঁটা, রড ও রামদা দিয়ে তাদের বেধড়ক আঘাত করা হয়। ভাঙচুর করা হয়েছে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের গাড়ি। খোঁজা হয়েছে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এর সাংবাদিকদের। পুলিশ পাহারায় শিক্ষার্থীদের বিশাল সমাবেশে ছাত্রলীগের নির্মম হামলার খবর মোটেও ভাল খবর নয়। সন্ত্রাসী এমন হামলায় ফ্যাসিবাদের ধমক লক্ষ্য করা গেলেও কোনো সুষ্ঠু সমাধানের আভাস পাওয়া যায় না। আর হাতাশা ও লজ্জার বিষয় হলো, ছাত্রলীগ হামলাটি চালিয়েছে পুলিশের চোখের সামনে। দেশের সরকার ও পুলিশ প্রশাসন দেশ পরিচালনার এ কেমন নজির স্থাপন করলেন? ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও সরকারদলীয় সংগঠনের সদস্যদের হামলার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্নস্থানে ৫ আগস্ট রোববার মিছিল, মানববন্ধন, সমাবেশসহ আন্দোলনের নানা কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা হামলাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে আন্দোলনরত শিশু-কিশোর ও তরুণদের নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার উদ্বেগ বাড়ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার স্বার্থে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করা তরুণদের ওপর নৃশংস হামলা আর সহিংসতাকে যৌক্তিক প্রমাণ করা যায় না। ঢাকায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং মার্কিন দূতাবাস ৫ আগস্ট রোববার তাদের ফেসবুক পেজে পৃথক বিবৃতিতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলন নিয়ে এসব মন্তব্য করেছে। আমরা আশা করবো বিষয়টির গভীরতা সরকার উপলব্ধি করবে। নীপিড়ন-নির্যাতনের বদলে সরকার যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত পথ অবলম্বন করে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018