BdNewsEveryDay.com
Monday, November 19, 2018

চাইলে ২০১৪ সালে খালেদাকে গ্রেফতার করতে পারতাম

Wednesday, July 11, 2018 - 838 hours ago

চাইলে ২০১৪ সালে খালেদাকে গ্রেফতার করতে পারতাম রাজনৈতিকভাবে গ্রেফতার করলে খালেদা জিয়াকে আরো আগেই গ্রেফতার করা যেত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এতিমের টাকা আত্মসাতের দায়ে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দি। আর এটা হয়েছে কোর্টের রায়ে। আমরা তো রাজনৈতিকভাবে তাকে অ্যারেস্ট করিনি। এটা করলেও তো ২০১৪ সালে করতে পারতাম, ২০১৫ সালে করতে পারতাম। সেটা তো করিনি।’ গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নূরজাহান বেগমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এ সময় নারী জাতির কলঙ্ক বলেও আখ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার প্রশ্নোত্তরে প্রথম আধাঘণ্টা প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিল। খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলা প্রসঙ্গে সংসদ নেতা বলেন, ‘একজন নারী হওয়া সত্ত্বেও এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করার কথা তো কখনও চিন্তাও করা যায় না। সামান্য কয়টা টাকা এতিমরা পাবে। এই টাকা নিয়ে ১০ বছর মামলা চললো। এখন তিনি কারাগারে বন্দি। কোর্টের রায়ে এটা হয়েছে। ১০ বছর মামলা চালালেন বিএনপির জাঁদরেল আইনজীবী ও ব্যারিস্টার সাহেবরা। কেউ প্রমাণ করতে পারেননি তিনি নির্দোষ। উল্টো মামলার রায় বের হওয়ার আগে তারা দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে দুর্নীতিবাজকে দলের নেতৃত্বে আসার সুযোগ করে দিলো। এর অর্থ তারা জানে খালেদা জিয়া অপরাধী এজন্য রায়ের আগেই এটা সংশোধন করেছে। এটা তো সব নারী জাতির জন্যই একটা কলঙ্ক। আমাদের নারী জাতির জন্য লজ্জার। কারণ, একজন নারী মানে একজন মা। একজন মা হয়ে এতিমের টাকা কী করে চুরি করে বা অপব্যবহার করে।’ তিনি বলেন, দেশে সুষ্ঠু ও সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকলে উন্নতি ত্বরান্বিত হয়। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকলে উন্নয়ন অব্যাহত থাকে। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসতে পেরেছি বলেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে পেরেছি। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক, তা আমরা চাই। বর্তমান সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে ছয় হাজারের ওপর নির্বাচন হয়েছে কেউ তো কোনো নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেনি। কিন্তু বিএনপির আমলের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কথা আমাদের মনে আছে। ২০০৬ সালে তারা যখন নির্বাচন করার প্রচেষ্টা করেছিল, তখনও ভোটারবিহীন নির্বাচন করে কতজনকে নির্বাচিত ঘোষণাও দিয়েছিল। এর আগে সংরক্ষিত আসনের নূরজাহান বেগমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের মেয়াদে (২০০৯-১৭) এককোটি ৮৫ লাখ ৪০ হাজার ৫৯ জন ছাত্রীকে তিন হাজার ৪৪৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উপবৃত্তি দেয়া হয়েছে।’ এই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ক্ষেত্রসহ সমাজের সব ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে। নারী উন্নয়নে সরকারের এই কার্মকা- অব্যাহত থাকবে। নতুন মেয়াদে ক্ষমতায় আসলে সরকার কী কী মেগা প্রজেক্ট করবে’ জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের উন্নয়নের লক্ষ্য হলো তৃণমূল পর্যায়। আমাদের প্রত্যেকটা গ্রামকে শহরে রূপান্তর করবো। নাগরিক সুবিধা গ্রামের মানুষ সম্পূর্ণভাবে পাবে। সেইভাবে আমরা গ্রামকে তৈরি করবো, যাতে গ্রামের মানুষকে শহরে ছুটে আসতে না হয়। নতুন মেয়াদে ডিপ সি-পোর্ট, বিমান বন্দর তৈরি, এশিয়ার হাইওয়ে, ট্রান্স এশিয়ার রেলওয়ের সঙ্গে সংযুক্তি হওয়াসহ পুরো টেনওয়ার্ক হিসেবে গড়ে তুলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন মেয়াদে এলে দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সেই পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এজন্য দক্ষিণে জায়গা খুঁজছি। সেখানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেকগুলো চর রয়েছে। সেগুলোর তথ্য নিচ্ছি। সংরক্ষিত আসনের নাসিমা ফেরদৌসীর প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, ‘মহাকাশে নিজেদের অবস্থান সমুন্নত রাখতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ মহাকাশে প্রেরণ করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে বার্ষিক ১৪ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তরিকত ফেডারেশনের সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালের প্রশ্নের জবাবে সরকার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব ধরনের সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে বিগত ১৮ মে থেকে এ পর্যন্ত বিপুল পরিমাণে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও এগুলো পরিবহনের বাহন উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে। এ সময়ে ১৫ হাজার ৩৩৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০ হাজার ৭৬৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করে বিচারে সোপর্দ করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে একহাজার ২৮৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018