BdNewsEveryDay.com
Monday, July 23, 2018

দুই পা ছাড়াই প্রবীর ঘোষেরশেষকৃত্য সম্পন্ন

Wednesday, July 11, 2018 - 278 hours ago

বন্ধু পিন্টু দেবনাথের পাষ-তায় নির্মম হত্যাকা-ের শিকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষের দুটি পা ছাড়াই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর মাসদাইর শ্মশানে প্রবীরের পাঁচ টুকরো দেহের শেষকৃত্য হয়। এর পরে পিন্টুর স্বীকারোক্তিতে আমলাপাড়ার লাশ উদ্ধার হওয়া বাড়ির পাশে ময়লার স্তূপ থেকে ব্যাগ ও পলিথিনে মোড়ানো প্রবীরের হাঁটুর নিচের বাকি অংশ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার ২২ দিন পরে পিন্টুর স্বীকারোক্তি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তার বাড়ির সেপ্টিক ট্যাংক থেকে তিনটি বস্তায় প্রবীরের পাঁচ টুকরো লাশ উদ্ধার করা হয়। অথচ লাশের বাকি অংশ দুটি পা উদ্ধার করতে নানা রকম চেষ্টা করতে দেখেও তখন পিন্টু দেবনাথ মুখ খুলে বলেননি পাশের ময়লার স্তূপে বাকি অংশটুকু আছে। এ হত্যা মামলায় প্রবীর ঘোষের বন্ধু পিন্টু দেবনাথ ও তার কর্মচারী বাপন ভৌমিককে মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাবুজ্জামানের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এদিকে, ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষের মৃত্যুতে শোকার্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই বন্ধ রেখেছেন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি দোকানে কালো কাপড় ঝুলিয়ে শোক প্রকাশ করা হচ্ছে। আগামী সোমবার প্রবীর ঘোষকে হত্যার প্রতিবাদে অর্ধবেলা মার্কেট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে দোকান মালিক সমিতি। ময়নাতদন্ত শেষে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কালির বাজারের ভোলানাথ জুয়েলার্সের সামনে নিয়ে আসা হয় প্রবীরের লাশ। সেখানে কিছুক্ষণের জন্য রেখে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় মাসদাইর শ্মশানের উদ্দেশে। এ সময় হত্যাকারী পিন্টু দেবনাথ ও বাপন ভোমিকের ফাঁসির দাবি করেন কালির বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও এলাকার লোকজন। এ ব্যাপারে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই)  মফিজুল ইসলাম জানান, রিমান্ডে আনা ঘাতক পিন্টু দেবনাথ ও বাপন ভৌমককে ডিবি কার্যালয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী প্রবীরের লাশের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধার করা হয়। প্রসঙ্গত, ১৮ জুন রাতে একটি ফোন কল পেয়ে চাষাড়ার বালুর মাঠের বাসা থেকে বের হয়ে যান প্রবীর ঘোষ। তিনি কালির বাজার এলাকার ভোলানাথ জুয়েলার্সের মালিক। সেদিনের পর থেকে তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। নিখোঁজের একদিন পরই তার বাবা ভোলানাথ বাদি হয়ে সদর মডেল থানায় জিডি করেন। এ ছাড়াও প্রবীর ঘোষের সন্ধান দাবি করে স্বর্ণপট্টির সোনা ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন সময় বিক্ষোভসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে দুই দফা স্মারকলিপিও দেয়। দীর্ঘ ২২ দিন নিখোঁজ থাকার পর সোমবার রাত ১১টার দিকে আমলাপাড়া কে বি সাহা রোডের ঠা-া মিয়ার বাড়ির সেপ্টিক ট্যাংক থেকে পৃথক তিনটি ব্যাগে ভর্তি পাঁচ খ-ে খ-িত প্রবীর ঘোষের লাশ উদ্ধার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018