BdNewsEveryDay.com
Sunday, July 22, 2018

‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা হলে তা হবে আদালত অবমাননার শামিল’

Wednesday, July 11, 2018 - 280 hours ago

৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণের বিষয়ে আদালতের আদেশ অগ্রাহ্য করার  সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক। আজ (বুধবার) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রম বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে যারা উদ্বিগ্ন, তাদের আশ্বস্ত করতে চাই, এ সরকার যেহেতু আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, তাই আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হস্তক্ষেপ করা হবে না এবং মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী জনগণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ আছে বলে মনে করি না।”

আ. ক. ম মোজাম্মেল হক বলেন , “ আদালতের সিদ্ধান্তে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণের আদেশ অগ্রাহ্য করে ভিন্নতর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো সুযোগ নাই । এটা করা হলে তা আদালত অবমাননার শামিল হবে।”

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে প্রচলিত ব্যবস্থায় ৫৬ শতাংশ আসনে কোটায় নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা। বেশ কয়েক বছর ধরেই এই কোটা ব্যবস্থা সংস্কারে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। তবে এপ্রিল মাসে তাদের আন্দোলন তীব্রতর হলে গত ১২ই এপ্রিল সংসদে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যদিও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, পুরোপুরি বাতিল নয়, কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন তীব্র করলে গত ২৭ জুন জাতীয় সংসদে নতুন কিছু বক্তব্য দেন যা আন্দোলনকারীদের হতাশ করে। সংসদে বিরোধী নেতা রওশন এরশাদ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবি করলে তা উড়িয়ে দেননি প্রধানমন্ত্রী। উপরন্তু তার বক্তব্যের প্রশংসা করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ''আমি বলে দিয়েছি থাকবে না। সেই থাকবে না'কে কিভাবে কার্যকর করা যায়, সেজন্য ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে দিয়ে একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে, যাতে এটা বাস্তবায়ন করা যায়। তবে আমি ধন্যবাদ জানাই মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতাকে যে, তিনি বলেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা থাকতে হবে। অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যই তো আজকে স্বাধীন।''

তার এই বক্তব্য এবং কোটা সংস্কারে সরকারের দীর্ঘসূত্রতা নতুন করে সংশয়ে ফেলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের। তারা আবার আন্দোলনে নামেন। অন্যদিকে সাধারণ ছাত্রদের ব্যানারে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ আন্দোলন প্রতিরোধের ডাক দেয় । এছাড়া , কোটা বিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন । #

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১১


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018