BdNewsEveryDay.com
Wednesday, November 21, 2018

বেলজিয়ামকে হারিয়ে ফাইনালে ফ্রান্স

Wednesday, July 11, 2018 - 838 hours ago

কামরুজ্জামান হিরু: উমতিতির গোলে বেলজিয়ামকে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো ১৯৯৮ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। অভিজ্ঞতার কাছেই হার মানতে হলো বেলজিয়ামের সোনালী প্রজম্মকে। বিশ্বকাপে (১৯৩৮ ও ১৯৮৬) বরাবরই ফ্রান্সের কাছে হেরেছে বেলজিয়াম। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হেরেই বিদায় নিতে হলো দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলা বেলজিয়ামকে। অপরদিকে ২০০৬ সালের পর আবারো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলো ফ্রান্স।

বিশ্বকাপে কখনোই ফাইনাল খেলা হয়নি বেলজিয়ামের।অপরদিকে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল ফ্রান্স।ইউরোপিয়ান দুই দলের লড়াই ছিল বেশ উপভোগ্য। উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণের পরও ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকে। শুরু থেকেই আক্রমণ-পালটা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। তবে ম্যাচে প্রথম ২০ মিনিট ছিল বেলজিয়ামের দখলে। ম্যাচের ১৫ মিনিটে প্রথম আক্রমণ করে বেলজিয়াম। ডি বক্সের বাইরে থেকে হ্যাজার্ডের শট গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায়। তিন মিনিট পার্থক্যে গোলের সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্সও। কিন্তু ডি বক্সের বাইরে থেকে মাতুইদির আচমকা নেয়া জোরালো শটটি গোলরক্ষক কুর্তোয়াকে পরাস্ত করতে পারেনি। 

পরের মিনিটেই সংঘবদ্ধ আক্রমণে ফ্রান্সের বক্সের ভিতরে বল পায় হ্যাজার্ড। জটলা থেকে তার নেয়া বাকানো শটটি ফ্রান্সের রক্ষনভাগের খেলোয়াড় ভেরান কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। তার মাথায় স্পর্শ না করলে নির্ঘাত এগিয়ে যেতে পারতো বেলজিয়াম। ২১ মিনিটে আবারো গোলের সুযোগ তৈরী করেছিল বেলজিয়াম। চ্যাডলির কর্নার থেকে অ্যাল্ডারওয়ের্ল্ডের নেয়া শটটি ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন ফ্রাঞ্চ গোলরক্ষক লরিস। এর পর থেকেই বেলজিয়ামের খেলায় ছন্দ পতন ঘটে। এই সুযোগে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করে ফ্রান্স। ৩৪ মিনিটে গোলের দেখা পেতে পারতো ফ্রান্স। ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণ শানিয়ে এমবাপের বাড়ানো বল বেলজিয়ামের অরক্ষিত বক্সে ঢুকে কুর্তোয়াকে একা পেয়েও স্ট্রাইকার জিরু লক্ষভ্রষ্ট শটে সুযোগটি নষ্ট করেন।  চারমিনিট পার্থক্যে পাভার্টের জোরালো শটটি কুর্তোয়া দক্ষতার সাথে রুখে দিলে গোলশূন্য শেষ হয় প্রথমার্ধ। 

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও ছিল বেলজিয়ামের। কিন্তু প্রথম সুযোগেই গোল পেয়ে যায় ফরাসিরা। ম্যাচের ৫১ মিনিটে গ্রিজমানের কর্নারে লাফিয়ে উঠে হেডে বল জালে পাঠান বার্সেলোনার ডিফেন্ডার উমতিতি ১-০। চার মিনিট পর এমবাপের দারুণ ব্যাকহিলে বল পেয়ে শট নিয়েছিলেন অলিভিয়ে জিরুদ। তবে আর্সেনালের এই ফরোয়ার্ডের শট আটকায় রক্ষণে। বদলি হিসেবে নেমেই ড্রিস মের্টেন্স সমতা ফেরানোর দুটো সুযোগ তৈরি করেছিলেন। ৬১ মিনিটে তার কাছ থেকে বল পেয়ে ঠিকমতো ভলি নিতে পারেননি অনেকটা ফাঁকায় থাকা ডে ব্রুইনে। ৮১ মিনিটে আক্সেল উইতসেলের বাঁক খাওয়া শট ফিরিয়ে আবারও ফ্রান্সের ত্রাতা লরিস। অন্য প্রান্তে যোগ করা ছয় মিনিটে গ্রিজমান ও কোরোঁতাঁ তোলিসোর দুটো শট ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়াতে দেননি কোর্তোয়া।

উল্লেখ্য টানা ২৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হারের স্বাদ পেল বেলজিয়াম। ‘সোনালী প্রজম্মরা’ পেল না প্রথম ফাইনালের স্বাদ। অপরদিকে ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে সর্বশেষ ফাইনালে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হেরেছিল ফরাসিরা।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018