BdNewsEveryDay.com
Sunday, July 22, 2018

যুদ্ধে বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোর পুনর্মিলনী নিয়ে আলোচনায় দুই কোরিয়া

Friday, June 22, 2018 - 734 hours ago

উত্তর কোরিয়ার পর্যটন কেন্দ্র মাউন্ট কুমগাংগে শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় এ আলোচনা শুরু হয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন ও উত্তরের শীর্ষ নেতা কিম জং উনের মধ্যে হওয়া দুই দফা বৈঠকের ধারাবাহিকতায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের একত্রিত করতে এ আলোচনার পরিকল্পনা হয়।

২০১৫ সালে সর্বশেষ দুই কোরিয়ার বিচ্ছিন্ন কিছু পরিবারের সদস্যদের একে অপরের সঙ্গে দেখা হয়েছিল।

পিয়ংইয়ংয়ের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও পারমাণবিক পরীক্ষার সূত্র ধরে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছালে পুনর্মিলনীর আয়োজনগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ে শীতকালীন অলিম্পিককে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। ওই ধারাবাহিকতায় এপ্রিলের মুন-কিম শীর্ষ সম্মেলনে পুনর্মিলনীর জন্য অগাস্টের একদিন দুই কোরিয়াতেই সাধারণ ছুটিরও পরিকল্পনা হয়।

“বিশ্বাস এবং একে অপরের প্রতি বিবেচনাশীল হয়ে আজকের আলোচনায় ভালো ফল আনতে সক্রিয় প্রচেষ্টা থাকা উচিত আমাদের। অতীতেও আমরা অংশীদার ছিলাম এবং এখনও আমাদের উচিত হবে নেতারা যে পথে পরিচালনা করছেন, সে পথে অগ্রসর হওয়া,” বলেন উত্তরের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও দেশটির কমিটি ফর দ্য পিসফুল রিইউনিফিকেশন অব দ্য ফাদারল্যান্ডের উপপ্রধান পাক ইয়ং ইল। 

যুদ্ধের সময় বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোর অনেক সদস্যের বয়স ৮০ পেরিয়ে যাওয়ায় তাদের পুনর্মিলনীকে ‘মানবিক কাজ ও মানব অধিকার’ হিসেবে দেখে আসছে দক্ষিণ কোরিয়া।

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত আগের পুনর্মিলনীগুলোতে মুখোমুখি হওয়া সদস্যদের চোখে আনন্দের অশ্রু ও উচ্ছ্বাস দেখা যাওয়ার কথা জানিয়েছে রয়টার্স।

বিচ্ছিন্ন পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্স ও ডাক যোগাযোগ পুনরায় শুরুরও প্রস্তাব দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

হুন্দাই রিসার্চ ইন্সটিটিউট থিঙ্কট্যাঙ্ক বলছে, পুনর্মিলনী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০০০ সালের পর থেকে দুই কোরিয়ার ২৩ হাজার ৬৭৬ বিচ্ছিন্ন সদস্য ভিডিওলিংক যোগাযোগের সুযোগ নিয়েছেন।

এ বছরের মার্চ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে আবেদন জানানো এক লাখ ৩১ হাজার ৫৩১ দক্ষিণ কোরীয়র ৫৬ শতাংশই মারা গেছেন বলেও জানিয়েছে তারা।

পুনর্মিলনীর আয়োজনগুলো শুরুর আগে চীন থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়া পক্ষত্যাগী ১২ নারীকে ফেরত চেয়ে আসছিল পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র পরিচালিত একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করা ওই নারীরা ২০১৬ সালে দলবেঁধে দক্ষিণে প্রবেশ করেছিলেন।

গত মাস পর্যন্ত উত্তরের রেড ক্রস দক্ষিণের কাছে ওই ১২ পক্ষত্যাগীকে ‘দ্রুত ফেরত’ দেওয়ার দাবি জানিয়ে এলেও পিয়ংইয়ং এখনো ওই শর্তে অটুট আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স। 

পুনর্মিলনী নিয়ে দুই কোরিয়ার আলোচনায় দক্ষিণের হয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির রেডক্রসের প্রেসিডেন্ট পার্ক কিউং-সিও।

“মানবিক এই বিষয় এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ৫৭ হাজার পরিবারের সদস্যদের কষ্ট দূর করতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চমৎকার আলোচনা হবে,” বৃহস্পতিবার সিউলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় এমন প্রত্যাশার কথা জানান পার্ক।

দক্ষিণ কোরিয়ার রেডক্রসের প্রতিনিধি দলটি বৃহস্পতিবার দক্ষিণের সীমান্ত শহর গোসেঅং ছেড়ে শুক্রবার ভোরে মাউন্ট কুমগাংগের বৈঠকস্থলে পৌছান বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

দুই কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের সূত্র ধরে চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে এক ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তরের শীর্ষ নেতা কিম জং উন কোরীয় উপদ্বীপের অ-পারমাণবিকীকরণে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হন।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018