BdNewsEveryDay.com
Sunday, September 23, 2018

সেরা ফর্মের নেইমারকে চাই

Friday, June 22, 2018 - 838 hours ago

আমার বিশ্বাস, শুক্রবার কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিল এবং নেইমার বুঝতে পারবে তাদের অবস্থানটা এখন কোথায়, কোন লক্ষ্য নিয়ে তারা বিশ্বকাপে এসেছে। আমি মনে করি, নেইমার ছাড়া ব্রাজিল অসম্পূর্ণ। কারণ নেইমার তার সেরাটা খেলে ব্রাজিলের জার্সিতে। তাই আমাদের দরকার সেরা ফর্মের নেইমার। ও দারুণ পেশাদার। আর এই পেশাদারি দিয়েই ব্রাজিলিয়ান প্রত্যাশার চাপ সামাল দেবে বলে আমার বিশ্বাস রয়েছে। ওর নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে যে সে-ই  সেরা এবং মাঠে সেটা প্রমাণ করা। চাপ তো সব সময়ই থাকে, তাই না? নেইমার কিংবা ব্রাজিলের যেকোনো খেলোয়াড়ের ওপরই সব সময় চাপ থাকে, এটা প্রত্যাশিতই। প্রত্যাশিত বলেই ব্যাপারটা স্বাভাবিক। আমরা সবাই জানি ব্রাজিলিয়ানদের কাছে শুধু চ্যাম্পিয়নরাই সমাদর পায়। এতে আমরা অভ্যস্তও হয়ে উঠেছি। আমার তো মনে হয় কখনো কখনো এ ধরনের চাপ দলকে উদ্বুদ্ধও করে। অন্য দেশের খেলোয়াড়দের ওপর এতটা চাপ নেই। ফুটবল ব্রাজিলের সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে। তাই প্রত্যাশার চাপ একজন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারকে বরং সাহায্যই করে।

ব্রাজিলে ১০ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড়টিকে সব সময় দলের সেরা তারকা মনে করা হয়। এই জার্সি গায়ে ওঠানো মানেই তোমার ওপর বাড়তি দায়িত্ব বর্তানো হলো। ব্রাজিলের মানুষ, মিডিয়া এবং সারা বিশ্বের দর্শকরাই আলাদা চোখে দেখে ১০ নম্বর জার্সি পরিহিত খেলোয়াড়টিকে। আমি মনে করি চাপের এই বোঝা নিতে তৈরি আছে নেইমার। ও সেরা ফুটবলটাই খেলবে। তিতে কোচ হওয়ার পর পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। দলটাকে অনেক গোছানো মনে হচ্ছে। ধারাবাহিকও হয়েছে। তিতের অধীনে ডিফেন্সে উন্নতি হয়েছে এবং আক্রমণভাগেও উইলিয়ান, গ্যাব্রিয়েল জেসুস, কৌতিনিয়ো, দগলাস কোস্তা ও রবের্তো ফিরমিনোর মতো অনেক বিকল্প এখন আছে। এর পরও বিশ্বের যেকোনো কোচই নেইমারের মতো একজনকে দলে পেতে চাইবেন। তিতেও ব্যতিক্রম নন। তিতের দলে সেরা ফর্মের একজন নেইমারের মতো কারো উপস্থিতি দলের আত্মবিশ্বাস অনেকখানি বাড়িয়ে দেয়। নেইমারকে নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি কথা হয়। আমি বিশ্বাস করি ব্রাজিলের আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক হওয়ার সামর্থ্য নেইমারের রয়েছে।

প্রতিটি বিশ্বকাপেই ব্রাজিল শুরু করে ফেভারিট হিসেবে। এটাই রীতি। মনে আছে, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে রানার্স-আপ হয়ে আমাদের কারো মন ভরেনি। মানুষও পাত্তা দেয়নি। একমাত্র চ্যাম্পিয়ন হলেই ব্রাজিল আপনাকে অভিবাদন জানাবে। কোনো টুর্নামেন্টে আপনি রানার্স-আপ কিংবা চতুর্থ হলেও একই পরিণত। গতবার যেমন চতুর্থ হয়ে বিস্তর সমালোচিত হয়েছিল ব্রাজিল। অথচ অন্য অনেক দেশেই কিন্তু মোটামুটি ভালো ফল করলেও প্রশংসা জোটে।

২০০২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে আমরা দারুণ খেলেছিলাম এবং চ্যাম্পিয়নও হয়েছিলাম। তবে সব সময় তো আর এক রকম যায় না। একালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব অনেক জটিল। সাম্প্রতিককালে ছোট দলগুলো প্রায়ই ড্র করে কিংবা জিতে চমকে দিচ্ছে বড় দলগুলোকে। অনেকে এটা দেখে চমকে যান। তবে আমরা খেলোয়াড়রা জানি এই চমকে দেওয়ার কাজটা অত সহজ নয়। প্রচণ্ড পরিশ্রমেরই সুফল।

কোস্টারিকার পর ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ সার্বিয়া। আমি নিশ্চিত ওরা ব্রাজিলকে নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেই মাঠে নামবে। আশা করি ওদের আমরা চমকে দিতে পারব। প্রস্তুতি পর্ব কিংবা গ্রুপ ম্যাচে অভাবিত কিছু ফল হয়ে থাকে। তবে টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঠিকই জ্বলে ওঠে ফেভারিটরা। এ জন্য আপনাকে শান্ত থাকতে হবে, খেলাটা উপভোগ করতে হবে। তাই বলে জাতীয় সংগীতের সময় কান্নার কোনো প্রয়োজন নেই। আবেগ চেপে রাখতে বলছি না তবে সেই আবেগ যেন ভেতরের আগুনটাকে বের করে আনে, চোখের জল নয়। আবেগের এমন বহিঃপ্রকাশে আমার আপত্তি আছে। এটা আপনার দুর্বলতার প্রকাশ, যা মোটেও সাহায্য করে না। মন থেকে সাফল্য চাইতে হবে, জয়ের নেশায় ছুটতে হবে মাঠে। বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ পেতে এর কোনো বিকল্প নেই। ক’জন আর জানেন বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ! আপনি অনুমানও করতে পারবেন না একটা বিশ্বকাপ জিতে ব্রাজিলিয়ানদের আপনার পরিবারকে কতটা আনন্দ উপহার দিতে পারবেন। খেলোয়াড়ি জীবনে মাঠে নামার সময় আমার মায়ের কথা মনে হতো, ভাবতাম কী করে তাঁকে গর্বিত করা যায়। সেটা ভেবে মাঠে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি। আশা করি এবারের ব্রাজিল দলের খেলোয়াড়রাও নিজেদের নিংড়ে দিবে বিশ্বকাপের মাঠে। 


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018