BdNewsEveryDay.com
Sunday, April 22, 2018

রাঙ্গুনিয়ায় নারী ও শিশুর খন্ডিত লাশ উদ্ধার

Monday, April 16, 2018 - 133 hours ago

রাঙ্গুনিয়ায় নারী ও শিশুর খন্ডিত লাশ উদ্ধার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় নারী ও শিশুর খন্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছে মহিলার মস্তক ও হাটু থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত একটি পা। এছাড়াও শিশুর কোমর থেকে পায়ের অংশ ও দুই হাত উদ্ধার হয়নি। তৃতীয় দিনের মত খন্ডিত বাকী অংশগুলো উদ্ধারে ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা যায়। উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের ঠান্ডাছড়ি ২০ নম্বর পাহাড়ের ঢালে ইছামতী নদীতে পাওয়া খন্ডিত লাশের ব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্ঠি হয়েছে।  লাশের খন্ডিত অংশ উদ্ধারের তিনদিন অতিবাহিত হলেও এখনো লাশের পরিচয় সম্পর্কে কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। এমতাবস্থায় উদ্ধারকৃত অংশগুলো ময়নাতদন্ত শেষে সৎকারের জন্য আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম বরাবরে হন্তান্তরের আবেদন করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে লাশের সঠিক বয়স, মৃত্যুর পূর্বে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা, হত্যার সঠিক সময় নির্ধারণ সহ লাশের ব্যাপারে জানা যাবে বলে পুলিশ জানায়। তবে এই ঘটনায় জড়িতদের ধরতে ও লাশের পরিচয় জানতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এদিকে মহিলা ও শিশুর খন্ডিত লাশের অংশ উদ্ধারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তিনি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান। এরআগে গত শুক্রবার (১৩ এপ্রিল) রাতে পুলিশের কাছে খবর আসে ইছামতী নদীতে অজ্ঞাত লাস ভাসছে। এই খবরে অভিযান চালিয়ে শনিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৬টার দিকে মহিলার গলা থেকে কোমর পর্যন্ত দুই হাত বিহীন ধর উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। একইদিন দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে একটি হাত উদ্ধার করে। যেটিতে একটি সোনালী রঙের হাত ঘড়ি ও কালো রঙের বোরকা ছিল। এরথেকে আরও দুই কিলোমিটার দূরে পায়ের হাটু থেকে পাতা পর্যন্ত কাটা একটি অংশ, কোমর থেকে দুই হাটুর উপর পর্যন্ত খন্ডিত আরও একটি অংশ পায়। যার যৌনাঙ্গ কাটা ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় ছিল। একই স্থানের নদীর চরে ঘাসের সাথে মাংসবিহীন অপর হাতটি পাওয়া যায়। আরও এক কিলোমিটার দূরে নদীর ঢালুর দিকে ভাসমান অবস্থায় আনুমানিক ১০/১১ বছর বয়সের একটি কন্যা শিশুর চুল সহ মাথা ও দুই হাতবিহীন গলার নিচ থেকে নাভি পর্যন্ত মাঝখান বরাবর কাটা ও দুর্গন্ধযুক্ত নাড়িভুঁড়ি বের করা অবস্থায় ধর উদ্ধার করা হয়। এভাবে ঠান্ডাছড়ি ২০ নম্বর থেকে নদীর ঢালুর দিকে ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাশ দুটির এই খন্ডিত অংশ ভাসছিল। রবিবার (১৫ এপ্রিল) উদ্ধারকৃত লাশ দুটির শরীরের এসব অংশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে উদ্ধার করা শরীর ও মাথা হচ্ছে মা-মেয়ের। মা ও মেয়েকে কেউ খুন করে নদীতে ফেলে দিতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ মো. আহসানুল কাদের ভুঞা বলেন, ‘থানায় কেউ এ ব্যাপারে অভিযোগ দেয়নি কিংবা লাশের দাবিদার কেউ আসেনি। তবে পুলিশ বাদী হয়ে পেনাল কোড ৩০২/০৪/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশ দুটির শরীরের বাকী অংশ উদ্ধার সহ তাদের পরিবারের সন্ধান চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় জড়িতদের ধরতে ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উৎঘাটনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ চমেক সূত্র জানায়, খন্ডিত অংশগুলো ময়নাতদন্ত চলছে। লাশের দাবিদার কেউ হাসপাতালে আসেনি।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018