BdNewsEveryDay.com
Tuesday, September 25, 2018

চট্টগ্রামে পুলিশ হেফাজতে পরিবহন কর্মকর্তার মৃত্যু

Friday, June 22, 2018 - 838 hours ago

চট্টগ্রামে প্রতারণার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে। নিহত মো. বাচ্চু শেখ (৩৫) আবদুল্লাহ পরিবহনের ইপিজেড কাউন্টারের ব্যবস্থাপক ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ইপিজেড কাউন্টার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আব্দুল্লাহ পরিবহন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গ্রেপ্তার করার পর বাচ্চু শেখকে মারধর করায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

সিএমপির সহকারী কমিশনার (বন্দর জোন) কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার পর বাচ্চু শেখ বুকে ব্যথা অনুভব করেন। সেখান থেকে তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুর ২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’

আবদুল্লাহ পরিবহনের চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবস্থাপক মো. তৌহিদ বলেন, ‘১৪ জুন ট্রলারের একটি পিতলের পাখা পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পাঠানোর জন্য বুকিং দেন ফিশারিঘাটের হাজি আবদুল হাই। এটি বাস থেকে চুরি হয়ে যায়। এটি উদ্ধারের জন্য আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি। যার জিনিস তার সঙ্গেও প্রতিনিয়ত যোগাযোগ চলছিল আমাদের। কিন্তু এরই মধ্যে তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন।’ 

তৌহিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ এসে কাউন্টারম্যান মো. বাচ্চু শেখের কাছে বিভিন্ন তথ্য জানতে চায়। একপর্যায়ে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে মারধর করলে তাঁর মৃত্যু হয়।’

এদিকে বাচ্চু শেখের মৃত্যুর ঘটনা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির নিয়মিত রেজিস্ট্রার বইয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক আমির মিয়া বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক মৃত্যু। চিকিত্সক জানিয়েছেন, হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। এটা বড় কোনো ঘটনা নয়। আর যেহেতু তাঁর পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি, সে জন্য আমরা সেটা খাতায় লিখিনি।’

জানা গেছে, বাচ্চু শেখকে চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করলে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ নিয়ে বাচ্চু শেখের পরিবারকে দ্রুত বাড়ির পথে পাঠিয়ে দেয়। বাচ্চু শেখের বাড়ি বাগেরহাট জেলায়। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তিনি নগরীর ইপিজেড এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

তবে সিএমপির উপকমিশনার (বন্দর) সৈয়দ আবু সায়েম জানান, ওই মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যদের কমিটি করা হয়েছে। অতিরিক্ত উপকমিশনার (বন্দর) আরেফিন জুয়েলকে প্রধান করে গঠিত কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন সহকারী কমিশনার (বন্দর) কামরুল ইসলাম ও ইপিজেড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওসমান গণি। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018