BdNewsEveryDay.com
Sunday, April 22, 2018

ইরানকে টার্গেট করে আরব লীগের বৈঠক: মুসলিম বিশ্বের সমস্যা নিয়ে কথা হয়নি

Monday, April 16, 2018 - 134 hours ago

আরব লীগের ২৯তম শীর্ষ সম্মেলন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় জাহরান শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কাতারের আমির ও ওমানের সুলতানের উপস্থিতি ছাড়াই এবারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ফিলিস্তিন সংকট, সিরিয়া, ইয়েমেন ও লিবিয়া পরিস্থিতি, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করা, আরব দেশগুলোর মধ্যে বিরাজমান মতপার্থক্য, তাদের ভাষায় মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলীতে ইরানের হস্তক্ষেপ প্রভৃতি বিষয় ছিল আরব লীগের শীর্ষ নেতাদের মূল আলোচ্য বিষয়। আরব লীগের শীর্ষ সম্মেলন এবং বৈঠক শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে মূলত মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পক্ষে ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। জাহরান সম্মেলনে সৌদি রাজা সালমান বিন আব্দুল আজিজ ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনকারীদের প্রতি ইরানের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে তেহরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন দেয়ার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেন।

সৌদি রাজা আরব দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য এমন সময় ইরানকে অভিযুক্ত করল যখন আমেরিকা ও ব্রিটেনের কাছ থেকে অস্ত্র সহযোগিতা নিয়ে সৌদি আরব ও আমিরাত ইয়েমেনে বছরের পর বছর ধরে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে এবং দরিদ্র এ দেশটিকে কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের মিথ্যা প্রচারণা এবং ষড়যন্ত্র থেকে বোঝা যায় তারা ইরাক ও সিরিয়ায় ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ইয়েমেন যুদ্ধেও ব্যর্থতা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ জাফর কানাদ সৌদি আরবের এ বিদ্বেষী আচরণের ব্যাপারে বলেছেন, "গোটা মুসলিম বিশ্ব অসংখ্য সমস্যার সম্মুখীন। এ অবস্থায় আরব লীগের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের ওপর মুসলিম বিশ্বের ভাগ্যের বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করছে।"

ফিলিস্তিন বর্তমানে মুসলমানদের প্রধান সমস্যা। জাহরানে আরব লীগের শীর্ষ বৈঠকে আশা করা হয়েছিল ফিলিস্তিন ও ইয়েমেনে চলমান দুঃখজনক পরিস্থিতি অবসানের বিষয়ে আলোচনা হবে, কিন্তু তা হয়নি। এ ছাড়া, আমেরিকা ও তার মিত্ররা সিরিয়ায় অন্যায়ভাবে যে হামলা চালিয়েছে সে ব্যাপারেও কোনো বক্তব্য আসেনি আরব লীগের শীর্ষ বৈঠক থেকে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আরব লীগের শীর্ষ সম্মেলনের বিবৃতি থেকে বোঝা যায়, এই জোট মূলত সৌদি আরবের আগ্রাসন ও যুদ্ধকামী নীতি বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এবারের বৈঠকে মুসলিম বিশ্বের প্রধান সমস্যা অর্থাৎ ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানে তারা কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি। তারা আরব লীগে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা দেশ সিরিয়ায় আগ্রাসনের কোনো নিন্দাতো করেনি বরং দেশটির সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার রাজনৈতিক উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি বলেছেন, "সৌদি আরবের চাপে অনুষ্ঠিত আরব লীগের বৈঠকটি রাজনৈতিক দিক থেকে এর কোনো মূল্য নেই। তিনি বলেন, বৈঠকে যে বিবৃতি দেয়া হয়েছে তারও কোনো গুরুত্ব নেই।"

যাইহোক, ইরান সারা বিশ্বের মজলুম জনগোষ্ঠীর পাশে রয়েছে এবং কোনো দেশের চাপের মুখে তেহরান তার অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াবে না।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৬

 

 


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018