BdNewsEveryDay.com
Sunday, April 22, 2018

ফরিদপুরে তামাক চাষে ঝুঁকছে কৃষক

Monday, April 16, 2018 - 140 hours ago

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: ফরিদপুরে প্রতিবছরই বাড়ছে তামাকের আবাদ। সিগারেট ও জর্দ্দার মতো তামাকজাত কোম্পানির লোভনীয় সুবিধার খপ্পরে পড়ে কৃষকরা ধান, গম মশুড়ি চাষের বদলে ঝুঁকছেন তামাক চাষের দিকে। এতে একদিকে চাষী ও তার পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে ফসলি জমি।

এমনকি ফরিদপুরে ডেইরি ফার্মের ঘাস চাষের জমিতেও তামাক চাষ করার খবর পাওয়া গেছে। ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর-দুর্গাপুর গ্রামে ডেইরি ফার্ম লি. প্রকল্পের নামে তামাক চাষ করা হয়েছে ওই এলাকার তিন একর জমিতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অম্বিকাপুর-ঈশান গোপালপুর সড়কের জোড়া সেতুর নিকট চাঁদপুর-দুর্গাপুর মৌজার তিন একর জমিতে তামাক চাষ করা হয়েছে। দুটি বাঁশের অংশ দিয়ে ওই জমির ভিতরে একটি সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। তাতে লেখা রয়েছে, চাঁদপুর ডেইরি ফার্ম লি.। অর্থাৎ উৎপাদিত পণ্য- দুগ্ধ খামার ও ঘাষ।

ওই জমির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)।

সরেজমিনে দেখে গেছে, সাইনবোর্ডে উৎপাদিত পণ্যের নাম হিসেবে দুগ্ধ খামার ও ঘাসের কথা বলা হলেও ওই তিন একর জমিতে কোনো গবাদিপশু দেখা যায়নি। কিংবা গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ঘাস রোপণ করা হয়নি। বরং সেখানে শোভা পাচ্ছে গাঢ় সবুজ রঙের বড় বড় আকারের তামাক গাছ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লেলিন চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি এ ডেইরি ফার্মের নামে ওই তিন একর জমিতে তামাক চাষ করেছেন।

এই বিষয়ে লেলিন চৌধুরী বলেন, আমি ওই তিন একর জমি বর্গা দিয়েছি। তার দাবি, ওই জমিতে তিনি তামাক চাষ করেননি, তামাক চাষ করেছেন বর্গা নেয়া কৃষক।

তিনি আরো বলেন, ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামে আমার বাড়ির নিকট এক একর জমির উপর বাউন্ডারিসহ গরু পালনের জন্য শেড করেছি। আগামী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে এ ফার্ম চালু করতে পারবো বলে আশা রাখি।

এদিকে ফরিদপুর জেলার সদর, বোয়ালমারী, সদরপুর, নগরকান্দা, ভাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় গত কয়েক বছর ধরে তামাকের আবাদ বেড়েই চলছে। আগে যেসব জমিতে আবাদ হতো ধান, গম, সরিষাসহ বিভিন্ন ফসল এখন সেই জমিগুলোতে আবাদ হচ্ছে তামাক।

ফড়িয়া আর দাদন ব্যবসায়ীদের টোপে পরে তামাক চাষ করছে এখানকার চাষীরা। অল্প খরচ ও অধিক লাভ পাওয়া যায় বলে চাষীরা দিনদিন তামাক চাষের দিকে ঝুঁকছে। এতে দিন দিন জেলায় তামাক চাষীর সংখ্যাও বেড়েই চলছে।

ঈশানগোপালপুর ইউনিয়নের তামাক চাষী হাবিব মাতব্বর জানান, তামাক চাষে কষ্ট একটু বেশি,তবে ভাল দাম পাওয়া যায় তাই এর চাষ করি।

একই এলাকার তামাক চাষী করিম মিয়া, ফজল খালাসিসহ বেশ কয়েকজন জানান, যে জমিতে তামাক চাষ হয় সেই জমির ঘাস গরু খায় না। কারণ তামাক ক্ষেতে অধিকমাত্রায় সারসহ কীটনাশক ব্যবহার করার ফলে ক্ষেতে মাটি ও ঘাস তিতা হয়ে যায়। আমরা যারা এই ক্ষেতে কাজ করি আমাদের হাত-পাও তিতা হয়।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ জেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। তবে, চাষীদের দাবি এ বছর ৩০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে তামাক আবাদ হয়েছে।

তামাক চাষ বিষয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহজাহান কবীর চৌধুরী বলেন, 'তামাকের ক্ষতির কারণ বলে শেষ করা যাবে না। ক্যান্সার, হার্ট অ্যাটাকসহ নানাবিধ রোগ তামাকের কারণে হয়।

তিনি জানান, শুধু সেবনে নয় এই চাষের সঙ্গে যারা জড়িত তারাও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে।'

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্ত্তী বলেন, আমি এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলেছি এবং তামাক চাষের বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক উল্লেখ করে এ কাজ থেকে তাদের বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছি।

তিনি জানান, চলতি মৌসুমে তামাকের আবাদ হয়েছে ১৫ হেক্টর জমিতে। যে জমিতে তামাকের আবাদ হয় সেই জমির উর্বরশক্তি হ্রাস পায়।

এদিকে জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুল হক বলেন, ডেইরি ফার্ম করতে হলে আমাদের কাছ থেকে নিবন্ধন করতে হয়। ওই ফার্মটি নিবন্ধন করেছে কিনা তা কাগজপত্র না দেখে বলতে পারছি না।

তবে আমাদের কাছ থেকে নিবন্ধন করা হলে সাইনবোর্ডে নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করার কথা।

তিনি আরো বলেন, ডেইরি ফার্মের নামে ঘাসের বদলে তামাক চাষ করা অন্যায়। বিষয়টি ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নজরদারির বিষয়।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রভাংশু সোম মহানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই।

ডেইরি ফার্মের নামের জমিতে তামাক চাষ করা হলে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথার জানান তিনি।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018