BdNewsEveryDay.com
Thursday, December 13, 2018

পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, জেলা প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ

Wednesday, June 13, 2018 - 838 hours ago

পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, জেলা প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেশের পাঁচ জেলায় বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। জেলাগুলো হলো কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও মৌলভীবাজার। বন্যায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতিসহ যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এই পাঁচ জেলা প্রশাসনকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুম থেকে এই জেলাগুলোসহ দেশের সব জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুম ইনচার্জ (উপ-সচিব) আব্দুল কাদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানতে চাইলে আবদুল কাদের বলেন, বন্যাপ্রবণ পাঁচ জেলার প্রত্যন্ত-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণকে সরিয়ে আনতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের দুই উপজেলা ফটিকছড়ি ও রাউজানের বাসিন্দাদেরও সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। তাদের বন্যা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে। রাঙামাটির নানিয়ারচরে পাহাড়ধসে নিহতদের সাহাযার্থে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে প্রতি পরিবারকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা অনুদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্যাকবলিতদের সাহাযার্থে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। উপ-সচিব জানান, ইতোমধ্যে জেলাগুলোর বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুল কলেজের রুমগুলো বসবাসের উপযোগী করে খোলা রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। এদিকে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, ‘জানমালের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নানিয়ারচরে যেখানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে, সেটি অত্যন্ত দুর্গম এলাকা। আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েও আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে সেখানে পৌঁছাতে না পেরে ফিরে এসেছি। তবে জেলার সর্বত্র স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। আশা করছি, আর কোনো দুর্ঘটনা যেন না ঘটে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছি।   এদিকে এ বছরও দেশের ৩৭টি জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। অতি বৃষ্টি ও ভারী বৃষ্টির ফলে এ সব জেলায় বন্যার সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। সপ্তাহের পাঁচদিনই সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ্ কামাল। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, বজ্রপাত, ভারী বর্ষণ ও অতিবর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যাসহ যেকোনও দুর্যোগ মোকাবিলার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে প্রতি জেলার ডিসিকে ২০০ টন চাল ও পাঁচ লাখ নগদ টাকাসহ দুইশ বান্ডিল ঢেউ টিন আপদকালীন মুজদ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এ সব জেলার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা ভবনগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্যা হলে বা পরিস্থিতি খারাপ হলে বন্যাদুর্গতরা যেন সেখানে আশ্রয় নিতে পারে। যেকোনও ধরনের দুর্যোগের জন্য আমরা আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। এবার যেন একজন মানুষও মারা না যায়, এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ। ত্রাণমন্ত্রী বলেন, আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস পাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে আমরা আগাম প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের প্রস্তুতি শেষ। প্রস্তুতি কাজে তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনী ও নৌ বাহিনীকেও প্রস্তুত থাকলে বলা হয়েছে। জানতে চাইলে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব শাহ্ কামাল বলেছেন, বংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে দুই লাখ রোহিঙ্গা পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে আছে। এ কারণে তাদের কুতুপালং ও বালুখালীর মাঝখানে একটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হচ্ছে। ৫০ হাজার পরিবারের এই ২ লাখ সদস্যের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার পরিবারের একলাখ রোহিঙ্গাকে ইতোমধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকিদেরও সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এদিকে, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ফেনীতে বেশ কয়েকটি নদীতে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এসব নদীর পানি আরও বাড়ছে। নদীর পানি উপচে বেশ কয়েক জায়গায় বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জ শহর ঘেঁষে বয়ে যাওয়া খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ১৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নদীর পানি বাড়তে থাকে। ফলে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে হবিগঞ্জ শহরসহ আশপাশের গ্রামগুলো। খোয়াই নদীর পানি বাড়তে থাকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। শহরের অনেক লোকজন খোয়াই নদীর বাঁধের ওপর রয়েছে। কোনও স্থানে যাতে ফাটল সৃষ্টি না হয় সেদিকে নজর রাখছে স্থানীয়রা। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৯টা থেকে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ১৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই মুহূর্তে শহরবাসী ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। জরুরিভাবে মোকাবিলা করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড অতিরিক্ত বালির বস্তা মজুত রেখেছে, যাতে বাঁধের কোনও স্থানে লিকেজ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক মেরামতের ব্যবস্থা করা যায়।’ মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মনু নদী এবং কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় গ্রামবাসী বাঁধরক্ষার চেষ্টা করছেন। কুলাউড়ার চক রণচাপ ও মাদানগর এলাকায় বাধ রক্ষায় স্থানীয় গ্রামবাসী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৩ জুন) মনু নদীর পানি বিপদসীমার ১৭৫ সেন্টিমিটার এবং ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে মঙ্গলবার (১২ জুন) মনু নদীর পানি বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার এবং ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, ‘ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে প্রবল বর্ষণের কারণে পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতের আঘাতে প্রতিরক্ষা বাঁধের ওপর স্থাপিত বালির বস্তা ভেসে যেতে শুরু করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ মনু সেতুর উত্তর দিকের গাছের পাইলিংও ভেঙে যাচ্ছে।’ কুলাউড়ার হাজীপুর এলাকার বাসিন্দা ছয়ফুল আলম জানান, ‘বিভিন্ন এলাকায় গ্রামবাসীরা বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন। হাজীপুর ইউনিয়নে মনু রেল ব্রিজের কাছে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া মাতাবপুর, মাদানগর, চক রণচাপ, হাসিমপুর, বাড়ইগাঁও ও মন্দিরাসহ ৬-৭টি এলাকায় নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।’ তিনি আরও জানান, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে চক রণচাপ ও মাদানগরে বাঁধ রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন এলাকাবাসী। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবার সাহায্য চাওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় টুকরি, কোদাল নিয়ে বাঁধের ওপর মাঠি ভরাট করে পানি আটকানোর চেষ্টা করছেন এলাকাবাসী। পানি বাড়তে থাকলে মনু নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।’ অপরদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে প্রবেশ করেছে লোকালয়ে ও ফসলি জমিতে। এতে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ৯টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কমলগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষক আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘মঙ্গলবার ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। আর বুধবার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেভাবে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে ধলাই নদীর পানি আরও বেড়ে যাচ্ছে।’ কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমদ বলেন, ধলাই নদীর ভাঙনের ফলে ওই গ্রামে আড়াইশ’ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফেনী প্রতিনিধি জানান, অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মহুরী নদীর বাঁধের আটটি অংশ ভেঙে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে এই দুই উপজেলার বহু রাস্তাঘাট, ফসলি জামি, বাড়িঘর ও মৎস্য খামার পানিতে তালিয়ে গেছে। ফুলগাজী বাজারে নদীর পানি ঢুকে দোকানপাটের বেশিরভাগ মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গতকাল বুধবার ভোরে নদীর পানি বিপদসীমার তিন মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বাঁধগুলো ভেঙে যায়। ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কহিনুর আলম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘নদীর বাঁধের পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের দুটি অংশ ও ফুলগাজী উপজেলা সদরের উত্তর দৌলতপুর, ধনিমুড়া, বৈরয়া ও বণিকপাড়া অংশের বাঁধ ভেঙে যায়। বাঁধের ফাটল স্থানে পানির স্রোতের কারণে বাঁধের কাজ করতে পারছেন না তারা।’ তিনি বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে কতটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে সে বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে জানার চেষ্টা করছি।’ এদিকে ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম জানান, তার উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ দৌলতপুর , ধনিয়া মোড়া, শ্রীপুর, বণিকপাড়া ও উপজেলা সদরের একাংশসহ ১০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ব্যাপক মালামালের ক্ষতি হয়েছে। যারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন তাদের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার চেষ্ট চলছে বলেও জানান উপজেলা চেয়ারম্যান।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018