BdNewsEveryDay.com
Wednesday, October 17, 2018

ঈদের আনন্দ নেই মণিরামপুরের পাঁচ শতাধিক নন-এমপিও শিক্ষক পরিবারে

Wednesday, June 13, 2018 - 838 hours ago

ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ আর ঈদ মানেই নতুন পোশাকের বাহার; এগুলোর কোনোটিরই দেখা মেলে না যশোরের মণিরামপুরের নন-এমপিও শিক্ষক পরিবারে। দীর্ঘদিন ধরে বেতনভাতা না থাকায় এসব পরিবারের ঈদের আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে। ঈদ আসে তাদের জন্য দুঃখ আর অভিশাপ হয়ে। ঈদ এলে এসব পরিবারে নেমে আসে ভোগান্তি আর অশান্তি। স্ত্রী-সন্তানদের চাহিদামত নতুন পোশাক দিতে না পারা তাদের জন্য হয়ে ওঠে অতি কষ্টের। অনেককে আবার ধারদেনা করে মিটাতে হয় এসব চাহিদা। যাদের সেই সমর্থটুকুও নেই তাদের চাপা কষ্টে বুক ভারী হয়ে ওঠে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, বেতনভাতাবিহীন এমন শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচশ। আর নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৮৮টি। এর মধ্যে রয়েছে ৩৯টি এবতেদায়ি, ছয়টি নিম্ন মাধ্যমিক, ১৯টি মাধ্যমিক, আটটি দাখিল, পাঁচটি কলেজ এবং চারটি আলিম ও ফাজিল মাদ্রাসা। যার মধ্যে ১০টি এবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা নামমাত্র ১২০০ টাকা করে ভাতা পান। বেতনভাতাবিহীন এসব শিক্ষক কেউ কেউ কাজ করছেন ১০-১২ বছর, কেউবা আবার ২১। নন-এমপিও এসব শিক্ষক কেউ কেউ গ্রাম্য চিকিৎসক, ছোট ব্যবসা এমনকি মাঠে বর্গা দিয়ে সংসারে কোনরকম দু’বেলা অন্ন জোগান। সারা বছর একটা ধারায় চললেও বিপত্তি ঘটে ঈদের মতো বড় কোনো উৎসবে। এই সময়ে বেতন ভাতা না পাওয়ার কষ্টে এসব শিক্ষকদের দম বন্ধ হয়ে আসে। একই সাথে চাকরি করা অন্য শিক্ষকরা যখন বেতন তুলে বাসায় ফেরেন তখন তাদের কষ্টের সীমা থাকে না। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়া কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা বললে এমনটি জানিয়েছেন তারা। উপজেলার এইচ আর এইচ সম্মিলনী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম জানান, বেতন বাদে জীবন কেমন চলে সেটা অবশ্যই আপনাদের জানা আছে, তারপরও বলছি, এই ঈদ আসলে কোনো ঈদই না। মাসিক বেতন ছাড়া একজন শিক্ষকের জীবন কিভাবে কাটে সেটা ব্যাখ্যা করা সম্ভব না। ঈদ আশাটা তাদের জন্য অভিশাপ। এটা একটা বঞ্চনা। সবাই যখন হাসি-খুশি মনে ঈদের মাঠে যান, সেটা দেখে এসব শিক্ষকরা যে স্ট্রোক করে মারা যান না, সেটাই আল্লাহর একটা রহমত, অভিমত এই শিক্ষকের। শরিফুল ইসলাম জানান, ২০০০ সালে এমএ পাস করে এই প্রতিষ্ঠানে জয়েন্ট করেছি। ১৮ বছর ধরে বিনা বেতনে খাটছি। আমার প্রতিষ্ঠানে আট জন শিক্ষক কর্মচারী আছেন। তার মধ্যে দুই-তিন জন ধান কাটার মৌসুমে দিনমজুরির কাজও করেন। ইত্যা সুইজগেট দাখিল মাদ্রাসার সুপার রুহুল আমিন জানান, ঈদ বলতে চোখের পানি ছাড়া আর কিছুই নয়। ঈদ আসলে আমরা ছেলেমেয়েদের সামনে দাঁড়াতে পারি না। কষ্টে আমাদের চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে। অনেক আশায় ছিলাম এবার এমপিও পাব। কিন্তু বাজেট ঘোষণা হওয়ার পর আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারছি না। ২১ বছর ধরে আমরা ১৮ জন শিক্ষক কর্মচারী এখানে কাজ করছি। আর শিক্ষকতা করার ইচ্ছা নেই। হাসাডাঙ্গা স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসার সুপার আক্তারুজ্জামান বলেন, ১০-১২ বছর বিনা বেতনে চাকরি। পল্লীতে চিকিৎসা দিয়ে কোনোরকম সংসার চলে। আমার প্রতিষ্ঠানের আলমগীর নামের এক শিক্ষকের দুইটা সন্তান। মাঠে কাজ না করলে তার ভাত জোটে না। এসব পরিবারে আবার ঈদ! ধলিগাতী সুন্দলপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম ওয়াদুদ জানান,আমার প্রতিষ্ঠানে আলিম পর্যায়ে ছয়জন শিক্ষক-কর্মচারী আছেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা বেতনভাতা পান না। ওদের সামনে আমরা যখন বেতন নিয়ে বাড়ি যাই, তখন সত্যিই লজ্জায় পড়তে হয়। এতবড় একটা উৎসবে তাদের হাতে কিছু দেওয়ার সুযোগ হয় না। ওরা খালি হাতে বাড়ি ফেরে। ভাবাই যায় না! তিনি বলেন, শুনেছি, পাড়দিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষকরা অর্থের অভাবে কেরোসিনও কিনতে পারেন না। রাতে তাদের সন্তানদের আলোর অভাবে পাটকাঠি জ¦ালিয়ে ভাত খেতে হয়। এটা সত্যিই লজ্জার ও দুঃখের। তবে বেতন, ভাতা ও বোনাসবিহীন এসব শিক্ষকদের ঈদ কষ্টে কাটলেও সবাই আশায় বুক বেধে আছেন; হয়তো সরকার তাদের দিকে তাকাবেন। দ্রুতই তাদের দুঃখ মুচবে। অন্যথায় তারা আবারো আন্দোলনে নামবেন, এমনটি জানিয়েছেন নন-এমপিও শিক্ষকরা।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018