BdNewsEveryDay.com
Thursday, December 13, 2018

রাজশাহীতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে আম

Wednesday, June 13, 2018 - 838 hours ago

রাজশাহীতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে আম আমের দেশ রাজশাহী। আমের মৌসুমে আম তো থাকবেই। কিন্তু রাজশাহীতে এবার আমের আধিক্য একটু বেশিই। চাষিরা বলছেন, এবার গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল। আবার ঝড়ঝাপ্টায় আম ঝরেছেও কম। ফলে আমের ফলন বেশ ভালো। ভরা মৌসুমে তাই চারদিকে শুধু আম আর আম। জেলার আম চাষিরা বলছেন, এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম হওয়ায় আমের ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ‘২ লাখ ১৭ হাজার ৭৫০ টন’ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্য আবহাওয়ার কারণেই এবার আম উঠেছে দেরিতে। গেল সপ্তাহের আগের সপ্তাহেও রাজশাহীতে তেমন গরম পড়েনি। ফলে গাছে আম পেকেছে দেরিতে। তবে কয়েক দিন ধরেই রাজশাহীর আবহাওয়া বেশ গরম হয়ে উঠেছে। আর এতেই গাছে দ্রুত পাকতে শুরু করেছে আম। বাগানগুলোতে চলছে আম পাড়ার কর্মযজ্ঞ। তারপর সেই আম উঠছে হাটে-বাজারে। রাজশাহীতে সবচেয়ে বড় আমের হাট বসে জেলার পুঠিয়া উপজেলায়। বানেশ্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিস প্রাঙ্গণের এই হাট এখন আমে ভরপুর। হাটের জায়গা ছাড়িয়ে আমভর্তি ভ্যানগুলো ক্রেতার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে মহাসড়কের ধারে। সেখানেই চলছে দরদাম, বেচাকেনা। ট্রাকভর্তি হয়ে আম যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। আবার রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক হয়ে হাটের দিকে ছুটে যাওয়া ভ্যানভর্তি আমগুলোও দৃষ্টি কাড়ছে পথের যাত্রীদের। বানেশ্বর হাটে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি ভ্যানে আমের ঝুড়ি সাজিয়ে পাইকারি ক্রেতাদের জন্য অপেক্ষা করছেন চাষিরা। কোনো কোনো ভ্যানে চারটি অথবা কোনো ভ্যানে তারও বেশি আমের ঝুড়ি সাজানো। বেশিরভাগ আমের আড়তদার আর পাইকারি ক্রেতারা ওজন না করে ঝুড়ি হিসাব করেই কিনছেন আম। তবে কেউ কেউ কিনছেন ওজন করেও। তখন ৪৬ কেজিতে ধরা হচ্ছে এক মণ। এভাবে আম কিনে হাটের আশপাশে থাকা নিজের আড়তে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। হাটের অন্যপাশে আম খুচরাও বিক্রি করা হচ্ছে। একই হাটে পাইকারি আর খুচরা আমের দামের পার্থক্য মণপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। হাটের ইজারাদার ওসমান গণি জানিয়েছেন, এবার আমের মৌসুম শুরু হয়ে গেলেও বাজার জমতে সময় লেগেছে। প্রথম দিকে আবহাওয়া ঠা-া থাকায় আম পাকছিল কম। তবে চার-পাঁচ দিন আগে থেকে আমের হাট জমজমাট। প্রতিদিন এখন অন্তত এক হাজার মণ আম কেনাবেচা হচ্ছে এই হাটে। কয়েক কোটি টাকার লেনদেন করছেন চাষি-ব্যবসায়ী আর আড়তদাররা। ভ্যানে চার ঝুড়ি ল্যাংড়া আম নিয়ে বসেছিলেন পুঠিয়ার সান্দাবাড়ি গ্রামের চাষি আবদুল মমিন। তিনি জানান, আম পাকছিল না। হঠাৎ করি গরম পড়া শুরু করার সাথি সাথি গাছেত আম পাকি গ্যাছ। আমি ল্যাংড়ার দাম চাই হাজার ট্যাকা। আড়তদারে কয় আটশো। তাই বিককিরি করিনি। তবে এই দামেই আড়তদারের কাছে চার মণ ল্যাংড়া আম বিক্রি করে দিলেন কাজীপাড়া গ্রামের গ্রামের চাষি রবিউল ইসলাম। তারপর বললেন, ‘কিচ্ছু করনের নাই। সামনে রিদ (ঈদ), রিদ তো করতি হোবি! তাই তড়িঘড়ি করি আম ভাঙিছি। বিককিরি না করি উপায় নাই। বেটা-বিটির নতুন পোশাক কিনি বাড়ি যাব।’ বানেশ্বর বাজারে চাষিদের কাছ থেকে পাইকারি আম কেনেন পুঠিয়ার বালিয়াঘাটি সানারপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম। এক চাষির কাছ থেকে তাকে লক্ষণভোগ, হিমসাগর, গোপালভোগ এবং ল্যাংড়া জাতের পাঁচ ঝুড়ি আম কিনতে দেখা গেল ৮ হাজার টাকায়। তিনি জানালেন, ঝুড়িতে গড়ে দুই মণ করে হবে এসব আম। তিনি ঝুড়ি ধরেই কিনেছেন, ওজন করে নয়। উপজেলার হলিদাগাছি গ্রামের আম চাষি আবদুর রউফ জানান, তিনি মণ হিসেবে আম বিক্রি করতে চান। হাটের নিয়ম অনুযায়ী, ৪৬ কেজিতেই ধরতে চান এক মণ। কিন্তু আড়তদার চান ঠিকায় কিনতে। তাই সকাল থেকে তিনি আম বিক্রি করতে পারেননি। আবদুর রউফ জানান, রোজার কারণে আমের চাহিদা কম। ঈদের পর আমের চাহিদা বাড়বে। তখন দামও বাড়বে। বানেশ্বর হাটের ব্যবসায়ীরা জানান, হাটে এখন প্রতিমণ গোপালভোগ পাইকারিতে এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৬০০, হিমসাগর এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০, ল্যাংড়া ৯০০ থেকে এক হাজার, লক্ষণভোগ ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নানাজাতের গুটি আম বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে। বাজারে আম্রপালি ও ফজলি আম উঠবে ঈদের পর। রাজশাহীতে গাছ থেকে আম নামানোর ক্ষেত্রে গেল কয়েক বছরের মতো এবারো সময় বেঁধে দিয়েছিল প্রশাসন। বেঁধে দেওয়া সময় মত, ২০ মে থেকে গোপালভোগ জাতের আম নামানো শুরু হয়। হিমসাগর ও লক্ষণভোগ নামানো যাচ্ছে ১ জুন থেকে। আর ল্যাংড়া নামছে ৬ জুনের পর থেকে। আম্রপালি ও ফজলি ১৬ জুন এবং আশ্বিনা জাতের আম ১ জুলাইয়ের আগে চাষিরা গাছ থেকে পাড়তে পারবেন না। জেলায় এ বছর ১৭ হাজার ৪৬৩ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। গাছের সংখ্যা ২৪ লাখ ২৬ হাজার ১৮৯টি। সেসব গাছ থেকে এবার ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৫০ টন আমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারত করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। জেলার আম চাষিরা বলছেন, এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম হওয়ায় আম উৎপাদনের এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018