BdNewsEveryDay.com
Sunday, June 24, 2018

চকরিয়া-পেকুয়ায় ঝুঁকিতে ৩০ হাজার মানুষ

Wednesday, June 13, 2018 - 256 hours ago

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগ ও চট্টগ্রাম দক্ষিন বনবিভাগের অধীনে একাধিক পাহাড়ে গত দুইযুগ ধরে মৃত্যুঝুঁকিতে বাস করছে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার এ পাহাড়ে বসবাসরত মানুষকে প্রতিবছর বর্ষাকালের শুরুতে স্থানীয় প্রশাসন নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করে। কিন্তু বারবার বললেও বাসিন্দারা তাতে কর্ণপাত করছে না। উল্টো প্রতিবছর বনবিভাগের পাহাড় দখল করে চলছে নতুন বসতি স্থাপনের কাজ। এ অবস্থার কারনে বর্তমানে পাহাড়ে বেড়ে চলছে নিন্ম আয়ের মানুষের অবৈধ বসবাস। ফলে চলতি বছরের বর্ষাকালের শুরুতে এসব পাহাড়ি জনপদে বড় ধরণের পাহাড় ধসের  দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

গত ১২ জুন দুপুরে চট্টগ্রাম দক্ষিন বনবিভাগের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের আধার মানিক নামের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় স্থানীয় ওয়াহিদুল ইসলামের নতুন তৈরি করা বাঁশের বেড়া ও টিন ঘরটি পাহাড় ধসে নিমিষে মাটিচাপা পড়ে ভেঙ্গে গেছে। এ সময় ভাগ্যক্রমে পরিবারের সবাই প্রাণে বাঁচলেও আহত হয় গৃহকত্রী মরতুজা। বর্তমানে পরিবার নিয়ে চরম আতংকে রয়েছেন বলে জানান আহত মরতুজা। মঙ্গলবার বিকেলে এ প্রতিবেদকের কাছে তিনি এ শঙ্কার কথা জানান।

স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ঘরে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠী পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করে আসলেও তাদের সরিয়ে নিতে বা পুর্নবাসন করতে উদ্যোগী নয় স্থানীয় প্রশাসন। তাই বড় ধরণের কোন দুর্ঘটনা ঘটলে, এর দায় এড়াতে পারবে না তারা। এমনকি এই প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসের আশংকা থাকা সত্বেও তাদের সরিয়ে নিতে কোন প্রকার উদ্যোগ বা বসবাসকারীরা সরে যেতে সচেতনতা তৈরি করা হয়নি।

সরেজমিন দেখা গেছে, চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছন্যাকাটা, বানিয়ারছড়া, মাহমুদনগর, পাহাড়তলী, ভিলেজার পাড়া, হারবাং ইউনিয়নের মুসলিমপাড়া, শান্তিনগর, ফইজ্যার ডেবা, লম্বা ঘোনা, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ইসলামনগর, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের উত্তর মানিকপুর, খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া, নয়াপাড়াা, কাকারা ইউনিয়নের বার আউলিয়া নগর, শাহ ওমরনগর, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়াা, ছগিরশাহ কাটা, ছায়েরা খালী, ডুলাহাজারা ও বমু বিলছডড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় অন্তত ২০হাজার মানুষ চরম ঝুঁকিতে বাস করছে। 

একই ভাবে পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের সংগ্রামের জুম, বটতলীর গহীন অরণ্য মধুখালী, হারখিলারঝিরা, আধার মানিক, পুর্ব ধনিয়াকাটা, বারবাকিয়া ইউনিয়নের আবাদি ঘোনা, পুর্ব পাহাড়িয়াখালী, চাকমার ডুরি, ছনখোলার জুম ও শিলখালী ইউনিয়নের জারুরবুনিয়া, সাপের গাড়া, মাদাবুনিয়া, মাঝের ঘোনা, চিতার ঝিরি, নাপিতার ঘোনা, সবুজ পাড়া, ঢালার মুখ, পুর্ব শিলখালীতে অন্তত ১০ হাজার মানুষ গত দুই যুগ ধরে এসব মানুষ পাহাড়ি জনপদে বাস করছে।

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হক মাহবুব মোরশেদ বলেন, চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জে সাড়ে তিন হাজার ও ফুলছড়ি রেঞ্জে চার হাজার পরিবারসহ বনবিভাগের ছয়টি রেঞ্জে অন্তত ১৫ হাজার পরিবার বসবাস করছে। তবে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে দুই হাজার পরিবারের সাত হাজার মানুষ। পাহাড়ধসের ঝুঁকি থেকে এসব পরিবারকে উচ্ছেদে প্রশাসন উদ্যোগ নিলে বনবিভাগের পক্ষথেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোজাম্মেল হক শাহ চৌধুরী জানান, চুনতি রেঞ্জের আওতাধীন চকরিয়া উপজেলার হারবাং ও বরইতলী ইউনিয়নে আরও এক হাজার পরিবারের তিন হাজার মানুষ চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাহাড়ের ঢালুতে বাস করছে। পাহাড় ধসে ঝুঁকি কমাতে চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই তাদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আজিমুল হক বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বেশিরভাগ লোক দরিদ্র। এরা অভাব-অনটনে জর্জরিত হয়ে ও নদী ভাঙনের শিকার হয়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে বসবাস করছে।

বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন, এসব পরিবারকে উচ্ছেদ না করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে এ মুহূর্তে তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি থেকে বাঁচাতে হলে প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদে সরিয়ে নিতে হবে।

কুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল করিম বলেন, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে বনবিভাগের রেঞ্জা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরউদ্দিন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গত সোমবার থেকে উপজেলায় পাহাড় যেসব ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস রয়েছে, সেসব ইউপি চেয়ারম্যানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল থেকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিং শুরু করেছে। যাতে পাহাড়ে বসবাসরত লোকজন নিরাপদে সরে যেতে পারে। 

ইত্তেফাক/নূহু


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018