BdNewsEveryDay.com
Wednesday, December 12, 2018

বাংলাদেশের ৪ জেলায় আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি: পাহাড়ে প্লাবন

Wednesday, June 13, 2018 - 838 hours ago

বাংলাদশে পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের আগে আকস্মিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি ও ফেনীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গবাদি পশুর মৃত্যুসহ ঘরবাড়ি ও অনেক ফসলি জমি নষ্ট হয়ে গেছে।

পূর্বাঞ্চলীয় জেলা মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর একাধিক স্থানে বাঁধ ভেঙে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়ে যাচ্ছে। ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়াতে গ্রামবাসী অনেকে পরিবার পরিজন  এবং  গবাদি পশু নিয়ে মনু ও ধলাই নদীর বাঁধের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজানে বৃষ্টিপাতের কারণে খরস্রোতা  এ নদী দুটিতে অস্বাভাবিক পানি বাড়ছে। আজ (বুধবার) দুপুর নাগাদ মনুনদী রেলওয়ে ব্রীজের কাছে বিপদসীমার এক দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার এবং শহরের চাঁদনীঘাট এলাকায় ১০ দশমিক ৭১ সেন্টিমিটার বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পাঁচটি স্থানে ও রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত কুলাউড়া উপজেলার মনু নদীর ৪টি স্থানের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে দ্রুত ফসলি জমি তলিয়ে পানি প্রবেশ করছে গ্রামে। নদী ভাঙনে কুলাউড়া ও কমলগঞ্জে প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। শমশেরনগর-কুলাউড়া সড়কের একাংশ তলিয়ে যাওয়ায় সকাল ১১টা থেকে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। বন্যায় মৌলভীবাজার-কমলগঞ্জ উপজেলা ও আদমপুর সড়কে হাঁটুপানি হওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনদিনের টানা বর্ষণে ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। মঙ্গলবার বিকালে কমলগঞ্জ পৌর এলাকার করিমপুর, চৈতন্যগঞ্জ, মাধবপুরের হীরামতি, মুন্সিবাজার ইউনিয়নের কোনাগাঁও, বাদেউবাহাটা, আদমপুরের হকতিয়ারকলা, ঘোড়ামারা এলাকায় নতুন ও পুরোনো ভাঙন দিয়ে পানি বেরিয়ে প্লাবিত হচ্ছে গ্রাম।

কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জনাব আলী বলেন, মঙ্গলবার শবে কদরের রাত সাড়ে ৮টায় আমলা বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন মনু প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন শুরু হলে গ্রামবাসী ও বিজিবি সদস্যরা মিলে শতাধিক বস্তা বালু দিয়ে এ স্থান রক্ষা করেন। তবে রাত আড়াইটায় বাঘজুর ও তেলিবিল গ্রাম এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে দ্রুত গতিতে ঢলের পানি গ্রামে প্রবেশ করে। এসময় পানিতে বসতঘরসহ ফসলি জমি তলিয়ে যায়। বাঘজুর, তেলিবিল, চাঁনপুর, খাম্বারঘাট, শরীফপুর, বটতলা, সঞ্জরপুর গ্রামের দুই হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েন।

পাহাড়ে প্লাবন

ওদিকে, তিন দিনের অবিরাম বৃষ্টিপাত ও সীমান্ত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাচালং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ির উপজেলার ১৪টি গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। গ্রামগুলো হলো- করেঙ্গাতলী, বাঘাইহাট, বঙ্গলতলী, রূপকারী, কদমতলী, তুলাবান, গুচ্ছগ্রাম, মুসলিম ব্লক, ইমাম পাড়া, মাস্টার পাড়া, গুনিয়া পাড়া, সরকার পাড়া, কলেজ পাড়া ও পুরাতন মারিষ্যা।

পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় বাঘাইছড়ির বিস্তৃণ এলাকার কৃষি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মার্কেটসহ বিভিন্ন পাকা ভবনে অবস্থান নিয়েছে।

এ ছাড়া, পাহাড়ি ঢল ও অতি বর্ষণের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি উচ্চতা বাড়তে থাকায় লংগদু, জুরাছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, নানিয়ারচরের নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি ও কৃষি জমি পানিতে ডুবে গেছে।

রাঙামাটিতে নিহতদের শেষকৃত্য সম্পন্ন

এদিকে, নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড় ধসের মাটি চাপায় নিহত ১১ জনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। রাঙামাটিতে তিন পর বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আর কোথাও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেনি। পাহাড় ধসের আশংকায় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেয়া লোকজন বাড়ি ঘরে পুনরায় ফিরতে শুরু করেছে। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কসহ রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে।

রামগড় ও দীঘিনালা বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

তবে প্রবল বর্ষণে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে , রামগড় ও দীঘিনালা উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বন্যায় ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে সহস্রাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। খরস্রোতা ফেনী ও মাইনী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে খাগড়াছড়ি শহরের দুই - তৃতীয়াংশ , রামগড় ও মহালছড়ির বিস্তৃত অঞ্চল এবং দীঘিনালার মেরুং বাজার পানিতে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট হয়ে গেছে। ভেসে গেছে কয়েকশ ' পুকুরের মাছ। রেড ক্রিসেন্ট ও যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে আটকেপড়া লোকজনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।

ফেনীর ১১ গ্রাম প্লাবিত

তাছাড়া, মুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামের ১১ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ছাগলনাইয়া , সোনাগাজী ও ফেনী সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে মুহুরী নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগেরদিন মঙ্গলবার দিনভর ভারী বর্ষণে ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর ও বরইয়া অংশের দুটি বাঁধ ভেঙে অন্তত ১১ টি গ্রাম প্লাবিত হ য়েছে । #

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৩

 


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018