BdNewsEveryDay.com
Sunday, December 08, 2019

ক্রেতা নেই, মেলেনি লবণের টাকাও, ৮০০ চামড়া মাটিচাপা

Tuesday, August 13, 2019 - 838 hours ago

কোরবানির পশুর চামড়ার ক্রেতা না পেয়ে দুটি গর্ত খুঁড়ে তাতে ৮০০ চামড়া পুঁতে ফেলেছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের জামিয়া দারুল হাদিস মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া জেলার আরো বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে বেচতে না পেরে ও ক্রেতা না পেয়ে চামড়া ফেলে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

জামিয়া দারুল হাদিস মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, এলাকায় বেশিরভাগ মানুষ প্রবাসী হওয়ায় গরু কোরবানি বেশি দেন। আর ওইসব গরুর চামড়া তারা মাদ্রাসায় দান করে দেন। কিন্তু এ বছর চামড়ার ক্রেতা না পাওয়ায় মাদ্রাসার সবাইকে নিয়ে সিদ্ধান্ত মতো সব চামড়া মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছে।

সৈয়দপুর হাফিজিয়া হোসাইনিয়া দারুল মাদ্রাসার মুহতামিম (অধ্যক্ষ) হাফেজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম এনটিভি অনলাইনকে জানান, এ বছর প্রায় ৮০০ চামড়া স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়। অন্য বছর চামড়া সংগ্রহের পর বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই যোগাযোগ করেন। কিন্তু এ বছর একজন ব্যবসায়ীও চামড়া নিতে যোগাযোগ না করায় ৮০০ চামড়ার সবগুলো মাটির নিচে পুঁতে রাখতে বাধ্য হন তাঁরা। কারণ চামড়ায় লবণ দিতেও কেউ রাজি হচ্ছিল না। লবণের টাকাও জোগাড় না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব চামড়া পুঁতে রাখা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে মাদ্রাসার ছাত্র হাজি কারি শফিকুল ইসলাম শফিকের ফেসবুক লাইভে দেখা গেছে, সৈয়দপুর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে রাখা শত শত চামড়া গর্ত খুঁড়ে পুঁতে ফেলা হচ্ছে।

লাইভে মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম জানান, গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১২টা এবং আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো ক্রেতা না পাওয়ায় গ্রামবাসী বিফল মনোরথে এই চামড়াগুলোকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পুঁতে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি আমাদের কওমি মাদ্রাসা ইতিহাসে বিশেষ করে আমাদের সৈয়দপুরের ইতিহাসে প্রথম।

এদিকে কোরবানি শেষে লোকজন ২৯০টি চামড়া সুনামগঞ্জ শহরের হাসননগরের জামেয়া আসাদিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় দান করেন। কিন্তু এই চামড়া নিতে কোনো ব্যবসায়ী কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি। পরে লবণ দিয়ে রাখার জন্য মেথর সম্প্রদায়ের চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারাও নিতে আগ্রহ দেখায়নি। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিনামূল্যে সেই চামড়া দিতে চেয়েছে। কিন্তু কেউ নেয়নি। তাই পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সব চামড়া মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়।



এদিকে একইভাবে সুনামগঞ্জের আরো বেশ কয়েকটি মাদ্রাসা চামড়া মাটির নিচে চাপা দিয়ে রেখেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সুনামগঞ্জ সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শওকত আলী আমীর তাঁর ফেসবুকে পোস্ট করেন, ‘চামড়া নিয়ে বিপাকে! এক জোড়া চামড়ার জুতা কিনতে গেলে হাজার টাকা। অনেক চেষ্টা করেও ফ্রি কাউকে কোরবানির চামড়া দিতে পারলাম না। এক পরিচিত হুজুরকে ফোন করলাম পরে আরো হতাশ হলাম। তিনি বলেন, ছাত্রদের দিয়ে অনেক কষ্টে কিছু চামড়া যোগাড় করলাম কিন্তু দাম না পেয়ে সেই চামড়া আরো কিছু টাকা খরচ করে মাটিচাপা দিয়ে রাখতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কি চামড়া শিল্পটাও ধ্বংস হয়ে গেল?’

কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত সরকারের

এদিকে উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করতে কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত মূল্যে কাঁচা চামড়া কেনা-বেচা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ বকসীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, নির্ধারিত মূল্যে কোরবানির পশুর চামড়া  ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে না। এ বিষয়ে চামড়া শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018