BdNewsEveryDay.com
Wednesday, October 16, 2019

কিছু না বুঝেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন অনেক বিক্রেতা

Saturday, June 15, 2019 - 838 hours ago

রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় ভ্যানে সবজি বিক্রি করেন ৩২ বছর বয়সী মানিক। করল্লার দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আইজ ৫০ টাকা কেজি, কাইল থেইক্যা ৭০ টাকায় খাইতে অইব।’ আগের দিন কত টাকায় বিক্রি করেছেন জানতে চাইলে মানিক জানান ৪০ টাকা। আজ কেন বেড়ে গেল এবং কেনইবা কাল থেকে ৭০ টাকায় খেতে হবে তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বাজেটের কারণে দাম বাইড়া গেছে।’ তার দাবি, বাজেট মানেই তো দাম বাড়ানো। সবকিছুর দাম বাড়লে সবজির দাম বাড়বে না কেন? সবজি বিক্রেতা মানিকের কাছে বাজেট কাকে বলে জানতে চাইলে তার ঝটপট উত্তর ‘বাজেট মানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি দিবস।’ বাবা দিবস, মা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসের মতো সরকার জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর জন্য এ দিবসটি পালন করে বলে জানান তিনি। যদিও বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জোর দিয়েই বলেছেন, বাজেটের কারণে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে না।

মানিকের মতো অনেক ব্যবসায়ীই বুঝে না বুঝে বেশির ভাগ পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। অনেকে বাড়তি দাম নেয়ার চেষ্টা করছেন, না পারলে আগের দামে বিক্রি করছেন। এক্ষেত্রে পাইকারি ব্যবসায়ীরাই খুচরা বিক্রেতাদের উৎসাহিত করছেন দাম বাড়াতে। অনেকে এখনই বাড়াতে না পারলেও সহসা দাম বেড়ে যাবে এমন প্রচার চালিয়ে চেষ্টা করছেন বেশি পরিমাণে পণ্য বিক্রি করতে। সিগারেট, চিনি এবং গুঁড়োদুধের মতো যেসব পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলোর পাশাপাশি সব ধরনের পণ্যের দামই বাজেটের কারণে বেড়েছে। যদিও বাজেট পাস হতে এখনো অনেক বাকি। আগামী ৩০ জুন সংসদে বাজেট পাস হবে এবং পয়লা জুলাই থেকে কার্যকর হবে। কিন্তু এরই মধ্যে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছেন দুধ-সিগারেটের এজেন্টরা। ব্রিটিশ-আমেরিকান টোবাকোর দুইটি জেলার এজেন্ট একাই গত তিন দিনে সাত কোটি টাকা বাড়তি লাভ করেছেন বলে জানান তার একজন স্বজন।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সব তামাক পণ্য, মোবাইল কল, এলপি গ্যাস, চিনি, আমদানি করা গুঁড়োদুধ, গুঁড়ামসলা, টমেটো কেচাপ, চাটনি, ফলের জুস, মধু, টয়লেট টিস্যু, টিউবলাইট, চশমার ফ্রেম, সিআর কয়েল, জিআই তার, তারকাঁটা, স্ক্রু, ব্লেড, ট্রান্সফরমার, সানগ্লাস, রিডিং গ্লাস, আমদানি করা পার্টিকাল বোর্ড, আমদানি করা সব ধরনের টায়ার এবং স্মার্টফোনের দামও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তা ছাড়া যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, লরি, থ্রি হুইলার, অ্যাম্বুলেন্স ও স্কুলবাস ছাড়া সব গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিট, ফিটনেস সনদ ও মালিকানা সনদ গ্রহণ ও নবায়নে নিয়মিত চার্জের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেটে বাড়ানো হয়নি এমন পণ্যের যারা দাম বাড়াচ্ছেন তাদের যুক্তিÑ পরিবহন ব্যয় বাড়লে সবকিছুর দামই বেড়ে যায়। তা ছাড়া সর্বজনীন ভ্যাট আদায়, মোবাইলের কলরেট এবং দৈনন্দিন জীবনে আরোপ করা নানা রকমের ট্যাক্স ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলেও ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ডিপ্লোমা এক কেজি ওজনের গুঁড়োদুধ বিক্রি হচ্ছে ৬১০ টাকায়, যা আগের দিন বিক্রি হয়েছে ৫৯০ টাকা। ৫০০ গ্রাম ওজনের ডিপ্লোমা গুঁড়োদুধ বিক্রি হচ্ছে ৩১০ টাকা যা আগের দিন ছিল ২৯৫ টাকা। মার্কস গুঁড়োদুধ ৫০০ গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ২৬৫ টাকা যা আগের দিন ছিল ২৫০ টাকা। কোয়ালিটির এক কেজি গুঁড়োদুধ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায় যা আগের দিন ছিল ৫৯০ টাকা। খুচরা বাজারে গতকাল শুক্রবার প্রতি কেজি চিনির দাম দুই টাকা বাড়িয়ে ৬০ থেকে ৬২ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে শান্তিনগর বাজারের মুদি দোকানি আবুল কালাম নয়া দিগন্তকে বলেন, গতকাল গুঁড়ো দুধের কোম্পানি যে দুধ সরবরাহ করেছে সেখানে আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়েছে। তিনি বলেন, বাজেটে দ্রব্যমূল্য বাড়লে আমাদের কী বা করার আছে। আমরা ব্যবসায়ী, আমরা যেমন কিনব তেমনিই বিক্রি করব। 

বাজেটের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি দেখাচ্ছেন ক্রেতারাও। তাদের ধারণা, বাজেটের কারণে ব্যবসায়ীদেরও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। বাড়তি খরচ জোগাতে ব্যবসায়ীরাও বাড়তি লাভ খুঁজবেন এটাই স্বাভাবিক। খিলগাঁও বাজারে গতকাল কথা হয় ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফের সাথে। তিনি বলেন, বাজেটে প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র, সয়াবিন তেল, পামঅয়েল, সানফ্লাওয়ার অয়েল ও সরিষার তেলের ওপর আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। সিএনজি, বেবিট্যাক্সি ও হালকা যানবাহনে ব্যবহৃত রাবার টিউবের ওপর শুল্ক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বৈদ্যুতিক গৃহস্থালি পণ্যে আমদানি পর্যায়ে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম বাড়বে। সোনা ও রুপার অলঙ্কার, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, লঞ্চের এসি কেবিন, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, ইনডেনটিং, আসবাবপত্র, পরিবহন ঠিকাদারী, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবায় খরচ বাড়বে।

সকল


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018