BdNewsEveryDay.com
Thursday, April 25, 2019

বনানী অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধারকারী জসিমকে শেরপুরে সংবর্ধনা

Monday, April 15, 2019 - 247 hours ago

শেরপুরের সন্তান জসিম উদ্দিন। যিনি নিজের জীবন বাজী রেখে পানির পাইপ বেয়ে ৭ তলায় উঠে একজন বিদেশি ও নারীসহ ৫ জন জীবন্ত মানুষকে উদ্ধার করেছেন। রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যিনি ইতিমধ্যেই ‘স্পাইডারম্যান’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

আজ সোমবার তাকে শেরপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষ রজনীগন্ধায় জেলা প্রশাসক আনারকলি মাহবুব-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় জসিম উদ্দিন অগ্নিকাণ্ডে আটকেপড়া মানুষকে জীবন্ত উদ্ধার করে আনার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।

তিনি জানান, এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত্র দেখতে পেয়ে ছুটে যান তিনি। কিন্তু ওই ভবনে ঢোকার কোনো রাস্তা না পেয়ে স্পাইডারম্যানের মতো পাইপ বেয়ে বিল্ডিং এর ৭ তলায় উঠে যান। সেখানে গ্রিল বেয়ে প্রথমে একজন মহিলাকে উদ্ধার করেন। পরে শ্রীলংকার অধিবাসী এক ভদ্রলোকসহ আরো তিনজনকে উদ্ধার করেন। সে সময় তিনি বৈদ্যুতিক তার বেয়ে নামা অনেক মানুষেকে নামতে নিষেধ করেন। কিন্তু তার কথা না শুনে দু’জন লোক তার চোখের সামনে নিচে পড়ে মারা যান।

উদ্ধার কাজে তার সহায়তায় ওই তরুণীর জীবন বাঁচানোর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তার এ মানবিক কাজের জন্য বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন তাকে প্রশংসিত করে।

জেলা প্রশাসক আনারকলি মাহবুব তার বক্তব্যে এ সাহসী অকুতোভয় যুবককে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়ে তার হাতে ফুলের তোড়া নগদ ১০ হাজার টাকা ও অন্যান্য উপহার সামগ্রী তুলে দেন।

জসিম উদ্দিন জানান, তার বাড়ি শেরপুর সদর উপজেলার বলাইয়ের চর ইউনিয়নের দুসরা ছনকান্দা গ্রামে। তার পিতা ওমর আলী ১৯৯৮ সনে মারা যান। তারা তিন ভাই এক বোন। পরে অভাবেব তাড়নায় তারা ঢাকা চলে যান। ঢাকার কুড়িল বস্তিতে বর্তমানে বসবাস করছেন। বর্তমানে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বাসেত মজুমদারের বাসায় কাজ করেন। একইসাথে তিনি এরশাদ নগরের হাওয়া মাঠের তত্ত্বাবধায়ক এবং ক্রীড়া সংগঠক। তার অন্য দুই ভাই মোবাইলের দোকানে কাজ করে।

সংবর্ধনার জবাবে জসিম তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, সেদিন নিজের তরফ থেকে আরো মানুষকে বাঁচাতে পারলে আমার আনন্দ হতো। কিন্তু অনেক মানুষ মারা যাওয়ায় সেই দিনটি আমার কাছে একটি শোকের দিন। সাহায্য-সহযোগিতার চেয়ে মানুষের দোয়া ও ভালোবাসাই আমার বড় প্রাপ্তি।

তিনি বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানবতার সেবায় যেন নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারি এটাই আমার প্রতিজ্ঞা। আমি মানুষের জন্য জীবন দিয়ে হলেও কাজ করতে চাই। এজন্য আমি সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক এ টি এম জিয়াউল ইসলামের সভাপতিত্বে  সংবর্ধনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়্যেদ এ জেড মোরশেদ আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জন কেনেডি জাম্বিল, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ, সংবর্ধিত জসিমের আত্মীয়-স্বজনসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018