BdNewsEveryDay.com
Friday, April 19, 2019

পুঁজিবাজার চাঙা করতে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর পরামর্শ

Monday, March 25, 2019 - 605 hours ago

সোমবার বাজারকে পতনের ধারা থেকে বের হয়ে আনার কৌশল ঠিক করতে বসা বৈঠকে তারা এ পরামর্শ দিয়েছেন বলে ডিএসইর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় বর্তমান বাজার পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের জন্য সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদের সাথে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন, মার্চেন্ট ব্যাংক এবং শীর্ষস্থানীয় ব্রোকার হাউজের প্রতিনিধিদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের দুই পুঁজিবাজারেই (ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-ডিএসই এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-সিএসই) দরপতন হচ্ছে। সূচকের পাশপাশি লেনদেনও কমছে।

গত কয়েক দিন ধরে ডিএসইতে ৪০০ কোটি টাকার কম লেনদেন হচ্ছে। সোমবার লেনদেন হয়েছে ৩৮৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। রোববার লেনদেনের অংক ছিল আরও কম ৩৫৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

আপর বাজার সিএসইতে লেনদেন ১০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

বাজারের এই পতন থেকে উত্তরনের পথ খুঁজে বের করতেই বৈঠক ডেকেছিল ডিএসই। বৈঠকে ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হাশেম, ডিএসই বোকার্স এসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী, ডিএসই’র পরিচালক শরীফ আতাউর রহমান, মিনহাজ মান্নান ইমন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান উপস্থিতি ছিলেণ।

বৈঠকের পর ডিএসইর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠক থেকে পুঁজিবাজার ভাল করার জন্য বিভিন্ন উপদেশ এসেছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, সঞ্চয়পত্রের সুদেরহার হ্রাস, আইপিও নীতিমালার পূনর্বিন্যাস, বহুজাতিক ও মৌলভিত্তিক কোম্পানীকে বাজারে নিয়ে আসা, এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির লভ্যাংশর ধারাবাহিকতা রক্ষা।

এছাড়া ব্রোকার হাউজের সার্ভিস বুথ অনুমোদন, স্ক্রীপ্ট নিটিং সিস্টেম চালু, কর্পোরেট ডিসক্লোজারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, নীতি নির্ধারকদের কৌশলগত দিক নির্দেশনা, মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে আরও সক্রিয় করার বিষয়েও পরামর্শ এসছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইসিবির মতো আরও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, ট্রেডিং এর ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের গাইডলাইন তৈরি করাসহ আরও কিছু সুপারিশ এসেছে বৈঠকে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে যে পরিমাণ অর্থ ধার করার লক্ষ্য ধরেছিল, তার চেয়েও ১৮ শতাংশ বেশি নিয়ে ফেলেছে সাত মাসেই।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ৩১ হাজার কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে।

অথচ এবারের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করেছিল।

এ হিসাবে অর্থবছরের সাত মাসেই সঞ্চয়পত্র থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বেশি অর্থ ধার করে ফেলেছে সরকার।

সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বেশি হওয়ায় (১১ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে) পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ না করে অনেকেই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে থাকে।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018