BdNewsEveryDay.com
Tuesday, May 21, 2019

পুনঃনির্বাচন দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো অনশন চলছে

Thursday, March 14, 2019 - 838 hours ago

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের মতো অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন ঢাবির সাত শিক্ষার্থী। এদিকে অনশনের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ায় এক শিক্ষার্থীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

অনশনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঁচজন কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন হল সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা পুনঃনির্বাচনের পাশাপাশি নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের কর্মকর্তাদেরও পদত্যাগ দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনে বসেন। এর আগের দিন গত সোমবার দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা হলেন- কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের মীম আরাফাত মানব, একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাওহীদ তানজীম, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শোয়েব মাহমুদ, পপুলেশন সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ মাঈনউদ্দিন, দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অনিন্দ্য মণ্ডল, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফিয়া তামান্না এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল মাহমুদ তাহা।

এর মধ্যে মীম আরাফাত মানব ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য সমর্থিত প্যানেলে আন্তর্জাতিক সম্পাদক, তাওহীদ তানজীম স্বতন্ত্রভাবে ডাকসুতে ছাত্র পরিবহন সম্পাদক, শোয়েব মাহমুদ শহীদুল্লাহ হল সংসদে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য মনোনীত সাহিত্য সম্পাদক, অনিন্দ্য মণ্ডল জগন্নাথ হলে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য সমর্থিত সদস্য এবং মোঃ মাঈনউদ্দিন হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য ও স্বতন্ত্র জোট সমর্থিত সংস্কৃতি সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন।

জানা যায়, অনশনে বসা অনিন্দ্য মণ্ডল বুধবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অনিন্দ্যের সহপাঠী তাহিদ জামিল জানান, অনিন্দ্যকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পরে তাকে জগন্নাথ হলে নিয়ে আসা হয়। অনিন্দ্যকে এখন স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অনশনকারী মীম আরাফাত মানব বলেন, মরে যেতে তো দেবে না বলে মনে হয়। তার আগেই হাসপাতালে নিয়ে যাবে। যা হবার হোক, নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণা করতে হবে। না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে।

এদিকে, অনশনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১৪ জন শিক্ষার্থী। তাদের হাতে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত পোস্টার দেখা গেছে।

 

আরো পড়ুন : আইয়ুব, এরশাদ আমলেও ডাকসু নির্বাচনে এমন কলঙ্ক হয়নি : সিপিবি নিজস্ব প্রতিবেদক, (১১ মার্চ ২০১৯)

প্রহসনের অভিযোগ এনে এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম ডাকসু নির্বাচনে সংঘটিত অপকর্মসমূহকে অদৃষ্টপূর্ব বলে অভিহিতি করেছেন। তারা বলেন, ডাকসুর ইতিহাসে এমন কলঙ্ক আর কখনো সংঘটিত হয়নি।

তারা বলেন, ডাকসু নির্বাচনে যা হলো তা গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ফের কলঙ্কিত করেছে। আইয়ুব, এরশাদ আমলেও ডাকসু নির্বাচনে এমন কলঙ্ক হয়নি। তারা বলেন, সরকার যে নির্বাচনী সংস্কৃতি সৃষ্টি করেছে তা রুখে দেয়া জরুরি।

সোমবার দেয়া এক বিবৃতিতে ডাকসু নির্বাচনে আগের রাতে ব্যালট পেপারে টিক প্রদান করে বস্তা ভর্তি করে রাখা, ব্যালট পেপার অন্যত্র সরিয়ে রাখা, বুথ জ্যাম করে রেখে শিক্ষার্থীদের ভোট দানে বাধা প্রদান করা, লিটন নন্দী, অরণি, নূরু, দীপ্তিসহ প্রার্থীদের শারীরিক নির্যাতন করাসহ ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন কর্তৃক নানা অনিয়মের তীব্র নিন্দা জানান সিপিবি নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিতে তারা পুনঃনির্বাচনের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের যৌথ সংগ্রামের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামী ছাত্ররা লড়াইয়ের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে নির্বাচন বাতিলে বাধ্য করতে সক্ষম হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তাদের সংগ্রামী ঐতিহ্য সংরক্ষণে সক্ষম হবে।

সকল


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018