BdNewsEveryDay.com
Friday, October 19, 2018

সুনামগঞ্জে আগুনে ১৮ বছরে প্রায় ২শ’ কোটি টাকার ক্ষতি

Saturday, May 19, 2018 - 838 hours ago

সুনামগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলের ১১টি উপজেলায় নানান কারনেই ঘটেছে অগ্নিকান্ডের ঘটনা। বেশীর ভাগেই বিভিন্ন বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্টানে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে। এতে করে ব্যবসা প্রতিষ্টানে মালিকগন মুলধন হারিয়ে নিঃশ্ব হয়ে পথে বসেছে। জেলার বিভিন্ন ৮টি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় অগ্নিকান্ডে খবর পেলেও জেলা থেকে ফায়ার সার্ভিস দল সময় মতো ঘটনা স্থলে পৌছাতে না পারায় অগ্নিকান্ডে ক্ষয়-ক্ষতি ও হতাহতের পরিমান বেড়েই যাচ্ছে। জানাযায়-হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ জেলার সুনামগঞ্জ সদর,ছাতক ও জগন্নাথপুর উপজেলা ছাড়া বাকি ৮টি তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,দোয়ারা বাজার,শাল্লা,বিশ্বাম্ভরপুর,দক্ষিন সুনামগঞ্জ,ধর্শপাশা উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের নেই। এর মধ্যে বিশ্বাম্ভরপুর,দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন নির্মানাধীন ও জেলার দিরাই উপজেলায় কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে কবে নাগাত নিমার্ন সম্পন্ন ষ্টেশন গুলো চালু হবে সঠিক ভাবে কেউ বলতে পারছেন না। অপর দিকে জেলার সদর থেকে বিভিন্ন উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অগ্নি নির্বাপনী দল সময় মত ঘটনা স্থলে পৌছানোর আগেই আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাড়খার হয়ে যায় সব। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে অগ্নি নির্বাপনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলা,সড়ক দূঘটনায় আহতদের কে উদ্ধারের জন্য কাজ করতে হয় ফায়ার সার্ভিসকেই। সবার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ও ক্ষয়-ক্ষতি প্রতিরোধে জেলার সবকটি উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করার দাবী জানান জেলাবাসী। সুনামগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন সূত্রে জানান-জেলায় ২০০০সালে থেকে ২০১৮সাল পর্যন্ত জেলার সুনামগঞ্জ সদর,তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,ধর্মপাশা,ছাতক,দোয়ারা বাজার,দক্ষিন সুনামগঞ্জ,তাহিরপুর,দিরাই,বিশ্বাম্ভরপুর,জগন্নাথপুর, ছাতক,দোয়ারা বাজার ১১টি উপজেলায় ছোট বড় ৪শটি অগ্নিকান্ডের ঘটনা গঠেছে। এতে দুশত কোটি টাকার বেশী ক্ষয়-ক্ষতি হয়। ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করেছে প্রায় ৪০কোটি টাকার অধিক। আর আগুন নেবাতে আহত হয়েছে ২শতাধিক মানুষ। আরো জানা যায়,২০১১সালে জেলায় মোট ৪১টি অগ্নি কান্ডের গঠনা গঠেছে,ক্ষতির পরিমান ৬ লাখ,৮৯০০০,উদ্ধার করে ১কোটি টাকা অধিক। ২০১২সালে ১২টি অগ্নিকান্ডের গঠনা ঘটেছে,ক্ষতি পরিমান ৪লাখ ৮৫,৫০০ শত টাকা,উদ্ধার=১৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা,২০১৩ সালে ৪৩টি,ক্ষতির পরিমান=১কোটি ৯৭,৫৬০টাকা,উদ্ধার=১কোটি ৩লাখ ১৫হাজার টাকা। ২০১৪সালে ২২টি,ক্ষতির পরিমান=১কোটি ৪লাখ ৯৭হাজার ৫শত টাকা,উদ্ধার ১কোটি ২৮লাখ ৬৫হাজার টাকা। ২০১৫সালে ৩৪টি,ক্ষতির পরিমান=২লাখ ৮২হাজার ২শত টাকা,উদ্ধার=৭০লাখ ১০হাজার টাকা। ২০১৬সালে ৩০টি,ক্ষতির পরিমান=৪লাখ ৯২হাজার ২শত টাকা,উদ্ধার ৮কোটি ৯৩লাখ ৪০হাজার টাকা। ২০১৭সালে ৩৫অগ্নিকান্ডের গঠনা গঠেছে,ক্ষতির পরিমান=১কোটি ৫০লাখ ২৭হাজার ৫শত টাকা,উদ্ধার ৬কোটি ৪৮লাখ ৩হাজার টাকা। আরো জানাযায়,অগ্নিকান্ডের বেশির ভাগেই ছিল ব্যবসা প্রতিষ্টানে। জেলার বেশির ভাগ উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন না থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অগ্নি নির্বাপনী দল সময় মত ঘটনাস্থলে পৌছাতে পারে না। ফলে ক্ষতির পরিমান বেড়ে যায়। জেলা থেকে উপজেলা বেশী দূরত্ব স্থানে সময় মত যেতে গিয়ে নানান জামেলা পোহাতে হয়। আর সময় মত না গেলে কাজের কাজ কিছুই হয় না। ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন না থাকায়-মাসুক মিয়া,সেলিম হায়দার,সাদেক আলী,আবুল কালাম,সুমন হায়দানসহ জেলার সচেতন মহলের মতে,বেশির ভাগ ক্ষতির শিকার হয় ব্যবসায়ীগন। জেলার বিভিন্ন জলাশয় ভরাট ও প্রয়োজনীয় রির্জাভ ট্যাং না থাকায় পানির অভাবে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান বেশি হয়। অগ্নিকান্ডের ঘটনা কখন কি ভাবে ঘটে কেউই বলতে পারবে না। তবে প্রতিরোধের জন্য ফার্য়ায় সার্ভিস ষ্ঠেশন স্থাপন ও সচেতনতার মাধ্যমে এই ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তাহিরপুর বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম,সাদেক আলী,জাকারিয়া রনি,শিবলী আহমেদসহ সচেতন লোকজন জানান,কিছু দিন পূর্বে তাহিরপুর বাজারে মধ্য রাতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ থেকে ফার্য়ার সার্ভিসের লোকজন আসলেও কোন লাভ হয় নি। কারন এর পূর্বে ত সব শেষ। তাহিরপুর উপজেলায় একটি ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন থাকলে এত ক্ষতি হত না। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান,এ উপজেলায় একটি ফার্য়ার সার্ভিস ষ্টেশন স্থাপন করা খুবেই জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে। সম্প্রতি এই উপজেলার তাহিরপুর বাজারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করলেও পুড়ে সব ছাই হয়ে গেছে। যদি ফার্য়ার সার্ভিস ষ্টেশন থাকত তাহলে এত ক্ষতি হত না। এপর্যন্ত এ বাজারটিতে ৬টির বেশী আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে ২কোটি টাকার বেশী ক্ষতি হয়েছে। সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের ডিপোটি এসিসষ্ট্রেন্ড ডাইরেক্টার জাবেদ হোসেন মোহাম্মদ তারেক জানান,প্রতিটি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন স্থাপন হলে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান কমে যাবে। জেলা সদর থেকে দূরের উপজেলায় যাবার পূর্বে সব আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে যায়। বিশ্বম্ভরপুর,দক্ষিন সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের কাজ শেষ আমাদের কাছে এখনো হস্তান্তর করা হয় নি। এছাড়াও তাহিরপুর ও দোয়ারা বাজার উপজেলায় মামলা জনিত করনে সব কার্যক্রম স্থগিত আছে। তাই আমরা ভিন্ন স্থান নির্ধারনের ব্যবস্থা করে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন নির্মানের কাজ শুরু করার চেষ্টা করছি।

 


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018