BdNewsEveryDay.com
Monday, June 17, 2019

২০১৮ সালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ৪৬৬ জন নিহত

Friday, January 11, 2019 - 838 hours ago

২০১৮ সালে সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধ এবং তাদের হেফাজতে ৪৬৬ জন মানুষ মারা গেছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি নিহত হয়েছে শুধু মাদকবিরোধী অভিযানে। এ ছাড়া গত বছর জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে অন্তত ৪৭০টি সহিংসতার ঘটনায় ৩৪ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ১৯ জন, বিএনপির চারজন, একজন আনসার সদস্যসহ ১০ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ২০১৮ সালে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির এই চিত্র তুলে ধরে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও শালিস কেন্দ্র।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজা, উপপরিচালক নীনা গোস্বামী, সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির, নির্বাহী সদস্য তাহমিনা রহমান প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে আসকের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘একটি স্বাধীন দেশে এসব হত্যাকাণ্ড হোক তা আমরা চাই না।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নীনা গোস্বামী। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মানবাধিকারের প্রধান দুটি সূচকের একটি অর্থনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের ক্ষেত্রে আশানুরূপ অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।’

২০১৮ সালে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ, ক্রসফায়ার, গুলিবিনিময় ও এনকাউন্টারে হতাহতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর ৪ মে দেশব্যাপী শুরু হওয়া র‌্যাব ও পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে এনকাউন্টার এবং হেফাজতে ৪৬৬ জন নিহত হয়। এর মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত হয়েছে ২৯২ জন। তিনি আরো বলেন, ‘২০১৮ সালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ, গুম ও নিখোঁজ হয়েছে ৩৪ জন। এর মধ্যে ১৯ জনের সন্ধান পাওয়া গেছে। যার বেশির ভাগই বিভিন্ন মামলায় আটক রয়েছে।

গত বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ও অন্যান্য দলের এবং নিজেদের মধ্যে কোন্দলের জেরে ৭০১টি রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং সাত হাজার ২৮৭ জন আহত হয়েছে।

ননী গোস্বামী বলেন, ‘২০১৮ সালে সারা দেশে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭৩২ জন নারী। এর মধ্যে ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছে ৬৩ জন। ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছে সাতজন। নির্বাচনের রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের এক গৃহবধূকে দল বেঁধে ধর্ষণের বিষয়টিও এসেছে আসকের প্রতিবেদনে।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018