BdNewsEveryDay.com
Friday, January 18, 2019

বিচারবহির্ভূত হত্যার আশংকাজনক বৃদ্ধি

Friday, January 11, 2019 - 170 hours ago

দেশি-বিদেশি সকল সংস্থা ও মহলের পক্ষ থেকে বিরামহীন বিরোধিতা ও প্রতিবাদের মধ্যেও বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড শুধু চলছেই না, বেড়েও চলেছে আশংকাজনকভাবে। ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বেড়েছে ২৮৭ শতাংশ। অত্যন্ত ভীতিকর এ তথ্যটি জানা গেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র- আসকের ৯ জানুয়ারি প্রকাশিত এক রিপোর্টে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে গতকাল দৈনিক সংগ্রামের খবরে জানানো হয়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের দিক থেকে গত বছর সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছে। নিহতদের সংখ্যা ৪৬৬। এদের মধ্যে মাদক বিরোধী অভিযানে মারা গেছে ২৯২ জন। এই পরিসংখ্যান তৈরি হয়েছে গত বছরের মে মাস থেকে ৩০ ডিসেম্বর তথা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে।

আসকের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, আগের বছর ২০১৭ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডে প্রাণ হারিয়েছিল ১৬২ জন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বৃদ্ধির হার ২৮৭ শতাংশ। আসকের রিপোর্টটিতে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে অন্য একটি তথ্যেরও উল্লেখ করা হয়েছে। আসক জানিয়েছে, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের ক্ষেত্রে ২০১৮ সালে সাধারণভাবে বিগত বছরগুলোর অগ্রগতির ধরাবাহিকতা অব্যাহত থাকলেও মানবাধিকারের আরেকটি সূচক তথা নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। 

সব মিলিয়েই আসকের আলোচ্য রিপোর্টের বিভিন্ন তথ্য-পরিসংখ্যান অত্যন্ত আশংকাজনক। জাতিসংঘ পর্যন্ত বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সোচ্চার হয়েছে। বলেছে, প্রতিটি বাহিনীর সদস্যদের জন্য জবাবদিহিতা এবং শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে সরকার ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনসহ এমন কিছু আইনকে আশ্রয় করেছে ও যুক্তি হিসেবে সামনে এনেছে, যেগুলোর আড়াল নিয়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো যে কোনো বেআইনি কর্মকান্ডকেই গ্রহণযোগ্য করে তোলার প্রচেষ্টা চালানো সম্ভব। বাস্তবে তেমন প্রচেষ্টা চালানো যেমন হয়েছে তেমনি এখনো চালানো হচ্ছে।

আমরা কিন্তু মনে করি, সরকারের কোনো প্রচেষ্টাই এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমর্থন লাভ করতে পারেনি। দেশের ভেতরে সরকারের প্রচেষ্টা বরং প্রচন্ড নিন্দা-সমালোচনার মুখে পড়েছে। আসকের রিপোর্টেও একথারই প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। কারণ, দেশীয় এ মানবাধিকার সংস্থাটিও জাতিসংঘের সুরে ও ভাষাতেই সকল বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিষয়ে কমিশন গঠন করে তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে। আমরা মনে করি, সরকারের উচিত আসকের উপস্থাপিত রিপোর্টের মূল কথাগুলো অনুধাবন করা এবং সে অনুযায়ী নিজেদের নীতি-কৌশল সংশোধন করার পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর লাগামও টেনে ধরা। একথা বুঝতে হবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের মতো দেশের ভেতরেও অভিযোগ উত্থাপিত হলে সরকারের তো বটেই, বাংলাদেশেরও ভাবমর্যাদা দারুণভাবে ক্ষুণœ হয়। এমন অবস্থা দেশ এবং সরকারের ভবিষ্যতের জন্য শুভ হতে পারে না। সুতরাং গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং ধর্ষণের মতো অপরাধগুলো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং মানুষকে তাদের সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করার বাধাহীন সুযোগ দিতে। এ উদ্দেশ্যে সরকারের উচিত আইন-শৃংখলা বাহিনীগুলোকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসা, দেশে যাতে আর কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ঘটতে না পারে। গুম এবং ধর্ষণের মতো বিষয়গুলোতেও সরকারকে সমান গুরুত্বের সঙ্গে সক্রিয় হতে হবে।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018