BdNewsEveryDay.com
Friday, January 18, 2019

জাতীয় নির্বাচন বির্তকিত, সমাধান কী নতুন নির্বাচন?

Friday, January 11, 2019 - 171 hours ago

মো. তোফাজ্জল বিন আমীন : পরাজিতদের ইতিহাস অনেকেই লিখে না। কারণ পরাজিতরা সব সময়ই সমালোচনার পাত্রে পরিণত হন। বিজয়ীদের ইতিহাস সবাই লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কারণ তোষামোদের রাজনীতিতে বিজয়ীদের কথা লিখলে সুযোগ সুবিধা ভাগিয়ে নেয়া যায়।  পরাজিতদের কথা সত্য হলেও লেখা কঠিন। কারণ বিজয়ীরা সত্য কথা সহ্য করতে পারে না। যাক, কারও ইতিহাস লিখা নিবন্ধনের বিবেচ্য বিষয় নয়। নিবন্ধনের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে হয়ে যাওয়া ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের নাগরিকেরা আশা করেছিল দলীয় সরকারের অধীনে হয়ত এবার একটি সুষ্ঠু,অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু হলো না। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর বেশ কয়েকজন আমাকে জিজ্ঞেস করছেন, নির্বাচন নিয়ে কেন কিছু লিখছেন না। কেউ কেউ ক্ষোভ জানিয়ে বলেছেন সত্য লিখতে কিসের এত ভয়! তবে যারা পাঠক তারা যে ভাষায় প্রতিবাদ করতে পারেন যারা লিখেন তারা কিন্তু সেভাবে পারে না। আশা করি এই বিষয়টি পাঠকেরা বিবেচনা করবেন। জনগণের ভোটের অধিকার এমনিতে আসেনি। অনেক ত্যাগ কষ্ট ও সংগ্রামের বিনিময়ে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলেও তা আজ ভূলন্ঠিত। একটা সময় মানুষ জিজ্ঞেস করতো কোথায় ভোট দিলেন, এখন বলে কয়টি ভোট দিলেন। এমনকি আমার ভোট আমি দেব এই স্লোগানটিও এখন মৃতপ্রায়। এখন স্লোগান হচ্ছে তোমার ভোট আমরা দিব। যত খুশি তত ব্যালটে সিল মারবো। উৎসব মানেই তো জালিয়াতি করে সিল মারা। তবে এরকম নির্বাচন যদি চলতে থাকে তাহলে ভোট শব্দগুলো জাদুঘরে রাখা ছাড়া আমাদের আর উপায় থাকবে না। একাদশ জাতীয় নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত করার একটি চমৎকার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকার সে সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেনি। ক্ষমতাসীন দল এ নির্বাচনকে ইতিহাসের মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করলেও প্রধান বিরোধী জোট, বাসদ, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন এ নির্বাচনকে প্রহসনের নিষ্ঠুর তামাশার নির্বাচন বলে পুনরায় কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। দেশের জনগণের প্রত্যাশা ছিল দীর্ঘ ১০ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে ভোট দিবে। কিন্তু অনেকে নিজের ভোটটি দিতে পারেনি। তবু একশ্রেণীর গণমাধ্যম ও আওয়ামী ঘরনার সুশীলরা বলছে দলীয় সরকারের অধীনে এর চেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন অতীতে হয়নি। তাদের কথা যদি সত্য হয় তাহলে তো এটাও ঠিক ১৯৭৩ সনের নির্বাচন ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রহসনের নির্বাচন। ১৯৭৩ সনের জাতীয় নির্বাচন কেমন ছিল তা আজকের তরুণ প্রজন্মরা না জানলেও মরুব্বীরা ঠিক মনে রেখেছেন। কারণ ওই নির্বাচন ছিল পেশিশক্তির নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন। ক্ষমতার দাপটের কাছে ওইসময় জাসদের প্রার্থীরা খুবই অসহায় ছিল। মাত্র ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে দলটির ভাগ্যে জুটেছিল মাত্র একটি আসন। অথচ জাসদ অতীত ও ভুলে ক্ষমতার লিপ্সায় বিভোর হয়ে নৌকার কাঁধে সওয়ার হয়েছে। একেই বলে রাজনীতি! তবে এটাও ঠিক নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের ইতিহাস কখনো সুখকর হয় না। তারপরও ক্ষমতাসীনরা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের ব্যবস্থা করে শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যে। অথচ ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের পরিণতি ভালো হয়নি।

একটি অংশগ্রহণমূলক ভোটের প্রত্যাশা জনগণের পক্ষ থেকে করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে চল্লিশ হাজার কেন্দ্রে কি করে ভোট কারচুপি করা সম্ভব? তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম সম্ভব না। তবে অনেকে ভোটকেন্দ্রে গিয়েও নিজের ভোটটা দিতে পারেনি। আমার পরিচিত একজন তরুণ ভোটার আমাকে আক্ষেপ করে বলছে জীবনের প্রথম ভোট দেয়ার জন্য কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। কিন্তু ভোট দিতে পারিনি। নৌকার লোকজন আমাকে ধানের শীষের মনে করে ভোট দিতে দেয়নি। এই দুঃখ  জীবনেও ভুলতে পারব না। এরই নাম যদি হয় ভোট! তাহলে নির্বাচনের কী দরকার ছিল? এরকম অভিজ্ঞতা দু’একজনের তা কিন্তু নয়, সারা দেশের অধিকাংশ ভোটারের। তবে আমরা মনে করি কেন এরকম ভোট হলো তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় হতাহতের চিত্র দেশবাসীর মনে উদ্বেগ-উৎকন্ঠার জন্ম দিলেও প্রতিকার মেলেনি। এবারের নির্বাচনে যে বিষয়টি জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে তা হলো ক্ষমতাসীনদলের কর্তৃত্ববাদিতা। অতীতে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের গায়ে হাত তোলার দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়নি। কিন্তু এবার এমন ঘটনাও ঘটেছে। যার ফলে বিএনপি জোটের কয়েকজন প্রার্থী শারীরিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। যা সত্যিই বেদনাদায়ক।

আমরা কখনোই মন্দের ভালো কিংবা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন প্রত্যাশা করি না। তবু একপেশে হওয়ার কারণে অনেকের মতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। নির্বাচনে কোনো কারচুপি হয়নি এটা নিশ্চিত করে ক্ষমতাসীরাও বলেননি। কেননা গণমাধ্যমে নির্বাচন পরবর্তীতে যেসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে তা থেকে প্রতিয়মান হয় যে নির্বাচনে কিছু কলংকজনক ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও মুদ্রিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মারাত্মক সব অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে এসব অনিয়মের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিনে বিরোধীদলীয় সদস্যদের ওপর হামলা। ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন। ভোট জালিয়াতি। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণ। তারা আরো বলেছে, সহিংসতা, বিরোধীদের গণগ্রেফতার ও স্বাধীন মত প্রকাশের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন করা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরো বলেছে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃত নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও বিদেশী সাংবাদিকদের বাংলাদেশে আসতে বাধা দেয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও বিবিসির একজন সাংবাদিক চট্রগ্রামে ব্যালটভর্তি বাক্স ভোটকেন্দ্রের ভেতরে নেয়ার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করেছেন। অন্য মিডিয়াগুলো রিপোর্ট করেছে যে অনেক সংসদীয় আসনের ভোটকেন্দ্রে মধ্যাহ্নভোজের জন্য ভোটগ্রহণ বিরত রাখা হয়েছিল। যাতে করে বেশি ভোট পড়তে না পারে। পত্রিকায় মুদ্রিত হয়েছে, খুলনা ১ আসনের মোট ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪২০ জন। নৌকা প্রতীক ভোট পেয়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬৯,ধানের শীষ পেয়েছে ২৮ হাজার ১৭০। নৌকা আর ধানের শীষের ভোট যোগ করলে হয় ২লাখ ৮১ হাজার ১৭০ ভোট যা মোট ভোটারের চেয়ে ২২ হাজার ৪১৯ ভোট বেশি। ভোটারের চেয়ে বেশি ভোট কী করে সম্ভব হলো তার বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গেছে বিজয়ী ১১০ জন পেয়েছেন ৯১ শতাংশের বেশি ভোট। ৮৯ জন ৮০ থেকে ৯০ ভাগ, ৪৫ জন ৭০ থেকে ৭৯ ভাগ, ২৮ জন ৬০ থেকে ৬৯ ভাগ,১৮ জন ৫০ থেকে ৫৯ ভাগ এবং ৬ জন ৩০ থেকে ৪৯ ভাগ ভোট পেয়েছেন। সব মিলিয়ে ক্ষমতাসীন জোটের প্রার্থীরা ৭৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে চমকের সৃষ্টি করেছেন। ক্ষমতাসীন জোটের প্রার্থীরা যেখানে ৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছে সেখানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা পেয়েছেন মাত্র ১২ থেকে ১৫ শতাংশ ভোট। অথচ ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ভোট পেয়েছিল ৩০ শতাংশ ভোট। ভোটের এই ব্যবধান জাতির সামনে উন্মোচন করা প্রয়োজন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশ নেয়ার প্রশংসা যেমন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন তেমনি নির্বাচনে অনিয়মের যেসব অভিযোগ উঠেছে সেসবের স্বচ্ছ তদন্ত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো। ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ এর পক্ষ থেকে সহিংসতা ও প্রাণহানির অনিয়মের জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশে নির্বাচনের দিনে ভোটারদের ভোটদানে বিরত রাখার অনিয়মের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর বাংলাদেশের জনগণের যে আস্থা ছিল তা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে সব পক্ষকে নিয়ে গঠনমূলকভাবে সমাধান করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পরাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।

‘‘আমি একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষককে জিজ্ঞেস করেছিলাম এবারের নির্বাচনে বিএনপির ফলাফলকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন। তিনি আমাকে যা বলেছেন তা হচ্ছে-বিএনপির জনসমর্থন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে জামায়াত সংশ্লিষ্টতার কারণে। অধিকাংশ বিশ্লেষকের মতে এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা ২০০১ সনে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি জোট করে বিজয়ী হয়েছে এবং ক্ষমতায় গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে এ কথাও বলা যায় আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামী একত্রে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন এবং কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করেছে। এখন আওয়ামী লীগের পক্ষে একথা বলা একেবারে বেমানান যে জামায়াত সংশ্লিষ্টতার কারণে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে। অধিকাংশ জনগণের মত হচ্ছে যে সাজানো নির্বাচন হওয়ার ফলেই নির্বাচনী ফলাফল এরকম হয়েছে যা ইতিহাসে বিরল। ’’একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন আসনের ফলাফলে নৌকা প্রতীকের বিপরীতে ধানের শীষের যে ভোট দেখা যাচ্ছে সেটি অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। অনেক আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী যত ভোট পেয়েছে বিএনপির প্রার্থী তার মাত্র ১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। পত্রিকায় মুদ্রিত হয়েছে যে বিএনপির শতাধিক প্রার্থী তার নিজ ভোট কেন্দ্রে মাত্র ১টি ভোট পেয়েছে। তা কি করে সম্ভব আমার বোধগম্য নয়! তবে উভয় দলের ভোটের ফলাফলে এতোটা তারতম্য হবে সেটি কারও কাম্য ছিল না। যেখানে হাতপাখার এজেন্ট পাওয়া গেছে সেখানে বিএনপির এজেন্ট কেন পাওয়া যায়নি তা খতিয়ে কেউ দেখছে না। এজেন্ট না পাওয়ার কারণগুলো বিশ্লেষণ করলেই অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। গণমাধ্যম ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার উচিত নিরপেক্ষভাবে বিষয়টির তথ্য উদঘাটন করে জাতির সামনে প্রকাশ করা। গত ১০ বছর নির্বাচন কমিশন পরিচালিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে যে বিএনপি দেশের বৃহত্তম বিরোধী দল। প্রচন্ড বৈরী পরিবেশের মধ্যেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ৩০০ আসনে একাধিক প্রার্থী যেখানে দিতে পেরেছে সেখানে নির্বাচনী এজেন্ট তারা দিতে পারেনি তা কি বিশ্বাসযোগ্য?

 

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে যাওয়া ব্যতীত আর কোন বিকল্প ছিল না। নির্বাচনে গিয়েই তারা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রহসনের ভোট অনুষ্ঠানের ঘটনা দেশবাসী তথা বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেনকে বিদেশী সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেন নির্বাচন নিয়ে আপনি হতাশ কি না। জবাবে কামাল হোসেন বলেন, শুধু হতাশ নয়, মর্মাহত। অভিধানে এর চেয়েও কঠিন শব্দ থাকলে লিখুন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও সহিংসতায় ১৯ জন নিহত হওয়া, বলপ্রয়োগ ও বহুমুখী আচরণবিধি লংঘনের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর লেভেল প্লেইং ফিল্ড বা সমান সুযোগ থাকার কথা থাকলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নির্বাচন কমিশন নিতে পারেনি। দেশে স্বাধীন হওয়ার পর এ পর্যন্ত ১০টি জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো ওইসব নির্বাচনের মধ্যে যেগুলো দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার একটিও অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হয়নি। পক্ষান্তরে যে কয়টি নির্বাচন কেয়াটেকার সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে সেগুলো সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এভাবে ভোট জালিয়াতি চলতে থাকলে নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর থেকে জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলবে এবং অদূর ভবিষ্যতে মানুষ ভোট দান থেকে বিমুখ হয়ে পড়বে। তখন দেশে কোনো স্বচ্ছ নির্বাচনও হলেও ভোট কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার ব্যতীত কোনো ভোটার খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমরা আশা করব রাষ্ট্র এ নির্বাচনের বির্তকিত বিষয়গুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে বিভেদের রাজনীতি দূর করতে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করবে এমনটিই দেশবাসীর প্রত্যাশা।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018