BdNewsEveryDay.com
Monday, June 17, 2019

মনোনয়ন বাণিজ্যকারীরা কীভাবে জয়ের আশা করে: প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন

Friday, January 11, 2019 - 838 hours ago

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যাদের আন্দোলন ব্যর্থ হয়, নির্বাচনে তারা কখনো জয়ী হতে পারে না। আর সেটার প্রমাণ হয়েছে ২০১৮ সালের নির্বাচনে। যারা মনোনয়ন নিয়ে বাণিজ্য করেছে, তারা কী করে আশা করে জয়ী হবে?’

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছিল। তখন ব্যাপক হারে ভোট পড়ে। আপনারা যদি ২০১৮ সালে নির্বাচন আর ২০০৮’র নির্বাচন তুলনা করেন। ২০০৮ সালে কিন্তু ভোট পড়েছিল আরও অনেক বেশি। প্রায় ৮৬ ভাগ ভোট পড়েছিল। কোনো কোনো জায়গায় প্রায় ৯০ ভাগের ওপরে ভোট পড়েছিল। অনেকেই অনেক কথা বলছেন। কিন্তু তারা যদি এই তুলনাটা দেখেন, তখন দেখবেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোট পড়েছিল অনেক বেশি। জনগণ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে ভোট দিয়েছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা ২০১৩-১৪ করেছিল কিন্তু সফল হতে পারেনি। কারণ বাংলাদেশের জনগণ তা রুখে দাঁড়িয়েছিল। জনগণ আমাদের পাশে ছিল। সেই নির্বাচনে আবার আমরা সরকার গঠন করি। এরপর কী? তারা সরকার উৎখাত করবে। তাদের আন্দোলন কী ছিল? আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা, এটা কখনো মানুষ মেনে নিতে পারেনি। তখন জনগণেই তাদের প্রতিরোধ করেছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের আন্দোলন, তাদের ধর্মঘট আজ পর্যন্ত কিন্তু প্রত্যাহার করা হয়নি। সেটাও অব্যাহত আছে। কিন্তু জনগণ সেটাকে আর কোনো ধর্তব্যেই নেয়নি। এভাবে তাদের সব আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।’

২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির ব্যর্থতার কারণ নিজেদেরই খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তারা যে অপকর্মগুলো করেছে, যে অগ্নিসন্ত্রাস করে প্রায় তিন হাজার নয়শ’র ওপরে গাড়ি-বাস-লঞ্চ-সিএনজি পুড়িয়েছিল, প্রায় পাঁচশ’র কাছাকাছি মানুষ আগুনে পুড়ে মেরেছিল, স্কুল কলেজের বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে কেউ বাদ যায়নি, তাদের সেই আগুন সন্ত্রাস থেকে। এসব অপকর্ম করেও তারা  কীভাবে আশা করতে পারে, জনগণ তাদের ভোট দেবে?’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাগারে থাকার দিকটি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একদিকে এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে বিএনপি নেত্রী কারাগারে বন্দি, অন্যদিকে তার পুত্রকে বানিয়েছে বিএনপির অ্যাক্টটিং চেয়ারপারসন। সে হলো দশ ট্রাক অস্ত্র চোরকারবারি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি।  ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। মানি লন্ডারিং মামলার আসামি। যেখানে এফবিআই এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে, সেই কেসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি, রিফিউজিডিভ বিদেশে পালিয়ে আছে। বিএনপি’র এমন কোনো নেতা কি তাদের দলে নাই দেশের ভেতরে, তারা যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বানাতে পারে?’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় তারা কী করল? প্রার্থী নির্বাচন তারা কীভাবে করেছে? সেটা নিয়ে তো ইতোমতো মনোনয়ন বাণিজ্য। একেক আসনে ৪/৫ জনকে নমিনেশন দিল। সেই নমিনেশন যাদের দিয়েছে, দেওয়ার পরে কে তাদের প্রতীক পাবে, যে যত বেশি টাকা দিলো, সে পেল। এই হলো তাদের নমিনেশনের ট্রেড বা বিজনেস। মনে হলো নমিনেশন তারা অকশনে দিয়েছিল।’

সিলেটে ইনাম আহমেদ চৌধুরী নমিনেশন পেলেন না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেখানে যে টাকা দিতে পারল সে নমিনেশন পেল। ইনাম নমিনেশন পেলে জেতার হয়তো একটা সম্ভাবনা ছিল। ধামরাই, সেখানে আতাউর রহমান খান সাহেবের ছেলে জিয়াউর রহমান, আমরা তো ধরেই নিয়েছিলাম, জিয়াউর রহমান নমিনেশন পাবেন, নমিনেশন পেলে তিনি তো জিতবেনই। কিন্তু তাকে না দিয়ে যে বেশি টাকা দিতে পারলো তাকে নমিনেশন দিল। ঠিক সেইভাবে নারায়ণগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকার। তাকে মনোনয়ন দিল না বিএনপি। সেখানে যে টাকা সাপ্লাই দিতে পারল তাকে তারা নমিনেশন দিয়েছে। চট্টগ্রামে মোর্শেদ খান, তাকে নমিনেশন দিলে না, যে ভালো টাকা দিতে পারলো সে পেলো নমিনেশন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন সিট অকশনে দেওয়া হয় তখন তারা নির্বাচনে জেতে কীভাবে? আমি ছোট ছোট কয়েকটা উদাহরণ দিলাম কারণ এদের মধ্যে অনেকেই আমার সঙ্গে দেখা করে তাদের দুঃখের কথাগুলো নিজেরাই বলে গেছেন। তারা দুঃখের কথাগুলো বলে গেছেন, এর মধ্যে একজন আমাদের দলে জয়েনও করেছেন। যারা একেবারে যারা বঞ্চিত তাদের মুখ থেকেই পেয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘উচ্চ আদালত থেকে একটি দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে; জামায়াতে ইসলামী। সে জামায়াতে ইসলামীর ২৫ জনই নমিনেশন পেয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। তারা যুদ্ধাপরাধীদের কখনো ভোট দেবে না। ভোট তারা দিতে চায়ও না। তারা দেয়নি।’

আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে মানুষের জীবনে শান্তি নিশ্চিত করা ও উন্নত দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১০

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন 


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018