BdNewsEveryDay.com
Monday, December 17, 2018

সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুন

Thursday, December 06, 2018 - 265 hours ago

সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুন সমাজকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত করে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসন ক্যাডারের নবীন কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির হাত থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে হবে। যে যখন যেখানে দায়িত্ব পালন করবেন এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। এগুলো একটি সমাজ ও পরিবারকে ধ্বংস করে দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এটুকু বলতে পারি বাংলাদেশ যথেষ্ট দক্ষতার সাথে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। কিন্তু এই অভিযান অব্যাহত রেখে দেশকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শাহবাগস্থ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে ১০৭, ১০৮ ও ১০৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক এবং জন প্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন। ১০৭, ১০৮ও ১০৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের রেক্টর পদক বিজয়ী শ.ম. আজহারুল ইসলাম সনেট, শরিফ আসিফ রহমান এবং মো. মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী কোর্স সম্পন্নকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ ছাড়াও তাঁদের সঙ্গে ফটো সেশনে অংশগ্রহণ করেন এবং তিনটি ব্যাচের স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন। প্রধানমন্ত্রী পরে সিভিল প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং বিসিএস প্রশিক্ষণ একাডেমির নবনির্মিত প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এমন জায়গায় দেশকে রেখে যাচ্ছি যেন বাংলাদেশকে আর পেছন ফিরে তাকাতে না হয়। সামনের দিকে যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে সে অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে। কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই যে দিক নির্দেশনাগুলো দিয়ে গেলাম সেগুলো অন্তত যদি অনুসরণ করা হয় তাহলে যারা দায়িত্ব পালন করবেন তাদের জন্য যেমন সুযোগ সৃষ্টি হবে তেমনি দেশের মানুষের আরো উন্নত জীবন নিশ্চিত হবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সরকারি কর্মচারিদের বেতন-ভাতা এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এটা আমরা এজন্যই করেছি যেন দেশের সেবাটা আপনারা ভালোভাবে করতে পারেন। তিনি এই বেতন-ভাতা বৃদ্ধিকে পৃথিবীতে নজীরবিহীন উল্লেখ করে বলেন, তাঁর দেশের অর্থনীতিটা একটা শক্ত ভীতের ওপর দাঁড়িয়েছে বলেই এগুলো করা সম্ভব হয়েছে। তিনি হলুদ সাংবাদিকতার সমালোচনা করে বলেন, পত্রিকায় এটা ওটা লেখা হয়, আর আমাদের অনেকেই সেটা নিয়ে ঘাবরিয়ে যায়। আমি অন্তত এটুকু বলতে পারি রাষ্ট্র পরিচলনায় পত্রিকার লেখা পড়ে গাইড লাইন গ্রহণ করি না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি গ্রহণ করি আমাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা এবং নিজস্ব পরিকল্পনা। কে কি বললো সেটা শুনে রিঅ্যাক্ট করার চিন্তাতেই আমি বিশ্বাস করি না। তবে, পত্রিকা থেকে তিনি খবর এবং তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন বলেও ইঙ্গিত দেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশটা আমার, আমার দেশকে আমি চিনি, আমি জানি দেশের জন্য কোনটা ভালো হবে। আর যেহেতু রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আছি তখন অবশ্যই জানবো কোথায় কি সমস্যা আছে, কোথায় কি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দু’বছর বা তিন বছর মেয়াদী দারিদ্র্য বিমোচন পরিকল্পনা-যেগুলো আগের সরকার করে গেছে সেভাবে একটা দেশ কখনও উন্নত হতে পারে না। সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা যেমন নিতে হবে এবং আশু করণীয় কি সেই পরিকল্পনাও গ্রহণ করে তার বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে এবং সেজন্য তাঁর সরকার পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পাশাপাশি ১০ ও ২০ বছর মেয়াদী প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, আমরা সেই অনুযায়ী ২০২১ সাল আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী নাগাদ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার ঘোষণা দেই এবং ২০২১ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত আমাদের গৃহীত প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও আমরা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। পাশাপাশি জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, ২০০১ সাল নাগাদ দারিদ্র্যের হার যেটা বর্তমানে আমরা ২১ভাগে নামিয়ে এনেছি তাকে আরো ৪/৫ ভাগ কমিয়ে আনবো। তখন বাংলাদেশকে আমরা বলতে পারবো দরিদ্রমুক্ত। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের দরিদ্রের হার ১৮ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দারিদ্র্যের হার আমেরিকা থেকে একভাগ হলেও কমিয়ে আনবো। এত বড় দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে না গেলেও দেশকে একিটি মর্যাদার আসনে নিয়ে যাওয়াই তাঁ লক্ষ্য বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাশাপাশি ২০৭১ সাল যখন আমরা স্বাধীনতার শতবার্ষিকী উদযাপন করবো এবং সেই পর্যন্ত আমাদের পরিকল্পনা থেকে যাবে যেন আগামী প্রজন্ম সেই শতবার্ষিকী ভালোভাবে উদযাপন করতে পারে। শেখ হাসিনা এসব কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের মানুষকে ভালবেসে সবাইকে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে। সততাই শক্তি। আর দেশের মানুষের প্রতি কর্তব্যবোধ এবং দায়িত্ববোধ নিয়েই কাজ করতে হবে। কারণ এ দেশটি আমাদের এবং লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এটা অর্জন করেছি। এ স্বাধীনতাকে আমরা ব্যর্থ হতে দিতে পারি না। তিনি বলেন, আমার নতুন প্রজন্মের কর্মকর্তা যারা, যাঁরা আমার ২০৪১’র সৈনিক তাদের জীবনটা সুন্দর ও সফল হোক এবং তাঁরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাক সেটাই আমরা চাই। প্রধানমন্ত্রী এ সময় নেদারল্যান্ড সরকারের সহায়তায় গৃহীত তাঁর সরকারের শতবর্ষ মেয়াদী ডেল্টা পরিকল্পনার উল্লেখ করে বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম যারা আসবে এবং যারা রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেবে তারাই এগুলো বাস্তবায়ন করবে। সরকারি কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে কোন কাজ করতে গেলেই জটিলতা তার ওপর আবার মামলা। তারপরেও আমরা ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সচিব পদে ১৮০ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ১১৫০ জন, যুগ্ম সচিব পদে ২০২৫ জন এবং উপসচিব পদে ২৬৮৬ জনকে পদোন্নতি দিতে সক্ষম হয়েছি। এর পদোন্নতি বোধ হয় কোনদিন কোন সরকার একসঙ্গে দিতে পারেনি। কিন্তু আমরা সেটা দিতে পেরেছি। তৃণমূল থেকেই তাঁর সরকার দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এই প্রচেষ্টার ফলেই দেশে আয় বৈষম্য হ্রাস পেযেছে। এখন গ্রামের মানুষও অনেক উন্নত জীবন পাচ্ছে এবং সেটাকে আরো উন্নত এবং স্থায়ী রূপ দেয়াই আমাদের লক্ষ্য। তিনি এ সময় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সকলের প্রতি দাবি জানান, যদি এতটুকু ভালোকাজ কারো জন্য করে থাকি তাহলে আমি এইটুকু চাই আমাদের বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিধারাটা যেন অব্যাহত থাকে এবং দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে, সুন্দর থাকে।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018