BdNewsEveryDay.com
Wednesday, May 23, 2018

গাজায় গণহত্যার নিন্দা জানাল ইরানের বিচার বিভাগ

Wednesday, May 16, 2018 - 173 hours ago

আমেরিকা আবারো মজলুম ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধযজ্ঞ চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে দখলদার ইসরাইলকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক সমাজের ব্যাপক বিরোধিতা উপেক্ষা করে গত সোমবার তাদের দূতাবাস তেলআবিব থেকে বায়তুল মোকাদ্দাসে স্থানান্তর করেন।

একদিকে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী এ পদক্ষেপ নিয়েছেন অন্যদিকে দখলদার ইসরাইলি সেনারা প্রতিবাদকারী নিরস্ত্র লিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়ে নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছে। ইসরাইলী সেনাদের বর্বরোচিত ওই হামলায় এ পর্যন্ত ৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আহত হয়েছে প্রায় তিন হাজার।

ইরানের বিচার বিভাগের মানবাধিকার বিষয়ক পরিষদ এক বিবৃতিতে বলেছে, "গত সোমবার গাজায় নৃশংস গণহত্যার জন্য প্রথমেই দায়ী হচ্ছে আমেরিকা সরকার।" এতে আরো বলা হয়েছে, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বায়তুল মোকাদ্দাসে দূতাবাস স্থানান্তর করার মাধ্যমে মূলত মজলুম ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালানোর জন্য দখলদার ইসরাইলকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন।"

ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাইয়্যেদ হাসান কাজি যাদেহ হাশেমি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 'হু'র প্রধানের কাছে লেখা চিঠিতে গাজায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টির ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, "সেখানে ইসরাইলি গণহত্যার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমাজের নীরবতা গ্রহণযোগ্য নয় এবং কেবল ইসরাইলকে নিন্দা জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।"

ইসরাইল গাজায় এমন সময় ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে যখন সৌদি আরবের যাহরানে ফিলিস্তিন বিষয়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে যারা কিনা ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রতি সমর্থনের দাবি করে। কিন্তু তারপরও গাজায় ইসরাইলের গণহত্যার ব্যাপারে সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে সৌদি আরব ও কথাকথিত আরব লীগ। এমনকি তারা ইসরাইলের এতোবড় জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে একটি পদক্ষেপও নেয়নি।

আরব বিশ্বের খ্যাতনামা লেখক দৈনিক রাই আল ইয়াওমের সম্পাদক আব্দুল বারি আতাওয়ান বলেছেন, "আরব বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সমাজ যেন ফিলিস্তিনিদেরকে ভুলে গেছে এবং আরবরা ফিলিস্তিনিদের ভাই নয় বরং শত্রুরা আরবদের বন্ধুতে পরিণত হয়েছে।"

দখলদারিত্ব বজায় রাখার জন্য ফিলিস্তিনের নিরস্ত্র নারী, পুরুষ, শিশু, যুবকদের ওপর হত্যাকাণ্ড চালানো ইসরাইলের একটি চিরাচরিত রীতি। ইসরাইলের মানবতা বিরোধী দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাবরা ও শাতিলা শরণার্থী শিবিরে হত্যাকাণ্ড এবং গাজায় গত দশ বছরের বেশি সময় ধরে অবরোধ আরোপের কথা উল্লেখ করা যায়। গত ৭০ বছর ধরে ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বিরতিহীনভাবে হত্যা ও জুলুম নির্যাতন চালিয়ে আসছে। তাদের ধারণা অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ সংগ্রামকে দমিয়ে রাখা যাবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞ অব্যাহত থাকার একটি বড় কারণ হচ্ছে আমেরিকার নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন ও আরব দেশগুলোর নির্লজ্জ নিষ্ক্রিয়তা। ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যে অপরাধ চালাচ্ছে এবং যে রক্তপাত ঘটানো হচ্ছে তার সঙ্গে আমেরিকা ও আরব দেশগুলোও শরীক রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের দেশগুলো ও ন্যায়বিচারকামী জাতিগুলো গত সোমবার গাজায় ইসরাইলের নৃশংস গণহত্যার জন্য আমেরিকাকে দায়ী করছে। #    

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/আশরাফুর রহমান/১৫

 


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018