BdNewsEveryDay.com
Sunday, July 22, 2018

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে অসমে বিপাকে বিজেপি, আদালতে যাবে জমিয়ত

Wednesday, May 16, 2018 - 838 hours ago

‘নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল, ২০১৬’ নিয়ে অসমে বিপাকে পড়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূলে যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল বলতে বাধ্য হয়েছেন, রাজ্যের স্বার্থের পরিপন্থী যদি পদক্ষেপ নেয়া হয় তাহলে তার মুখ্যমন্ত্রী পদে থেকে লাভ কী!

নাগরিকত্ব বিলকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের তুমুল সমালোচনার মুখে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, ‘অসমের মানুষের মতামতকে রাজ্য সরকার সবসময় শ্রদ্ধা করেছে। ভবিষ্যতেও সেই শ্রদ্ধা অটুট থাকবে।’

এ প্রসঙ্গে অসম জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ও দ্বীনি তালিমি বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি আজ (বুধবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল ২০১৬’-এর বিরোধিতা করছে। বিরোধিতার মূল কারণ হল, ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্বের পক্ষপাতি আগেও ছিল না, আজকেও নেই। ভারতের সংবিধানে সকল নাগরিকের সমান অধিকার দেয়া হয়েছে কিন্তু ওই বিল সেই অধিকারের পরিপন্থি। এজন্য আমরা ওই বিলকে সমর্থন করছি না।’

তিনি বলেন, আমাদের আশা, অসমে শুধু জমিয়তে ওলামা নয়, বিভিন্ন দল ও সংগঠন যেভাবে প্রতিবাদ করছে সরকার তাদের বিলকে প্রত্যাহার করবে। যদি সরকার তা না করে ওই বিল পাস করার পক্ষে যায় তাহলে আমরা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হবো। জমিয়তে ওলামা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে।’

মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে বিদেশি শনাক্তকরণ ও নাগরিকত্ব প্রদান কোনটাকেই আমরা সমর্থন করি না। জমিয়তে ওলামা হিন্দ ভারতীয় জাতিকে এক জাতি তত্ত্বে বিশ্বাস করে এবং সেই নীতির উপরে আমরা দাঁড়িয়ে আছি।’

মূলত হিন্দু উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেয়ার লক্ষ্যে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল পাস করানোর জন্য বিজেপি চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু অসমে বিজেপি’র জোট শরিক ‘অগপ’ ওই বিলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে শামিল হয়েছে।

অগপ সভাপতি ও অসমের কৃষিমন্ত্রী অতুল বোরা বলেছেন,  ‘১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পরে অসমে প্রবেশ করা কোনো বাংলাদেশিকে নাগরিকত্ব দেয়া যাবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের সিটিজেনশিপ এমেন্ডমেন্ট বিল ২০১৬’র বিরোধিতা করা হবে। ২৪ মার্চের পরে আসা হিন্দু বাংলাদেশিদের  নাগরিকের স্বীকৃতি দিতে চাইলেও আমরা তা সমর্থন করি না। কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৮৫ সালের ঐতিহাসিক অসম চুক্তিকে সম্মান দেখাক।’

অতুল বোরার দাবি,  ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সব বেআইনি বিদেশি  অনুপ্রবেশকারীকে অসম থেকে বিতাড়িত করতে হবে। ধর্মের ভিত্তিতে অবৈধ বিদেশিদের ভাগাভাগি করতে দেয়া হবে না। অসমের স্বার্থের ক্ষতি হলে প্রয়োজনে রাজ্যে মন্ত্রিপদ ছাড়তেও পিছপা হবেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সারা অসম ছাত্র সংস্থার (আসু) পক্ষ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ, বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে ওই বিলের বিরোধিতা করা হচ্ছে।

কোনোভাবেই ওই বিল মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে নর্থ-ইস্ট স্টুডেন্টস ইউনিয়ন বা ‘নেসো’। যৌথ সংসদীয় কমিটির শুনানিতে নেসোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিলের ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্যের অবস্থান একই। উত্তর-পূর্বকে কোনোনোভাবেই অবৈধ বাংলাদেশিদের বিচরণভূমি হতে দেয়া হবে না বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে যেকোনো আন্দোলন করতে প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

রাজ্যে কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিলের বিরোধিতা করা হয়েছে।

মেঘালয় সরকারও ওই বিলের বিরোধিতা করে প্রস্তাব পাস করেছে। গত ৮ মে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ওই বিলের বিরোধিতা করার জন্য সর্বসম্মত প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চিঠিও দিয়েছেন।

প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব বিলে প্রধানত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সংখ্যালঘুরা ‘ধর্মীয় কারণে’ নির্যাতিত হয়ে যারা এদেশে কমপক্ষে সাত বছর ধরে আশ্রয় নিয়ে আছেন তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

আগে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হলে অন্তত বারো বছর ভারতে সাধারণ বসবাসকারী হিসেবে থাকতে হতো। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সেই সময়কাল কমিয়ে এনে সাত বছর করা হয়েছে।

এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার এক নির্দেশিকায় জানিয়েছিল, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এদেশে ঢোকা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পার্সি, জৈনরা নাগরিকত্ব পাবেন।

প্রস্তাবিত ওই আইন কার্যকর হলে ওই সমস্ত দেশে বসবাসকারী ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠী হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন ও পার্সি যারা এদেশে আশ্রয় নিয়েছে তারা সুবিধা পাবেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৬    

 


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018