BdNewsEveryDay.com
Sunday, November 18, 2018

বড় হয়ে দেশ ও জাতির সেবা করার স্বপ্ন দেখে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা

Friday, November 09, 2018 - 201 hours ago

শুক্রবার সকাল ৮ টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া চত্বরে গিয়ে দেখা গেলো এক ঝাঁক শিশুর সমাবেশ। এই শিশুদের কেউ কেউ ক্যাম্পাসে বাদাম বিক্রি, কেউ চা-সিগারেট, কেউবা কাগজ-পানির বোতল কুড়িয়ে পরিবারে আর্থিক অবদান রাখে।

কিন্তু শুক্রবার সকালে তাদের সকলের সমবেত হওয়ার উদ্দেশ্য জানতে গিয়ে দেখা গেলো কোনো শিশুর হাতে বাহারি রঙের বেলুন, কারো হাতে প্ল্যাকার্ড আর কেউ কেউ ব্যস্ত বাঁশি বাজানোয়।

ছোট্ট এক বন্ধু হেসে বলল, ’আজকে আমাদের স্কুলের ১০ বছর।’ একটু আগেই আসা শীতকে উপেক্ষা করে শিশুরা সবাই একত্রিত হয়ে উদযাপন করতে এসেছে তাদের স্কুলের এক দশক। তাদের আনন্দের মাত্রা আরো বেড়ে যায় ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করলে।

বলা হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সেচ্ছা শ্রমের দ্বারা পরিচালিত সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের পাঠশালা ‘তরী’র কথা।

২০০৮ সালে যাত্রা শুরুর এক যুগ পূর্তী উপলক্ষে শুক্রবার সারাটি দিন সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুরা কাটিয়েছে গান, আড্ডা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর মজা করে। সমাজের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা ও পথশিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার উদ্দেশ্যেকে সামনে রেখে ২০০৮ সাথে তৎকালীন ২৯ তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী গড়ে তোলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তরী’ যার একযুগ পূর্তি হলো শুক্রবার।

তরী’ পথশিশুদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের স্কুলগুলোর দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠদান করে থাকে। বর্তমানে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৭০-৮০ জন শিক্ষার্থী এখানে শিক্ষাগ্রহণ করছে সংগঠনটি থেকে। প্রতি শনি, সোম ও বুধবার বিকেল ৪টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত ক্যাফেটেরিয়া, ছায়ামঞ্চ অথবা সমাজবিজ্ঞান ভবনের সামনে সবুজ মাঠে বসে এ পাঠদানের আসর। শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিকাশ সাধন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শীতের সময় শীতবস্ত্র বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও সামাজিক অভিভাবকের দায়িত্বও পালন করে থাকেন সংগঠনটির সেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীরা।

যুগপূর্তি উপলক্ষে সকাল সাড়ে আটটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশ এর পাদদেশ থেকে একটি র‌্যালি শুরু হয়। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করে ক্যাফেটেরিয়ার সামনে এসে শেষ হয়। দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর বিকেলে আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে ছোট্ট শিশুদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে সংগঠনটির সভাপতি জাবাইদাতুল মদিনা রেখা কালের কণ্ঠকে জানান,‘খুব ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০জন শিক্ষার্থী সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের পাঠদানের কাজ করছে’।

তরীর উপদেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, সুবিধা বঞ্ছিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো বিকাশে তরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। আমরা চাই দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে তরীর মতো সংগঠন গড়ে উঠুক। যারা তরীতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছে তারা একদিকে যেমন নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করছে তেমনি তার সঙ্গে তারা সমাজের প্রতি তাদের যে দায়বন্ধতা সে বিষয়ে সচেতন হচ্ছে।

এত বাধা-বিপত্তির পরও শিশুরা স্বপ্ন দেখছে বড় হয়ে পড়াশুনা শেষে করে দেশ ও জাতির সেবা করবে। আর সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের পথ দেখাচ্ছে ‘তরী’। ‘তরী’র এই দশকপূর্তি ও প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিলো কালের কণ্ঠ।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018