BdNewsEveryDay.com
Monday, November 12, 2018

‘খালি মাঠে গোল দেওয়ার’ সুযোগের তফসিল

Friday, November 09, 2018 - 95 hours ago

দলটির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলছেন, এই তফসিলে ক্ষমতাসীনদের ‘ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার’ সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।

আর আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি বলছে, আবারও একটি একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষমতাসীনদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে এই তফসিলে।

আগামী  ২৩ ডিসেম্বর ভোটের দিন রেখে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংলাপে সমঝোতা না আসার মধ্যেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে এই ঘোষণা দেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবিতে পাঁচ বছর আগে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি এবারও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিল। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাতে কর্ণপাত না করার প্রেক্ষাপটে বিএনপিকে নিয়ে গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়।

ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দফা বৈঠকে বসলেও প্রধান বিরোধী দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। সিপিবিসহ বামপন্থি দলগুলোর নেতাদের সঙ্গেও বসেন শেখ হাসিনা।

বিএনপিসহ সরকারের বাইরে থাকা দলগুলো তফসিল পেছানোর দাবি করে। তাতে সাড়া না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় সিইসি বলেছেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে তফসিল ঘোষণা পেছানোর উপায় ছিল না। যদিও আগে তিনি বলেছিলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হলে সংবিধান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থেকে কমিশন ভোটগ্রহণের সময়সূচি কয়েকদিন পেছানোর কথা ভাবতে পারে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যে আশাহত হয়েছেন জানিয়ে সিপিবি সভাপতি সেলিম বলেন, “আমাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে তিনি তফসিল ঘোষণা করলেন। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের যে সংলাপ হয়েছে, এই সংলাপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সামআপ করার আগেই তিনি তফসিল ঘোষণা করলেন।

“এই তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে এত দিন ধরে যে সংলাপ হয়েছে এই সংলাপকে তিনি বিফল করে দিলেন। এটা আমাদের দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতি সাধিত করল।”

নির্বাচন নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষ থেকে ইসিতে পাঠানো বিভিন্ন প্রস্তাব সম্পর্কে সিইসির ভাষণে কোনো কথা না থাকায়ও অসন্তোষ জানান তিনি।

তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত, তা বাছাই হবে ২২ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ নভেম্বর।

এই সময়কে খুবই কম মনে করছেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

তিনি বলেন, “১৯ তারিখের ভেতরে রাজনৈতিক দলগুলো তার সকল পর্যায়ে কর্মী, নেতা এবং জনগণের মতামত নিয়ে এই অল্প ১০-১১ দিনের ভেতরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ শুধু কঠিনই না, প্রায় অসাধ্য একটি ব্যাপার। এতে উনার (সিইসি) প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে।

“যেসব দল ইতোমধ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রচারণা সম্পন্ন করে ফেলেছেন… সরকারি দল, তাদের জন্য খালি মাঠে গোল দেওয়ার ফাঁদ পেতে দিয়েছেন তিনি। এতে করে সরকারি দলের খালি মাঠে গোল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।”

অন্যদিকে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, “এই তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে সমস্ত রাজনৈতি পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারের যে ছক, সেই ছককে তারা (ইসি) এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।”

শুক্রবার সকালে বাম জোটের নেতাদের সভায় নির্বাচনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সাইফুল হক জানিয়েছেন।

অপরদিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানাচ্ছি।”

এরপর দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের প্রতিক্রিয়া জানান।

তফসিলে সেনা মোতায়েন, ইভিএমের ব্যবহার, অনলাইনে মনোনয়পত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া থাকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই তফসিলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।

“সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের সততা ও আন্তরিকতার অভাব নেই। এখন এটা নির্ভর করছে জনগণের অংশগ্রহণের উপর, আমরা কতটুকু সহযোগিতা করলাম তার উপর।”

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ও পরে  ইসির সঙ্গে আলোচনায় জাতীয় পার্টি ইভিএম ব্যবহার না করতে অনুরোধ জানিয়েছিল।

নির্বাচনী তফসিলে শহর অঞ্চলে দৈব চয়ন ভিত্তিতে কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারেরর কথা বলা হয়েছে।  এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রুহুল আমিন বলেন, “ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি সিম্বলিক। গতকালও (বুধবার) আমরা ইসিতে গিয়ে ইভিএম ব্যবহার কমিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। নির্বাচন কমিশন তা কমিয়ে নিয়ে এসেছে। এটা সন্তোষজনক।”

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রশ্নের জবাবে জাপা মহাসচিব বলেন, “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড একটা প্রশাসনিক ব্যাপার। এটা সময় নিয়ে দেখতে হবে। তফসিল ঘোষণার পর কী হয়, এটা আমরা দেখব।”

আওয়ামী লীগের জোট শরিক জাসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে,“তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ-সংশয়ের অবসান হল এবং দেশ সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রেখে বলিষ্ঠ পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়া অব্যাহত রাখল।”


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018