BdNewsEveryDay.com
Tuesday, March 26, 2019

অপহরণ নয়, স্বেচ্ছায় ভারতে গিয়েছিলেন মনিকা

Thursday, November 08, 2018 - 838 hours ago

প্রায় ৭ মাস আগে নিখোঁজ হওয়া চট্টগ্রামের সঙ্গীত শিক্ষক মনিকা বড়ুয়া রাধার সন্ধান পাওয়া গেছে। তাকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি স্বেচ্ছায় এক ভারতীয় ব্যবসায়ীর সঙ্গে কলকাতায় চলে গিয়েছিলেন। পরে সেখানকার এক মন্দিরে গিয়ে কমলেশ কুমার মল্লিক নামের ওই ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন। নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন অনামিকা মল্লিক। এরপর কলকাতার একটি ফ্ল্যাটে তারা একত্রে বসবাস করতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মনিকা বড়ুয়া রাধা চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোণের সিনিয়র সাংবাদিক দেবাশীষ বড়ুয়া দেবুর স্ত্রী। তিনি লিটল জুয়েলস স্কুলের সঙ্গীত শিক্ষক ছিলেন। তার সাথে ফেসবুকে পরিচয় হয় ভারতের নাগরিক ব্যবসায়ী কমলেশ কুমার মল্লিকের সঙ্গে। সম্পর্ক গভীর হলে এক পর্যায়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১২ এপ্রিল গানের টিউশনিতে যাওয়ার কথা বলে নগরীর লালখান বাজার হাইলেভেল রোডের বাসা থেকে বের হন মনিকা। এরপর তাকে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে করে বেনাপোলে ভারতীয় সীমান্তে যান কমলেশ। 

পাসপোর্ট-ভিসা না থাকায় মনিকা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর কলকাতায়ে একটি মন্দিরে বিয়ে করেন তারা। পরে সিদ্ধেশ্বরী এলাকার একটি ফ্ল্যাটে স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে তারা বসবাস করতে থাকেন। মনিকা নাম বদলে নেন অনামিকা মল্লিক। স্বামীর সূত্রে স্থানীয় আধার কার্ড পান তিনি।

গত ৩ নভেম্বর ব্যবসায়িক কাজে বাংলাদেশে আসেন কমলেশ। চট্টগ্রামের গোয়েন্দা পুলিশ গোপন সূত্রে বিষয়টি জানতে পেরে ৪ নভেম্বর ঢাকার ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে কমলেশকে গ্রেপ্তার করে। গত ৬ নভেম্বর কমলেশের মাধ্যমে মনিকাকে কৌশলে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়। পরে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা আমেনা বেগম আরো জানান, মনিকা পুলিশকে জানিয়েছেন তাকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি স্বেচ্ছায় ভারতে গিয়েছিলেন। মনিকার বোন ও দুই মেয়ে বিষয়টি জানতেন। কিন্তু তারা পুলিশকে এ বিষয়টি জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি। 

উল্লেখ্য, মনিকা বড়ুয়া রাধা নিখোঁজের ঘটনায় তার স্বামী দেবাশীষ বড়ুয়া দেবু গত ১৩ এপ্রিল নগরীর খুলশী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর ২৮ এপ্রিল অপহরণ সন্দেহে মামলা করেন তিনি। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

ইত্তেফাক/বিএএফ


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018