BdNewsEveryDay.com
Wednesday, May 23, 2018

মাদরাসা প্রিন্সিপালের ন্যক্কারজনক অবমাননা

Wednesday, May 16, 2018 - 186 hours ago

বর্তমান সরকারের শাসনকালে দেশে এমন অনেক ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে, যেগুলোকে কেবলই অনাকাক্সিক্ষত বা ন্যক্কারজনক বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এসব ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি উঠেছে প্রতিটি উপলক্ষে। কিন্তু আপত্তি ও দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, হাতে-নাতে ধরা পড়ার এবং সাক্ষী হিসেবে অসংখ্য প্রত্যক্ষদর্শী থাকার পরও প্রায় সব ঘটনার অপরাধীরাই বিনাবিচারে পার পেয়ে যাচ্ছে। কারো কোনো শাস্তি হচ্ছে না, অনেক অপরাধীকে এমনকি গ্রেফতার পর্যন্ত করছে না পুলিশ। আর এর কারণ, অপরাধীরা ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী অথবা কোনো না কোনোভাবে সরকার ও সরকারি দলের সঙ্গে সম্পর্কিত। ওদিকে প্রমাণিত অপরাধ সত্ত্বেও শাস্তি না হওয়ায় অপরাধ কেবল বেড়েই চলছে না, নানা ধরনের ঘৃণ্য ও ভয়ংকর অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে। গত ১১ মে শুক্রবার বরিশাল জেলার একটি গ্রামেও এ ধরনের অতি ন্যক্কারজনক এক ঘটনাই ঘটিয়েছে কয়েকজন দুর্বৃত্ত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ভাইরাল’ হয়ে ওঠা ওই ঘটনায় বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া ইসলামিয়া দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল (সুপার) মোহাম্মদ আবু হানিফার মাথায় মানুষের মল ঢেলে ও মাখিয়ে উল্লাস করেছে দুর্বৃত্তরা। বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনসহ গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, দুর্বৃত্তদের নেতৃত্ব দিয়েছে জাহাঙ্গীর খন্দকার নামের এক ব্যক্তি, যাকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রিন্সিপাল আবু হানিফাসহ এলাকার অধিবাসীরা। মাদক ব্যবসার মতো বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ওই ব্যক্তি আলোচ্য মাদরাসাটির পরিচালনা পরিষদের প্রধান বা চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিল। পরাজয়ের জন্য সে প্রথম থেকেই প্রিন্সিপাল আবু হানিফাকে দায়ী করে এসেছে। বলেছে, প্রিন্সিপাল আবু হানিফা নাকি তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন এবং সে কারণেই তার পক্ষে বিজয়ী হওয়া সম্ভব হয়নি। দুর্বৃত্তদের নেতা জাহাঙ্গীর খন্দকার একই সঙ্গে প্রিন্সিপাল আবু হানিফার বিরুদ্ধে নানামুখী কর্মকান্ডকেও সর্বাত্মক করেছিল। প্রিন্সিপাল ও তার স্ত্রী-সন্তানদের হত্যার এবং পুরো পরিবারকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করার হুমকি দিয়েই সে থেমে পড়েনি, আসা-যাওয়ার পথে অপমান যেমন করেছে তেমনি দাবি জানিয়েছে নগদ অর্থে চাঁদা দেয়ার জন্যও। এসব কাজে জাহাঙ্গীর খন্দকার তার শিষ্যদের ব্যবহার করেছে, এলাকায় যারা গুন্ডা-সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। সর্বশেষ এক উপলক্ষে গুন্ডা-সন্ত্রাসী শিষ্যদের সঙ্গে নিয়ে জাহাঙ্গীর খন্দকার প্রিন্সিপাল আবু হানিফার কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা  দাবি করে বলেছিল, টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে। তার স্ত্রী-সন্তানরাও রেহাই পাবে না। অন্যদিকে বারবার প্রকাশ্যে দেয়া হুমকি সত্ত্বেও প্রিন্সিপাল আবু হানিফা দুর্বৃত্তদের নেতার অন্যায় ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করেননি। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল জাহাঙ্গীর খন্দকার। গত ১১ মে ফজরের নামাজ আদায় করে প্রিন্সিপাল আবু হানিফা যখন বাড়ির দিকে ফিরছিলেন সে সময় জাহাঙ্গীর খন্দকার তার গুন্ডা-সন্ত্রাসী শিষ্যদের সঙ্গে নিয়ে হামলা চালিয়েছে। তারা শুধু শারীরিক আক্রমণেই থেমে পড়েনি, মাটির পাত্রে ঢেকে আনা মানুষের মলও প্রিন্সিপাল আবু হানিফার মাথায় ঢেলে দিয়েছে। এখানেও শেষ নয়। একজন দুর্বৃত্ত আবার ওই মল প্রিন্সিপাল সাহেবের মাথায় কাগজ ও কাপড় দিয়ে মাখিয়ে দিয়েছে। মল মাখানো হয়েছে তার ঘাড়ের ওপরও। এত বীভৎস ঘটনার পরও প্রিন্সিপাল আবু হানিফা মানসম্মানের কারণে নীরবতা অবলম্বন করছিলেন। কিন্তু বিষয়টি প্রকাশ করেছে দুর্বৃত্তরাই। তারা সম্পূর্ণ ঘটনার ভিডিও করেছিল। সে ভিডিও চিত্রই তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল প্রিন্সিপালকে এক হাত নেয়া। অন্যদিকে ভিডিও চিত্রটি ‘ভাইরাল’ হয়ে গেছে। দেশে তো বটেই, বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। একজন আলেমকে এতটা ন্যক্কারজনকভাবে অসম্মানিত করার কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে চারদিকে ধিক্কার উঠেছে। প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ। ঘটনা সম্পর্কে জানার পর বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। প্রিন্সিপাল আবু হানিফা নিজে না চাইলেও প্রধানত গণদাবির মুখে পুলিশ তৎপর হয়েছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে গত সোমবার দু’জন দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করেছে। প্রধান আসামী জাহাঙ্গীর খন্দকারসহ অন্য দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে বলে সর্বশেষ খবরে জানানো হয়েছে। আমরা বাকেরগঞ্জের কাঁঠালিয়া ইসলামিয়া দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ আবু হানিফার ওপর এই বীভৎস ও ন্যক্কারজনক হামলা এবং মানুষের মল মাখিয়ে অসম্মানিত-অপদস্থ করার কর্মকান্ডকে ভয়ংকর ও  অমার্জনীয় অপরাধ বলে মনে করি। আমরা চাই, ক্ষমতাসীন দলের লোক বলেই যেন অপরাধী জাহাঙ্গীর খন্দকার এবং তার গুন্ডা-সন্ত্রাসী শিষ্যরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ না পায়। দুর্বৃত্তদের সকলকেই আইনানুয়ায়ী কঠোর শাস্তি দিতে হবে, যাতে আর কারো পক্ষে এ ধরনের অপরাধ করার কথা চিন্তা করাও সম্ভব না হয়।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018