BdNewsEveryDay.com
Saturday, October 20, 2018

২০১৭-১৮ অর্থবছর : বেনাপোলে ৯৯টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা

Friday, October 12, 2018 - 202 hours ago

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। সরকার প্রতি অর্থবছরে রাজস্ব পেয়ে থাকে দুই হাজার কোটি টাকা। দেশের বেশিরভাগ ব্যবসায়ীরা এই বন্দর ব্যবহার করেন। এই সুযোগে গড়ে উঠেছে শুল্ক ফাঁকি চক্র। বেনাপোল বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। একটি চক্র বেনাপোল কাস্টমস  থেকে প্রতিনিয়ত শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য চালান নিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গেল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দরে ৯৯টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে। যা থেকে সরকার অতিরিক্ত শুল্ক আদায় করেছে ২১ কোটি ৭০ লাখ ৯ হাজার ১২৫ টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটেছিল ১১৪টি, শুল্ক আদায় করা হয় ৩১ কোটি ৯৮ লাখ চার হাজার ৩৯৪ টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটেছিল ১৮১টি, যা থেকে সরকার শুল্ক আদায় করেছিল ১৫ কোটি ৬৩ লাখ ৪১ হাজার ১৯৩ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে বেনাপোল কাস্টমস-বন্দরের কতিপয় কর্মকর্তা, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকদের যোগসাজসে এই মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি বাড়ছে।

বেনাপোল কাস্টমসের শুল্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই মাসে পাঁচটি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ধরা পড়ে। যা থেকে জরিমানা আদায় করা হয় এক কোটি ১৯ লাখ ৯ হাজার ৩৭৯ টাকা, আগস্টে ছয়টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা উদঘাটন করে জরিমানা আদায় করা হয় এক কোটি ৬১ লাখ ২২ হাজার ৫১০ টাকা, সেপ্টেম্বরে পাঁচটি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় হয় ৭২ লাখ ৬৫ হাজার ৯৮৬ টাকা, অক্টোবরে সাতটি ঘটনা থেকে আদায় হয় এক কোটি ৯২ লাখ ৬২ হাজার ৭৫১ টাকা, নভেম্বর মাসে পাঁচটি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় করা হয় এক কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ টাকা, ডিসেম্বর মাসে সাতটি শুল্ক ফাাঁকির ঘটনা থেকে জরিমানা আদায় হয়েছে দুই কোটি ১৫ লাখ সাত হাজার ৯৭৯ টাকা, জানুয়ারি মাসে সাতটি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় করা হয় এক কোটি ৯৮ লাখ ৬৬ হাজার ৭৬৬ টাকা, ফেব্রুয়ারি মাসে পাঁচটি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় করা হয় এক কোটি ১৪ লাখ ২৮ হাজার ১৩০ টাকা, মার্চ মাসে ৯টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে দুই কোটি ৯৬ লাখ পাঁচ  হাজার ৮৯৬ টাকা আদায় করা হয়, এপ্রিল মাসে ৯টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় করা হয় তিন কোটি ৩৮ লাখ ৯১ হাজার ৮৮৩ টাকা, মে মাসে ৯টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় করা হয় দুই কোটি ৪৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮২৭ টাকা এবং জুন মাসে সাতটি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে জরিমানা আদায় করা হয় ৬০ লাখ ৫৪ হাজার ৮২৯ টাকা।

বেনাপোল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের সহকারী পরিচালক নিপূণ চাকমা বলেন, বেনাপোল দিয়ে কেউ যাতে শুল্ক ফাঁকির ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমরা তৎপর। তবে কিছুটা লোকবল ঘাটতি রয়েছে। তারপরও আগামীতে কেউ যাতে বড় ধরণের শুল্ক ফাঁকি দিতে না পারে সেজন্য সব ধরনের চেষ্টা আমাদের রয়েছে। শুল্ক ফাঁকি রোধে আরো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের এক নেতা বলেন, শুল্ক ফাঁকি বা মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানির সঙ্গে সরাসরি কতিপয় কাস্টমস কর্মকর্তা জড়িত। তাদের সম্মতি ছাড়া শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটতে পারে না। তিনি বলেন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শুধুমাত্র মাল ছাড় করানোর দায়িত্ব পালন করে। শুল্ক ফাঁকি মূলত আমদানিকারক ও কাস্টমস-বন্দরের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে হয়ে থাকে।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির পক্ষে আমরা নয়। তবে এসব ঘটনায় অবশ্যই কাস্টমসের সম্পৃক্ততা রয়েছে। কেননা কাস্টমের চোখ ফাঁকি দিয়ে শুল্ক ফাঁকি হতে পারে না। শুল্ক ফাঁকি রোধে কাস্টমসকে আরো বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।

বেনাপোল কাস্টম কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসেন চৌধুরী বলেন, শুল্ক ফাঁকির কয়েকটি পণ্য আমরা আটক করে মামলা দিয়েছি। যারা এসবের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে লাইসেন্স বাতিল, মামলা, অর্থদণ্ডসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়লে আমদানিকারকের লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। 


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018