BdNewsEveryDay.com
Thursday, September 20, 2018

গ্রিনিজকে দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের পাসপোর্ট

Sunday, May 13, 2018 - 838 hours ago



গর্ডন গ্রিনিজ একটা সবুজ পাসপোর্ট পেয়েছিলেন। সেই পাসপোর্ট ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ তুলে দিয়েছিল তাঁর হাতে—আইসিসি ট্রফি জিতে বিশ্বকাপে খেলার ছাড়পত্র পাওয়ার আনন্দে। টেস্ট মর্যাদার সুযোগ তৈরি হওয়ার আনন্দে। কিন্তু সেই গ্রিনিজকেই কিনা অপদস্থ করা হয়েছিল!

১৯৯৬ সালে গর্ডন গ্রিনিজ যখন বাংলাদেশের কোচ হয়ে এসেছিলেন, তখন পুরো জাতি বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নে বিভোর। ওই সময়টা ছিল পুরোপুরিই অন্য রকম। এসিসি ট্রফিতে আমিরাত, ফিজি পাপুয়া নিউগিনির মতো খুদে ক্রিকেট শক্তির বিপক্ষে জয়ও আমাদের তখন আনন্দে উদ্বেলিত করত। এ দেশে শীতকালে সফরে আসত, বুড়োটে খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া এমসিসি, ডেকান ব্লুজের মতো দলগুলো। কেনিয়াতে অনুষ্ঠিত আগের (১৯৯৪) আইসিসি ট্রফির ব্যর্থতা আমাদের ৯৬–র বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নকে ভূলুণ্ঠিত করেছিল । তাই এ দেশের ক্রিকেটে সাফল্য স্বপ্নে জাগাতে এসেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের স্বর্ণযুগের অন্যতম কান্ডারি গর্ডন গ্রিনিজ। গ্রিনিজ এ দেশে থাকলেন তিন বছর। ১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়াতে অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফিতে আকরাম-আতহার-মিনহাজুল-আমিনুল-রফিক-হাসিবুল-খালেদ মাসুদ-খালেদ মাহমুদদের নিয়ে এনে দিলেন অবিস্মরণীয় এক সাফল্যে। এ দেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল। বিশ্বকাপের জন্য গ্রিনিজ তাঁর দলকে তৈরি করলেন অনুপম মমতায়। এত বড় মাপের একজন তারকা হয়েও মিশে গেলেন আমাদের সমাজব্যবস্থায়। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলল, ভালো করল, অথচ গ্রিনিজ বিদায় নিলেন নীরবে, মাথা হেঁট করে। যে মানুষটিকে দেশের নাগরিকত্ব আর সবুজ পাসপোর্ট দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছিল, তাঁকে নিরানব্বইয়ের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচের দিন সকালে বরখাস্ত করা হয়েছিল। কথিত আছে, নিরানব্বই সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে টেস্ট মর্যাদার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন গ্রিনিজ। আর তাতেই ক্রিকেট বোর্ডের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরাগভাজন হন। অনেকেই বলেন, বিশ্বকাপের সময় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গর্ডন গ্রিনিজকে বরখাস্ত করে অপদস্থ করার পরিকল্পনা হয়েছিল পর্দার অন্তরালে। টেস্ট মর্যাদা নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত মত দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ। তবে আসলেই কী হয়েছিল, তা আজও অজানা। গ্রিনিজ অবশ্য সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পরও বাংলাদেশে এসেছিলেন দুবার। প্রথমবার সেই সবুজ বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়েই। বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে তিনি বিসিবির অতিথি হিসেবে এসেছিলেন। ২০০৪ সালের দিকে আবারও এসে গ্রিনিজ নবায়নও করেছিলেন সেই সবুজ পাসপোর্ট। আজ অনেক দিন পর বাংলাদেশে পা রাখছেন গ্রিনিজ। এ দেশে পা রেখে কি তাঁর একবারও মনে পড়ে যাবে না পুরোনো সেই তিক্ত স্মৃতি! একটু হলেও তো পড়বে। গ্রিনিজের এবারের সফরটা যে একধরনের পুনর্মিলনীই! পেছন ফিরে তাকানোর উদ্‌যাপনে অনেক সুখস্মৃতির সঙ্গে যে সামনে চলে আসে বাজে স্মৃতিগুলোও। তবে পুনর্মিলনীর ধর্মটাই হচ্ছে পুরোনো বাজে স্মৃতিগুলোকে আড়ালে রেখে আনন্দের ঝাঁপি নিয়ে বসা। গ্রিনিজ কি তাঁর সেই সবুজ পাসপোর্ট এখনো যত্ন করে রেখে দিয়েছেন? সেটা জানা যায়নি। এবার এলে নিশ্চয়ই সংবাদকর্মীরা সে খবর নেবেন। নিতে তো হবেই! সবুজ মলাটের সেই পাসপোর্টই যে গ্রিনিজের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের যোগসূত্র! সেই সবুজ পাসপোর্টই যে গ্রিনিজের কাছে বাংলাদেশের আসল পরিচয়। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের সেই ঘটনা যে নিতান্তই এক দুঃস্বপ্ন।

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018