BdNewsEveryDay.com
Monday, December 10, 2018

এখন কোটা নিয়ে আন্দোলন সমীচীন নয়: ওবায়দুল কাদের

Sunday, May 13, 2018 - 838 hours ago

কোটা নিয়ে শিগগিরই সমাধান মিলবে জানিয়ে আন্দোলনকারীদের ক্যাম্পাসে ফিরে পড়াশোনায় মন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তিনি পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে কোটার বিষয়টি ফয়সালা করে দিয়েছেন- কোটা থাকবে না। এরপর এখানে কখন গেজেট হল কি হল না, এখানে একটু চিন্তাভাবনাও আছে?

“ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, অনুন্নত জেলা, মুক্তিযোদ্ধা, নারী আছে, এখানে একটা সুসমন্বিত কিছু করার চিন্তাভাবনা হচ্ছে এবং এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী অনেক দিন বিদেশে ছিলেন, এ প্রক্রিয়াটা থেমে নেই। যার জন্য আন্দোলন, কোটাটাই বাতিল করা হয়েছে।”

কোটা বাতিল করে দেওয়ার বিষয়ে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধামন্ত্রী যে বক্তব্য রেখেছেন আন্দোলনকারীদের তাতে আস্থা রাখার পরামর্শ দেন কাদের।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী অন দ্য ফ্লোর অব দ্য হাউজ পার্লামেন্টে বসে যা বলেছেন তাকে বিশ্বাস করা উচিত। কারণ তিনি কথা দিয়ে কখনও কথা ব্রেক করেন না। প্রাইম মিনিস্টার পার্লামেন্টে যা বললেন সেটা আবার গেজেট প্রকাশের জন্য আন্দোলনের হুমকি সেটা বোধহয় সমীচীন হচ্ছে না।

“আমি ছাত্র সমাজকে বলব তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবির ব্যাপারে সরকার খুবই সহানুভুতিশীল এবং সরকার সক্রিয়। যৌক্তিক সমাধানের সব রকমের প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে। আমি তাদেরকে বলব একটু ধৈর্য্য ধরতে, অনতিবিলম্বেই তারা সমাধান পেয়ে যাবে।

“এনিয়ে আন্দোলন পরীক্ষা-ক্লাস বর্জন করা এমনিতে অনেক ক্ষতি আমাদের হচ্ছে, আমি আশা করি তারা ক্যাম্পাসে ফিরে যাবেন, পড়াশোনায় ফিরে যাবেন।”

কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দৃশ্যত ক্ষুব্ধ শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বলেন, “বারবার এই আন্দোলন ঝামেলা মিটাবার জন্য কোটা পদ্ধতি বাতিল; পরিষ্কার কথা; আমি এটাই মনে করি, সেটা হল বাতিল।”

কোটা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করার কথাও ওই দিন বলেন সরকারপ্রধান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতেৃত্বে একটি কমিটি করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছেছে। তবে রোববার দুপুর ১টা পর্যন্ত সেই কমিটি হয়নি।

কাদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কথা এদিক-সেদিক হওয়া, প্রধানমন্ত্রী এমন মানুষ উনি একটা বলে সেখান থেকে তার নড়নচড়ন হবে এটা মনে করার কোনো কারণ নাই।

“এখন এখানে যদি কেউ রাজনীতি করতে চান তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু যৌক্তিক সমাধান যারা চায়, গেজেট কখন হল না হল, প্রাইম মিনিস্টারের মুখের কথা এটাতে তো আস্থা স্থাপন করা উচিত, বিশ্বাস করা উচিত।”

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত; এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ‘ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে কমিয়ে আনার দাবি তুলেছিল। কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে তা পূরণের দাবিও জানিয়েছিল তারা।

প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের কথা বলার পর তারা এখন সেই প্রজ্ঞাপন প্রকাশের দাবিতে রোববার দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। দ্রুত কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন না হলে ফের রাজপথে নামার হুমকি দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018