BdNewsEveryDay.com
Thursday, September 20, 2018

‘মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোয় বাংলাদেশ বিশ্বে উচ্চ মর্যাদায়’

Saturday, May 12, 2018 - 838 hours ago

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বে উচ্চ মর্যাদা অর্জন করেছে। দেশের অব্যাহত অগ্রগতির পথে এটি একটি নতুন মাইলফলক। এই স্যাটেলাইট দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

শনিবার সকালে রাজধানীর মুগদায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড নার্সিং এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (এনআইএএনইআর)’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘উৎক্ষেপণ করা হয়েছে অত্যন্ত সফলভাবে। বাংলাদেশ এখন মহাকাশে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে এদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছে। আবার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিল বলেই আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে পেরেছে। আর সরকার গঠন করেই বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপকভাবে কাজ করেছে। আর সেই কাজের ফলেই এখন বাংলাদেশকে মহাকাশ পর্যন্ত নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। ক্ষমতার ধারাবাহিকতা ছিল বলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শুধুমাত্র বিনোদন হবে তা কিন্তু না, এটা আমাদের সার্বিকভাবে কাজে লাগবে। এটা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা ব্যবহার করতে পারবো। আমাদের শিক্ষা, বিনোদন চিকিত্সা সেবাসহ এমনকি আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই কিন্তু আমরা এখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবো। স্যাটেলাইট ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে আমরা একটা উচ্চ মর্যাদা পেয়েছি। মহাকাশে উগগ্রহ পাঠানোর তালিকায় ৫৭তম রাষ্ট্র বাংলাদেশ।’ 

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গায়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার রঙের নকশার ওপর ইংরেজিতে লেখা রয়েছে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ সরকারের একটি মনোগ্রামও সেখানে রয়েছে। বাংলাদেশ এতদিন বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া করে সম্প্রচার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ে গবেষণার কাজ চালিয়ে আসছিল; বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভায়া বাবদ বাংলাদেশকে গুণতে হয় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের উপকারিতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শুধু যে বিনোদন হবে; তা নয়। এটা আমাদের সার্বিকভাবে কাজে লাগবে।’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা ব্যবহার করতে পারব। আমাদের শিক্ষা, বিনোদন, চিকিত্সা সেবাসহ এমনকি প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা এখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারব।’ তিনি বলেন, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এখন সারা বাংলাদেশে এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলে, পাহাড়ি অঞ্চল, চরাঞ্চল ও দ্বীপাঞ্চল থেকে শুরু করে সমগ্র অঞ্চলেই এই সেবাটা পৌছে দিতে পারব।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে এবং বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে নেপাল, মিয়ানমার ও ভুটানের কাছে স্যাটেলাইট সেবা দিয়ে প্রাচ পাঁচ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই সাথে সাথে শুধু আমাদের দেশের না, বেশ আরো কয়েকটি দেশ-তাদেরকে আমরা এখান থেকে কিছুটা স্পেস ভাড়া দিয়ে আমরা কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করতে পারবো। সেই সুযোগটাও আমাদের আছে।’

সফলভাবে মহাকাশে পাঠানোর জন্য দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ সফলভাবে মহাকাশে পাঠানোর জন্য দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অব্যাহত অগ্রগতির পথে এটি একটি নতুন মাইলফলক যোগ করবে। সফলভাবে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর এক টেলিভিশন বার্তায় তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উেক্ষপণের মাধ্যমে বাংলাদেশের পতাকা মহাকাশে উড্ডয়ন করায় বাংলাদেশ স্যাটেলাইন ক্লাবের গর্বিত সদস্য হিসেবে নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।’

ফ্রান্সের থালেস এলেনিয়া স্পেস কোম্পানির তৈরি ৩ দশমিক ৭ মেট্রিক টন ভরের বঙ্গবন্ধু-১ যোগাযোগ স্যাটেলাইন স্পেসএক্স-এর ফ্যালকন-৯ রকেটের মাধ্যমে ফ্লোরিডার কেনাভেরাল উেক্ষপণ মঞ্চ থেকে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ২টা ১৪ মিনিটে কক্ষপথের দিকে যাত্রা শুরু করে। শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে, এই নতুন স্যাটেলাইট বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তাজাকিস্তান ও কাজাকিস্তানসহ গোটা অঞ্চলের যোগাযোগ সুবিধা দিতে সক্ষম হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে একটি মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু অনুধাবন করেছিলেন যে, বহিঃবিশ্বের সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ বজায় রাখা ছাড়া দেশকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ জন্যই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মধ্যে ১৯৭৪ সালে রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম ভূউপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন।’ তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ তথ্য ও ডাটা বিনিময়ের মাধ্যমে বহিঃবিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে বাংলাদেশের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে। প্রধানমন্ত্রী ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইন-১ নির্মাণ ও উৎক্ষেপণে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করায় সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

ইত্তেফাক/এমআই


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018