BdNewsEveryDay.com
Monday, December 10, 2018

রেকর্ড পরিমান যানজটে ৩ দিন ধরে অচল ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়ক

Saturday, May 12, 2018 - 838 hours ago

রেকর্ড পরিমান যানজটে ৩ দিন ধরে অচল ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফোরলেন উদ্বোধন হবার পর বিগত কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙ্গেছে এবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট। ফেনীর ফতেপুর রেলগেইট থেকে সৃষ্ট যানজটে একদিকে মীরসরাই উপজেলা পেরিয়ে  সীতাকুন্ড পর্যন্ত পৌছেঁছে। অপর দিকে কুমিল্লা পর্যন্ত গত বুধবার রাত ১২টা থেকে শনিবার বিকেলে এই রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত ৫৬ ঘন্টা লাগাতার যানজট চলমান। দুই দিকে ১২০ কিলোমিটার জুড়ে এই যানজট নিরসন আজ রাতের মধ্যে নিরসন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যানজটের সূত্রস্থলের নির্মানাধিন ফ্লাইওভারের দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার রেজাউল মজিদ। রেকর্ড পরিমান যানজটে ৩ দিন ধরে অচল ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়ক সরেজমিনে ও প্রত্যক্ষদর্শিদের থেকে জানা যায়, এসময় দূর দূরান্তের সাধারন যাত্রীদের অবর্ননীয় দূর্ভোগের আর সীমা নেই। অনেক মহিলা ও শিশু পথিমধ্যে খাবার ও স্যানিটেশান সংকটে অসুস্থ হয়ে যাবার খবর ও পাওয়া গেছে। পশুবহনকারীরা  পশু নামিয়ে পায়ে হেটে যাত্রা শুরু করেছে। অনেকে বিকল্প উপায়ে রেলষ্টেশান খুঁজে ট্রেনে চড়ে এই দূর্ভোগের অবসান করেছেন। কেউ কেউ উল্টো পথে কেউ কেউ পায়ে হেঁটে গন্থব্যে পৌছার রেকর্ড করেছে এমন অনেক ভুক্তভোগির ও দেখা পাওয়া যায়। একদল গরু নিয়ে মীরসরাই সদর এলাকা পার হওয়া জনৈক এবাদুল হক ( ৪৮) বলেন নোয়াখালী থেকে গরু নিয়ে দুইদিন আগে রওনা হয়ে অবশেষে সেই গরু ট্রাক থেকে নামিয়ে ফেনী থেকে পায়ে যাত্রা করে ২০ ঘন্টা পর আজ মীরসরাই পার হচ্ছেন। চট্টগ্রাম পৌছাঁতে রাত হোক বা আরো ১ দিন লাগুক কি আর করা বলেন তিনি। নিজে পথে চা নাস্তা খাচ্ছেন কখনো গরুগুলোকে ও রাস্তার পাশে খাওয়াচ্ছেন এমনটাই জানালেন উক্ত ব্যক্তি। কুমিল্লা রওনা হওয়া মীরসরাইয়ের সায়েফ উল্লাহ ১৫ মিনিটের পথ ৮ ঘন্টা নাগাদ পার হয়ে অবশেষে উল্টো পথে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।  হাইওয়ে পুলিশ এর জোরারগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ  সোহেল সরকার জানায় ফেনীর ফতেহপুর রেল ওভারপাস নির্মাণের স্থলে বিকল হয়ে যাওয়া ট্রাক অপসারনে বিলম্ব হওয়ায় এই যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যা এই পর্যন্ত লেগেই আছে তবে হাইওয়ে ও থানা পুলিশ সকলে আপ্রাণ চেষ্টা করে মহাসড়ক সচল রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এতো বেশী যানবাহন ও মালবাহি গাড়ী যে যানজট আর ছোট করা সম্ভব হয়নি। মহাসড়কে দুর্ভোগে নাকাল হয়ে পড়েছে দুরপাল্লার ট্রাক, লরি সহ বাসের যাত্রীরা। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মাঝে মাঝে থেমে বৃষ্টি ও ফেনীর ফতেহপুর রেল ওভারপাস নির্মান কাজের স্থলে বিকল্প সংকীর্ণ সড়কের  কারণে এ যানজট লাগে মূলত। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা উদ্দেশ্য রওনা যাত্রী সাহাব উদ্দিরন জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টা চট্টগ্রাম শহর থেকে বাসে উঠে সকাল সাড়ে ৭টায় নিজামপুর এলাকায় আসার পর যানজটে পড়ি এবং মীরসরাইয়ে আসার পর যানজট আরো তীব্র আকার ধারণ করে। দিনভর এই যানজটেই পড়ে আছেন এমন অসংখ্য যাত্রী। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম মুখী যাত্রীরা তো ফেনী পারও হতে পারেনি আর এগুতে ও পারেনি। দিনভর রোদ বৃষ্টির ভ্যাপসা গরমে সকলের জীবন যেন ওষ্ঠাগত। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী ট্রাক চট্টমেট্রো ট- ০৪-০৪৯৭ এর চালক বাবুল হোসেন জানান, বৃহস্প্রতিবার রাত ১১ টায় নোয়াখালীর উদ্দেশ্য চট্টগ্রাম থেকে বের হয়ে বড়দারোগারহাট আসলে রাত ১২টায় যানজটে পড়ি। শুক্রবার বিকেল নাগাদ বড়তাকিয়া এলাকায় পৌঁছি। এসময় এমন আরো অনেক চালক সহ রাস্তার মাঝখানে বসে গল্প করছিল কয়েকজন চালক মিলে। চালক বাবুল বলে শুধুমাত্র ফেনী রেলগেইটই এখন এই রুটে যানহজটের একমাত্র কারন। এখানে প্রায়ই যানজট হচ্ছে। অথচ বড় করে অস্থায়ী রাস্তা করে দিলেই এমনটা হতো না। এ বিষয়ে মীরসরাই থানার ওসি সাইরুল বলেন অপ্রত্যাশিত এই যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের সাথে জোরারগঞ্জ ও মীরসরাই থানার সকল পুলিশ সদস্য দিনভর এবং অদ্যাবধি প্রতিটি ইউটার্ণে অবস্থান নিয়ে যানজট নিরসনে কাজ করছে। বিক্ষিপ্ত সকল গাড়িকে শৃংখলায় রেখে আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে মহাসড়ক সচল করতে। তিনি বলেন ইতিমধ্যে অনেকটা নিয়ন্ত্রনে এসেছে, আশা করছি আজ রাতের মধ্যেই পুরো মহাসড়ক সচল চয়ে যাবে। তিনি বলেন বৃষ্টির কারণে ও কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। এদিকে সৃষ্ট এই যানজটে ঢাকামুখি দুর পাল্লার অনেক বাসই দিনের বেলা যাত্রা বাতিল করায় অধিকাংশ মানুষ রেলে ঢাকা যাত্রা করেছে। আবার অনেকে বিমানে গন্থব্যে পৌছেছে। কিন্তু যারা সাধারন মানুষ ও যাঁরা যাত্রা পথে বেরিয়ে গেছেন তাদের পতিত হতে হয় বেগতিক দূরবস্থায়। এই বিষয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোরলেন এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবং সওজ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন আমি খোঁজ নিয়েছি কয়েকটি ট্রাক ঘটনাস্থলে বিকল হওয়ায় এবং বুধ ও বৃহস্প্রতিবার চট্টগ্রাম থেকে অতিরিক্ত ট্রাক ঢাকা মুখী থাকায় এমন যানজটের সৃষ্টি বলে তিনি মন্থব্য করেন। তবে শীঘ্রই তা সচল হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এই বিষয়ে উক্ত যানজটের কেন্দ্রবিন্দু স্থল ফেনী ফতেপুর রেল ক্রসিং এ নির্মানাধিন ফ্লাইওভার এর দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর এর বিগ্রেডিয়ার রেজাউল মজিদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান এখানে নির্মানাধিন ফ্লাইওভারটির কাজ দ্রুত চলছে, বিকল্প সড়কটি টুলেন এর বলে অনেক গাড়ি ইতিমধ্যে ফেনী শহরের বিকল্প সড়ক হয়ে পারাপার হতো। কিন্তু সেদিক দিয়ে ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা দূর্বল বলে গাড়িগুলো এখান দিয়েই পারাপার হতে হয়। আবার আসন্ন রমজানের কারনে মালবাহি গাড়ী সড়কে বেড়ে যাওয়ায় এমনটি হয়েছে। তবু ও নির্মানাধিন এলাকায় থাকা সেনাসদস্যগন এবং অন্যান্য বিভাগ দিন রাত বসে নেই। আশা করছি যথাশীঘ্রই এই সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, নির্মানাধিন ফ্লাইওভারের কাজ ও এতো দ্রুত গতিতে চলছে যে আগামী দু মাসের মধ্যেই আমরা উদ্বোধন করার আশা করছি। এদিকে পর্যবেক্ষক মহলের প্রস্তাব উক্ত স্থানে সড়ককে অস্থায়ীভাবে আরো প্রসস্থ করে দেয়া হলেই এই সংকটের উত্তরণ সম্ভব , নচেৎ এমন দূর্যোগের পূনরাবৃত্তি অমূলক নয়।


bdnewseveryday.com © 2017 - 2018